সিলেট করোনা ও নন করোনা রোগী নিয়ে পররাষ্ট্রমন্ত্রীর দু:খ ও আশারবাণী

এনাম রহমান, সিলেট জেলা প্রতিনিধি:  করোনা পরিস্থিতি নিয়ে সিলেটবাসীর উদ্দেশ্যে একটি ভিডিও বার্তা দিয়েছেন পররাষ্ট্রমন্ত্রী ও সিলেট-১ আসনের সংসদ সদস্য ড. এ কে আব্দুল মোমেন। বৃহস্পতিবার রাতে মন্ত্রীর ভেরিফাইড ফেসবুকে এই বার্তা দেন তিনি। ভিডিও বার্তায় পররাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, প্রিয় সিলেটবাসী, আমি দেখেছি ও সুনেছি সম্প্রতি সিলেটে পর পর চারজনের মৃত্যু হয়। এই চার রোগীকে তাদের স্বজনরা হাসপাতালে নিয়ে যান, হাসপাতাল থেকে তাদের চিকিৎসা দেয়া হয়নি। তারা কিন্তু কভিড আক্রান্ত ছিলেন না।

কোন রোগীর স্বজন যদি অসুস্থ অবস্থায় রোগীকে হাসপাতালে নিয়ে চিকিৎসা না পায় আর সেই রোগীর মৃত্যু হয় তবে সারাজীবন একটি অনুসূচনা থেকে যায়। মনে হবে, যদি ডাক্তার আমার রোগীকে দেখত তবে হয়ত তাকে বাঁচানো যেত এটাই স্বাভাবিক। এটি আমাদের জন্য খুবই দুঃখজনক এবং লজ্জাজনক। তিনি বলেন, আমাদের যারা একটু স্বচ্ছল তারা কোনা শারীরিক সমস্যা হলেই বেসরকারি হাসপাতালে ছুটে যান, সরকারি হাসপাতালে যান না। তাদের ধারণা সরকারি হাসপাতালের সেবা নিম্নমানের। কিন্তু খুবই দুঃখের বিষয় এই কঠিন সময়ে আমাদের বেসরকারি হাসপাতালগুলো রোগীদের না দেখে ফিরিয়ে দেন, এটি আমার খুব খারাপ লেগেছে। হাসপাতাল এবং চিকিৎসকদের দায়িত্ব হচ্ছে মানুষদের সেবা দেয়া, তারা সবকিছুর উর্ধ্বে।

এজন্য আমরা তাদের সম্মান করি শ্রদ্ধা করি। কিন্তু এই পরিস্থিতে তারা যেটি করেছেন সেটি আমাকে খুব দুঃখ দিয়েছে। এ বিষয়ে আমি সরকারের সাথে দেন-দরবার করেছি যাতে যেসব হাসপাতাল ৫০ শয্যার উপরে তারা যদি সবধরণের রোগীদের সামান্যতম সেবা না দেয় তবে তাদের লাইসেন্স বাতিলসহ সিলাগালা করার। পররাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, যাই হোক এ নিয়ে আলোচনা হওয়ার পর আমরা সুখবর পেয়েছি। সিলেটের দুটি বেসরকারি হাসপাতাল নর্থ ইস্ট মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল ও মাউন্ট এডোরা হাসপাতাল কভিড এবং নন কভিড রোগীদের চিকিৎসা দেবে বলে জানিয়েছেন। নর্থ ইস্ট প্রায় ২০০ বেড কভিড রোগীদের জন্য দিয়েছেন। আমি আশাকরি আর কেউ চিকিৎসাবঞ্চিত হবেন না।

সিলেটে আমরা সরকারিভাবে শুধুমাত্র শামসুদ্দিন হাসপাতালে করোনা রোগীদের চিকিৎসা দিচ্ছি। কিন্তু রোগীর সংখ্যা অত্যধিক বেড়ে যাওয়ায় দক্ষিণ সুরমা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স ও খাদিমপাড়া হাসপাতাল করোনার জন্য ডেডিকেটেড করা হয়েছে খুব শীঘ্রই। আরেকটি খবর আমার কাছে আসে যে সিলেটে করোনা টেস্টিং কিটের সংকট। কিন্তু আমি সিলেটে খোঁজ নিয়ে জেনেছি পর্যাপ্ত পরিমাণ কিট সিলেটে মজুদ আছে। আমি ধন্যবাদ জানাই শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষকে তারা করোনা টেস্টের জন্য এগিয়ে এসেছেন। এছাড়া সিলেট বিভাগে আমরা আরো দুটি ল্যাব স্থাপনের চেষ্টা করছি। এরমধ্যে একটি হবিগঞ্জ জেলায় অনুমোদন হয়েছে আরেকটি সুনামগঞ্জে করার প্রক্রিয়া চলছে।

তা ছাড়াও ব্যক্তিগতভাবে ল্যাব স্থাপনের জন্য অনেকেই এগিয়ে আসছেন। সীমান্তিকের চীফ পেট্রোন ড. আহমদ আল কবির আমাকে ওয়াদা করেছেন তিনি সিলেটে ব্যাক্তিগতভাবে একটি টেস্টিং সেন্টার করবেন। এজন্য যা যা প্রয়োজনীয় সকল সহায়তা আমি তাকে করব। আমাদের ওসমানী মেডিকেল কলেজে এখন দুই শিফটে টেস্ট হচ্ছে। আমরা চেষ্টা করছি তিন বা চার শিফটে করে টেস্ট আরো বাড়ানোর। তিনি বলেন, সিলেট কৃষি বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ তাদের ল্যাবে করোনা পরীক্ষার আগ্রহ প্রকাশ করেছে। কিন্তু তাদের মেশিনটি খুব বেশী পুরনো এটাকে ও কাজে লাগানোর কথা ভাবছি আমরা।

তবে সুখবর হচ্ছে ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে একটি মেশিন রয়েছে যেটি এখনো খুলা হয়নি। কিন্তু এটি সম্পূর্ণ নয়। এর সাথে আরো কিছু যন্ত্রপাতি সংযুক্ত করার জন্য আমি চেষ্টা করছি, সেগুলো পেলে সেখানেও করোনা পরীক্ষা করা সম্ভব হবে। এই দুঃসময়ে নিজের তাগিদে, পরিবারের তাগিদে এবং দেশের তাগিদে আপনারা স্বাস্থ্যবিধি মেনে চলুন। এই করোনা দুর্শময়ে চিকিৎসক, নার্সসহ যারা সম্মুখে থেকে করোনার মোকাবিলা করছেন তাদের প্রতি সম্মান জানান, সবশেষে করোনা মোকাবেলায় সকলের সহযোগিতা কামনা করেন পররাষ্ট্রমন্ত্রী।