সিলেট এমসি কলেজ ছাত্রাবাসে ছাএলীগ নেতা কর্মীদের দ্বারা তরুণী গণধর্ষণ

এনাম রহমান, সিলেট প্রতিনিধিঃ পূণ ভূমি সিলেট আবারও কলংক্ষিত ছাএলীগের নেতা কর্মী দ্বারা, সিলেট এমসি কলেজের ছাত্রাবাসে স্বামীকে বেঁধে রেখে স্ত্রীকে গণধর্ষণের ঘটনায় অভিযুক্ত চয়জন ছাএলীগের ধর্ষণকারীকে রক্ষা করতে গতকাল শুক্রবার সন্ধ্যার পরপরই টিলাগড় এলাকার একাধিক আওয়ামী লীগ নেতা ও কয়েকজন সাবেক ছাত্রলীগ নেতা ঘটনাস্থলে উপস্থিত হন।

এদিকে ধর্ষণের ঘটনাটি প্রথম দিকে স্থানীয় কয়েকজন আওয়ামী লীগ নেতা ধাপাচাপা দেওয়ার চেষ্টা করেন। তারা আপোষ মীমাংসারও চেষ্টা নামে ধর্ষণকারীদেরক পালাতে সহযোগিতা করেন বলে অনেক প্রত্যক্ষদর্শী ক্ষুব প্রকাশ করে বলেন, ধামা চাপা দেওয়ার নাম করে দীর্ঘসময় পার করেন এ সুযোগে ধর্ষণকারীরা পালাতে সক্ষম হয়।

বিভিন্ন সূত্র থেকে জানা যায়, এই ন্যক্ষারজনক ঘটনার সাথে যারা জড়িত অরা হলো, এমসি কলেজ ছাত্রলীগের নেতা ও কলেজের ইংরেজি বিভাগের মাস্টার্সের ছাত্র শাহ মাহবুবুর রহমান রনি, এমসি কলেজ ছাত্রলীগ নেতা মাহফুজুর রহমান মাছুম, অর্জুন, এম সাইফুর রহমান, রাজন আহমদ এবং বহিরাগত ছাত্রলীগ নেতা রবিউল এবং তারেক আহমদ। তাদের মধ্যে সাইফুর রহমানের গ্রামের বাড়ি বালাগঞ্জ উপজেলায়, রবিউলের বাড়ি সুনামগঞ্জ জেলার দিরাই উপজেলায়, মাহফুজুর রহমান মাছুমের বাড়ি সিলেট সদর উপজেলায়, অর্জুনের বাড়ি সিলেটের জকিগঞ্জ উপজেলায়, রনির বাড়ি হবিগঞ্জে এবং তারেকের বাড়ি সুনামগঞ্জের জগন্নাথপুর উপজেলার বাসিন্দা।

আজ শনিবার সকাল আটটায় টায় এ রিপোর্ট লেখা পর্যন্ত অভিযুক্ত কাউকে ধরা সম্ভব হয়নি। তবে তাদের গ্রেফতারে অভিযান চলছে বলে জানান, শাহ পরান থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আব্দুল কাইয়ুম চৌধুরী। সিলেট মহানগর পুলিশের অতিরিক্ত উপ-কমিশনার (মিডিয়া) জোর্তিময় সরকার বলেন, গণধর্ষণের শিকার নারীর স্বামীর বাড়ি সিলেটের দক্ষিণ সুরমা এলাকায়। পুলিশ ও স্থানীয় সূত্র জানায় দক্ষিন সুরমার এই নবদম্পতির, শুক্রবার সন্ধ্যায় স্ত্রীসহ টিলাগড় ও এমসি কলেজ এলাকায় বেড়াতে গিয়েছিলেন তিনি। আচমকা ৫/৬ জন তরুণ এসে তাদেরকে ঘিরে ফেলে অস্ত্রের মুখে জিম্মি করে ছাত্রাবাসের ভেতরে নিয়ে যায়, এ সময় ছাত্রাবাসের ভেতরের একটি রাস্তায় ধর্ষিতার স্বামী কে বেঁধে পেলে তারা। এরপর তারই সামনে তার স্ত্রীকে গণধর্ষণ করে ধর্ষণকারীরা। খবর পেয়ে পুলিশ ওই ছাত্রাবাসে গিয়ে ওই দম্পতিকে উদ্ধার করে। ধর্ষণের শিকার হওয়া নারীকে রাতে সিলেট এমএজি ওসমানী মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালের ওয়ানস্টপ ক্রাইসিস সেন্টারে (ওসিসি) ভর্তি করা হয়।

এদিকে স্থানীয়রা জানান, সন্ধ্যার পর খবর পেয়ে টিলাগড় এলাকার একাধিক আওয়ামী লীগ নেতা ও কয়েকজন সাবেক ছাত্রলীগ নেতা ঘটনাস্থলে উপস্থিত হন। ধর্ষণের ঘটনাটি প্রথম দিকে স্থানীয় কয়েকজন আওয়ামী লীগ নেতা ধাপাচাপা দেওয়ার চেষ্টা করেন। তারা আপোষ মীমাংসারও চেষ্টা চালান। ধামাচাপা দেওয়ার চেষ্টায় দীর্ঘ সময় ক্ষেপণের কারণে অভিযুক্তরা গা ঢাকা দিতে সক্ষম হন। অবশ্য পরে বিষয়টি জানাজানি হয়ে গেলে ধাপাচাপা দেওয়ার অপচেষ্টা থেকে সরে দাঁড়ান আওয়ামী লীগ নেতারা।

জানা যায় ধর্ষণকারী ওই ছাত্রলীগ নেতাকর্মীরা প্রত্যেকেই ছাত্রাবাসে থাকেন। তারা টিলাগড় কেন্দ্রীক রণজিৎ গ্রুপের নেতাকর্মী বলে জানা গেছে।রাতে পুলিশের অভিযানে সাইফুরের রুম থেকে অস্ত্র গুলি উদ্ধার করা হয়, সিলেট শাহ পরান থানার ওসি কাইয়ুম চৌধুরী বলেন, খবর পেয়েই আমরা এমসি কলেজের ছাত্রাবাসে গিয়ে তাদের উদ্ধার করি। পরে ধর্ষণের শিকার হওয়া নারীকে ওসমানী হাসপাতালের ওসিসি সেন্টারে ভর্তি করা হয়। এ ঘটনায় জড়িতদের গ্রেফতারে অভিযান অব্যাহত রয়েছে, ধর্ষণকারী যে দলের হউক তাদের গ্রেফতার করা হবে।