সিলেট জেলা ও মহানগর আওয়ামী লীগের পূর্ণাঙ্গ কমিটি কেমন হবে

এনাম রহমান, সিলেট প্রতিনিধি: সাড়া বিশ্ব করোনার পরিস্থিতি ন্যায় বাংলাদেশের মানুষও এখন সামাজিক ও অর্থনৈতিকভাবে অনেকটা বিপর্যস্ত। করোনাকে পরাস্থ করতে দিন রাত সম্মুখ যুদ্ধে লড়াই চালিয়ে যাচ্ছেন দেশের চিকিৎসক,স্বাস্থ্যকর্মী,পুলিশসহ প্রশাসনের বিভিন্ন বিভাগের কর্মকর্তা কর্মচারীগন। পাশাপাশি সংস্কৃতিকর্মী ও বিভিন্ন স্বেচ্ছাসেবী সংগঠনও এই যুদ্ধের অগ্রভাবে রয়েছেন। সকল সংকটে সংশয়ে সাধারন নাগরিকেরা সবার আগে ত্রাতা হিসেবে যাদেরকে কাছে পান তারা হচ্ছেন- জনপ্রতিনিধি এবং রাজনীতিবিদ। করোনা যুদ্ধের বীর সেনানী হিসেবে জাতি তাদেরকেও অনেক দিন মনে রাখবে এটা নিশ্চিত।

দেশের বিভিন্ন প্রান্তে প্রায় প্রতিদিনই কোনো না কোনোও রাজনীতিবিদ ও জনপ্রতিনিধি করোনা আক্রান্ত হওয়ার খবর পাওয়া যাচ্ছে। এটা আমাদের জন্য দুঃখজনক সাবেক স্বাস্থ্যমন্ত্রী মোহাম্মদ নাসিম এবং সিলেটের সাবেক জননন্দিত মেয়র বদর উদ্দিন কামরান,সিলেট বিএনপি নেতা এমএ হক সহ বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের অনেক নেতাকর্মী ও জনপ্রতিনিধি ইতিমধ্যে করোনায় আক্রান্ত হয়ে মৃত্যুবরণ করেছেন। এর কারণ হচ্ছে করোনা সংকট শুরু হওয়ার পর থেকেই রাজনীতিবিদরা তাদের নিজেদের সর্বোচ্চটা দিয়ে সাধারন শ্রমজীবী মানুষদেরকে খাদ্য ও অর্থ সহায়তাসহ বিভিন্ন ধরনের মানবিক সহায়তা প্রদান করে আসছেন এবং সাধারন মানুষকে ভালো রাখার প্রাণপন প্রচেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছেন তারা রাজনীতিবিদরা জনগনের কল্যাণের স্বার্থে মৃত্যুভয়কে উপেক্ষা করেও কীভাবে কাজ করছেন বা করতে পারেন,সেটা করোনাকালীন সময়ে সাধারন মানুষজন গভীরভাবে উপলব্ধি করতে পারছেন।

আর এই উপলব্ধি থেকে রাজনীতিবিদ এবং জনপ্রতিনিধিদের প্রতি গনমানুষের শ্রদ্ধা ভালোবাসা বেড়েছে অনেক গুন। যার কারণে এই করোনার মধ্যেও অনেকেই স্থানীয় রাজনীতির খোঁজখবর রাখছেন। বিশেষ করে গুনগত মানসম্পন্ন ফেসবুক ভিত্তিক পলিটিক্যাল টকশো গুলো দর্শকদের সরবতায় বেশ জমে উঠেছে। করোনা সংকট কালীন সময়ে রাজনীতির চেয়ে সংকট মোকাবেলা করাটাই মুখ্য। তবু যারা রাজনীতি নিয়ে ভাবেন এবং রাজনীতির খোঁজ খবর রাখেন। তাদের মনে প্রশ্ন কেমন হবে সিলেট জেলা ও মহানগর আওয়ামীলীগের পুর্নাঙ্গ কমিটি? করোনার পরে নাকি অতি সম্প্রতি? ইত্যাদি, ইত্যাদি। এ বিষয়ে জানতে সিলেট জেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক এড. নাসির উদ্দীন খাঁন ফোনে বলেন এখন করোনা সংকট মোকাবেলার দিকেই আমরা বেশী জোর দিচ্ছি, তবে পুর্নাঙ্গ কমিটি যখনই ঘোষণা করা হোক না কেন যারা সংকটকালীন সময়ে জনগণের পাশে থেকে কাজ করছেন এবং দলের দু:সময়ে মাঠে ছিলেন,আওয়ামী লীগের রাজনীতিতে অনেকদিন ধরে সক্রিয় আছেন এবং যারা যোগ্য তাদেরকে মুল্যায়ন করা হবে এটা নিশ্চিত।

