সিলেট কেন্দ্রীয় বাস টার্মিনালে দফায় দফায় সংঘর্ষ আহত ৬০; টিয়ার সেল রাবার বুলেট নিক্ষেপ

এনাম রহমান, সিলেট প্রতিনিধি: সিলেটে দক্ষিণ সুরমায় কেন্দ্রীয় বাস টার্মিনালে শ্রমিকদের দুই পক্ষের মধ্য ব্যাপক সংঘর্ষ ও ধাওয়া পাল্টা ধাওয়ার ঘটনা ঘটেছে।

আজ বেলা ২ টায় সিলেট জেলা সড়ক পরিবহন শ্রমিক ইউনিয়নের সভাপতি সেলিম আহমদ ফলিকের অনুসারী ও সাধারণ শ্রমিকদের মধ্যে এ ঘটনা ঘটে। সংঘর্ষে আহত হন অন্তত ৫০ জন শ্রমিক। ভাঙচুর করা হয় গাড়ি।

জানা গেছে, গত ঈদের আগে থেকে কল্যাণ তহবিলের অর্থ নিয়ে ফলিকের সঙ্গে সাধারণ শ্রমিকদের দ্বন্দ্ব ছিলাে। শ্রমিকেরা কল্যাণ তহবিলের অর্থ করােনায় কর্মহীনদের মধ্যে বিতরণের অনুরােধ করলে ফলিক তাদের সঙ্গে দূর্ব্যবহার করেন বলে অভিযােগ শ্রমিকদের।

আজ মঙ্গলবার বেলা ১টার দিকে সাধারণ শ্রমিকেরা পুরাতন রেল স্টেশন সংলগ্ন বাবনা পয়েন্টে বাংলাদেশ সড়ক পরিবহণ শ্রমিক ফেডারেশনের অস্থায়ী কার্যালয়ের সামনে ফলিকের বিরােদ্ধে বিক্ষোভ করেন। এসময় তারা ফলিককে প্রতিহত করার ঘােষণা দেন। পরে তারা মিছিল নিয়ে কদমতলীর এনা কাউন্টারের সামনে আসলে ফলিকের অনুসারীদের সঙ্গে সংঘর্ষে জড়ান।

এসময় এনা পরিবহনের কাউন্টার ও কয়েকটি গাড়ি ও ভাঙচুর করা হয়। এ প্রসঙ্গে পরিবহন শ্রমিকদের সংগঠন ‘মিতালী শ্রমিক ইউনিয়নে’র সাংগঠনিক সম্পাদক মিলাদ আহমদ রিয়াদ বলেন, ‘শ্রমিকদের কল্যাণ তহবিলের প্রায় আড়াই কোটি টাকা থাকার কথা। কিন্তু সেলিম আহমদ ফলিক আমাদের হিসাব দিয়েছেন মাত্র ৪১ লাখ টাকার। বাকি ২ কোটি টাকা তিনি আত্মসাৎ করে সাধারণ শ্রমিকদের সঙ্গে না থেকে ফলিক গড়েছেন গুন্ডা বাহিনী আমাদের শ্রমিক কল্যাণ তহবিলের পুরো টাকার হিসাব না দিলে তাকে কার্যালয়ে প্রবেশ করতে দেয়া হবে না।

এদিকে, ফলিকের বিরুদ্ধে পরিবহন শ্রমিকদের একটি পক্ষের এই আন্দোলনে অপর পক্ষও (ফলিকের অনুসারী) মাঠে নামে। এতে উভয়পক্ষের মধ্যে উত্তেজনা বাড়তে থাকে।

একপর্যায়ে আজ মঙ্গলবার বিকাল ৪টার দিকে বাস টার্মিনাল এলাকায় উভয়পক্ষ সংঘর্ষে জড়িয়ে পড়ে। প্রায় ঘন্টাব্যাপী সংঘর্ষে আহত হন অন্তত ৫০ জন। ভাঙচুর করা হয় মিতালী পরিবহনের একটি বাস ও এনা পরিবহনের কাউন্টার। ওই সময় পুলিশ ১০ রাউন্ড ফাঁকা গুলি ও র‌্যাব ৩ রাউন্ড টিয়ারশেল নিক্ষেপ করে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণ করে।

এর পর দেড় ঘন্টা পর, মঙ্গলবার বিকাল পৌনে ৬টার দিকে বাস টার্মিনাল এলাকায় আবারও উভয়পক্ষ সংঘর্ষে জড়িয়ে পড়ে। বৃষ্টির মতো একপক্ষ আরেক পক্ষকে লক্ষ্য করে ইটপাটকেল নিক্ষেপ করে। এ সংঘর্ষে আহত হয়েছেন আরো ১০ জন।

এ সময় সংঘর্ষ থামাতে পুলিশ প্রায় ৩০ রাউন্ড ফাঁকা গুলি চালিয়েছে বলে জানিয়েছেন দক্ষিণ সুরমা থানার ওসি খায়রুল ফজল।

তিনি জানান, পুলিশ উভয়পক্ষকে ঘটনাস্থল থেকে সরিয়ে দিয়েছে। অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে।