সিলেট ওসমানীনগর উপজেলা মহাসড়ক মরন ফাঁদ-১৩ দিনে প্রাণ গেলো ১২ জনের

এনাম রহমান, সিলেট জেলা প্রতিনিধি: সিলেট ওসমানী নগর উপজেলা সিলেট-ঢাকা মহাসড়কের সিলেটের ওসমানীনগর অংশে সড়ক এখন মৃত্যুপুরি।

সড়ক দুর্ঘটনায় লাশের মিছিল দির্ঘ হচ্ছে। সড়কেই সপ্ন বিলিন হচ্ছে সাধারণ মানুষের। অকালে ঝরে পড়ছে তাজা প্রাণগুলো। দুর্ঘটনার শিকার হয়ে অনেকেই চির দিনের জন্য পঙ্গুত্ব বরণ করে শয্যাশায়ী হয়ে জীবন পার করছেন। সম্প্রতি ক্রমেই সড়ক দুর্ঘটনা বৃদ্ধি পাওয়ায় মানুষজন উদ্বিগ্ন রয়েছেন।

আমাদের দেশে সকল কিছুর আইন আছে কিন্তু মানছে কতোজনে। গাড়ী চলাচলের গতিবেগের নির্দেশনার আইনও আছে মাহাসড়কের ওসমানীনগর অংশে তা মানা হচ্ছেনা। তাই অনতিবিলম্বে মহাসড়ককে চার লেনে উন্নিতকরণের কাজ দ্রুত বাস্তবায়নের দাবি ওঠেছে। এদিকে, মহাসড়কে ত্রুটিপূর্ণ কাগজ নিয়েও দূরপাল্লার বিলাসবহুল যানবাহনগুলো চলাচল করছে।

এসব গাড়ির চালকদের অধিকাংশই লাইসেন্সধারী নয় বলে মনে করছেন অনেকেই। অনেক চালকরা আবার ছোট গাড়ীর লাইসেন্স দিয়ে বড় ও দূরপাল্লার গাড়ীগুলো চালিয়ে আসছেন বলেও জানা গেছে। দুর্ঘটনার পর দুর পাল্লার গাড়ীর অভিযুক্ত চালক ও মালিকপক্ষের বিরুদ্ধে মামলা দায়ের হলেও আইনের ফাঁকে তারা অনায়াসেই পার পেয়ে যাচ্ছে সাজা হচ্ছে না বাড়ছে দুর্ঘটনা।

সুদু অদ্ধক লাইসেন্সবিহীন চালকদের দুষ নয়। মহাসড়কে তিন চাকার অটোরিকশার সিএনজি চলাচল যতদিন বন্ধ করা হচ্ছে না সাধারণ মানুষ মনে করেন দুর্ঘটনা রোধ করা যাবে না। অন্যদিকে এই ভাঙ্গা সড়কে দীর্ঘদিন থেকে কোন সংস্কার কাজ না করায় বিষয়টি নিয়ে জনমনে ক্ষোভের শেষ নেই। তথ্যানুসন্ধানে জানা গেছে, সিলেট-ঢাকা মহাসড়কের ওসমানীনগর অংশ যেন আজকাল মৃত্যুকুপে পরিনত হয়েছে।

কারোনা মাহামারির কারণে লকডাউন থাকায় দূর পাল্লার যান চলাচল বন্ধ থাকায় কিছুটা দূর্ঘটনা কমে আসলেও যান চলাচল স্বাভাবিক হওয়ায় ওসমানীনগরে সড়ক দূর্ঘটনা বৃদ্ধি পেয়েছে দ্বিগুণ। মহাসড়কের ওসমানীনগরে অংশে বড় বড় সড়ক দূর্ঘটনায় মৃত্যুর সংখ্যাও বেশি। সব মিলিয়ে সিলেট-ঢাকা মহাসড়কের ওসমানীনগর অংশ যেন মরণ ফাঁদে পরিনত। মাত্র ১৩ দিনের ব্যবধানে সিলেট-ঢাকা মহাসড়কের ওসমানীনগর অংশে ছোট-বড় দূর্ঘটনা ঘটলেও বড় দুই দূর্ঘটনায় নারী ও শিশুসহ নিহত হয়েছেন ১২ জন।

দুই পরিবার একসাথে ৯ জন কে হাড়িয়ে দুইটি পরিবারই যেন নিঃস্ব এখন।। এছাড়া আরো তিনটি পরিবারও দিশেহারা সর্বশেষ গত বৃহস্পতিবার রাত সাড়ে ৮ টার দিকে উপজেলার ঢাকা থেকে ছেড়ে আসা সিলেটগামী যাত্রীবাহী মামুন পরিবহন বাস (ঢাকা মেট্রা-ব ১৪- ৯৮৪৮) ও শেরপুরগামী সিএনজি চালিত অটোরিকশা মৌলভী- বাজার -থ ১১-৩৬৯১, সিলেট ঢাকা মহাসড়কের গজিয়া গ্রিন বার্ড কিন্টার গার্টেন এর সামনে আসলে যাত্রীবাহী বাস ও সিএনজি চালিত অটোরিকশাকে চাপা দিলে সিএনজি অটোরিকশা ধূমড়ে মুছড়ে যায়।

এসময় একই পরিবারের ৪ জন সহ ৬ জন নিহত হয়েছেন। মারাত্মকভাবে আহত হয়েছেন আরও ২ জন। এর আগে গত ৩১ জুলাই সকালে সিলেট-ঢাকা মহাসড়কের উপজেলার বরায়া চাঁনপুর নামক স্থানে সড়ক দুর্ঘটনায় একই পরিবারের ৫ জনসহ ৬ জন নিহত হন।

ওসমানীনগর থানার অফিসার ইনচার্জ শ্যামল বণিক বলেন, মহাসড়কের দায়িত্ব হাইওয়ে পুলিশের উপর ন্যান্ত। তারপরও মানবিক কারণে ওসমানীনগর থানার পুলিশের পক্ষ থেকে সড়ক দুর্ঘটনা রোধে সবার মধ্যে সচেতনতা তৈরির অনেক উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। শেরপুর হাইওয়ে থানার অফিসার ইনচার্জ মোঃ এরশাদুল হক ভূইয়া বলেন, হাইওয়ে পুলিশের পক্ষ থেকে সড়ক দূর্ঘটনা রোধে প্রচারণা চালানো হচ্ছে।

দূর্ঘটনার কারণ উল্যেখ করে তিনি বলেন, আঁকা বাকা রাস্তা ও সার্ভিস লেন না থাকায় দূর্ঘটনা ঘটছে বলে প্রাথমিক ভাবে ধারণা করা হচ্ছে। এছাড়া যানবাহনে অভারস্পিডের মামলা না দেয়ায় চালাকরাও বেপড়োয়া ভাবে গাড়ি চালাচ্ছেন। আমরা তাদের সচেতন করতে কাজ করে যাচ্ছি, কিন্তু কন্টল করা যাচ্ছে না, গাড়ি চালক ও পথচারীদের আরো সচেতন হওয়ার দরকার।