তবে অতীতে বিতর্কিত কর্মকাণ্ডের সাথে যুক্তরা কমিটিতে ঠাঁই পাবেন না বলেও ইঙ্গিত দেন তিনি। কারা আসতে পারেন মহানগর আওয়ামীলীগের পুর্নাঙ্গ কমিটিতে? কিছুদিন আগে “শ্রীহট্ট টকস” এর একটি টকশো অনুষ্ঠানে সঞ্চালকের এমন প্রশ্নের উত্তরে সিলেট মহানগর আওয়ামীলীগের সভাপতি বীর মুক্তিযোদ্ধা মাসুক উদ্দিন আহমেদ বলেন বাংলাদেশ আওয়ামীলীগ সবসময় যোগ্য এবং ত্যাগী নেতাকর্মীদের মুল্যায়ন করে। আমরা সিলেট মহানগর আওয়ামীলীগের পুর্নাঙ্গ কমিটিতে ত্যাগী এবং যোগ্যতম নেতাদেকে মুল্যায়ন করবো। এই করোনাকালে যারা নিজেদের জীবন বাজি রেখে জনগণের পাশে থেকে কাজ করছেন আমরা তাদেরকে সুনজরে রাখছি। নবীন ও প্রবীণদের সমন্বয়ে সুন্দর একটু কমিটি গঠন করার হবে বলেও জানান তিনি। জেলা ও মহানগর কমিটিতে কারা আসবেন তা এখনও নিশ্চিত নয় তবে জেলা আওয়ামী লীগের গুরুত্বপূর্ণ পদের জন্যে আলোচনায় আছেন যারা।

সাবেক সংসদ সদস্য শফিকুর রহমান চৌধুরী,সংসদ সদস্য মাহমুদ উস সামাদ চৌধুরী কয়েস, সিলেট সদর উপজেলার চেয়ারম্যান আশফাক আহমদ,শাহ ফরিদ আহমদ, আমীর উদ্দিন চৌধুরী সাদেক,নিজাম উদ্দিন, সুজাত আলী রফিক,রনজিত সরকার, সাইফুল আলম রুহেল, মোহাম্মদ আলী দুলাল,শেখ মকলু মিয়া, ডাঃ আরমান আহমেদ শিপলু, হাজী রইছ আলী, জগলু চৌধুরী প্রমুখ। মহানগর আওয়ামী লীগের অবশিষ্ট গুরুত্বপূর্ণ পদে আলোচনায় আছেন আসাদ উদ্দিন আহমেদ,মফুর আলী, রাজ উদ্দিন,আবদুল খালিক, আজাদুর রহমান আজাদ, প্রদীপ ভট্টাচার্য, ফয়জুর আনোয়ার আলাওর,বিজিত চৌধুরী, জগদীশ চন্দ্র দাস, বিধান কুমার সাহা, এটিএম হাসান জেবুল, আমজাদ হোসাইন,

প্রিন্স সদরুজ্জামান চৌধুরী, আব্দুর রহমান জামিল,তপন মিত্র, সালেহ আহমদ সেলিম,সুদীপ দেব প্রমুখ। তবে আগামী কমিটিতে যারাই স্থান পান না কেনো-করোনা পরবর্তী পৃথিবীর সুবাতাসে যখন বিশুদ্ধতার সুর ভেসে বেড়াবে তখন প্রিয় রাজনীতিবিদ এবং প্রিয় জন প্রতিনিধিদের মুখে নির্মল বিজয় হাসি দেখতে চান সাধারণ জনগন, এবং তাদের শুভাকাঙ্ক্ষীরা এই প্রত্যাশা সকলের মনে।