সিলেটে মানবাধিকার কর্মীকে হুমকি ইফজালের মৃত্যুর রহস্য ঘনিভূত

 এনাম রহমান, সিলেট জেলা প্রতিনিধি: সিলেটে এক মানবাধিকার কর্মীকে হুমকি দেওয়ার অভিযোগ পাওয়া গেছে। ২৬ জুলাই রবিবার অতিরিক্ত আইজিপি বরাবর লিখিত অভিযোগ থেকে এই তথ্য পাওয়া যায়।

জানা যায় বাংলাদেশ মানবাধিকার বাস্তবায়ন সংস্থা শাহপরাণ (রহ:) থানা শাখার সভাপতি সৈয়দ আকরাম আল সাহানকে গত ২৫ জুলাই দুপুর সাড়ে ১২টার দিকে রিংকু চক্রবর্তী নামের একব্যক্তি ঢাকা পুলিশ হেডকোয়ার্টারের প্রশাসনের বড় কর্মকর্তা পরিচয় দিয়ে তার ০১৭৩৪ ১৬৯১২২ নম্বর মোবাইল থেকে সৈয়দ সাহানকে ফোন করে ইফজাল মৃত্যুর বিষয় নিয়ে ঘাটাঘাটি না করতে নিষেধ করে এবং যোগাযোগ করলে মামলা দিয়ে হয়রানি করাসহ দেখে নেওয়ার হুমকি ও অকথ্য ভাষায় গালিগালাজ করে।

হুমকির পর নিরাপত্তার কথা চিন্তা করে রবিবার ঐ মানবাধিকার কর্মী এসএমপি’র পুলিশ কমিশনারের মাধ্যমে অতিরিক্ত আইজিপি পুলিশ হেডকোয়ার্টার বরাবর একটি লিখিত অভিযোগ দায়ের করেন। অভিযোগের অনুলিপি ডিআইজি সিলেট রেঞ্জ, পুলিশ সুপার সিলেট, অধিনায়ক র‌্যাব-৯,সিলেট, অফিসার ইনচার্জ শাহপরাণ (র:) থানা, এসএমপি সিলেট, অফিসার ইনচার্জ কানাইঘাট থানা সিলেটে প্রেরণ করা হয়েছে। অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে, ইফজাল মৃত্যুর পর থেকে তার সহপাঠি ও এলাকাবাসীরা রহস্য উদঘাটনের জন্য মানববন্ধন সহ বিভিন্ন কর্মসূচি পালন করে আসছে।

তাই মানবাধিকারের পক্ষ থেকে তিনি মৃত্যুর কারণ তদন্ত করছিলেন। তিনি বলেন বাংলাদেশ মানবাধিকার বাস্তবায়ন সংস্থার শুধু শাহপরাণ থানা শাখার সভাপতি নন কেন্দ্রীয় কমিটি তাকে মৌখিক ভাবে সিলেট বিভাগীয় প্রতিনিধি ঘোষণা করেছে। তাই দায়িত্বশীল ব্যক্তি হিসেবে এই মৃত্যুর রহস্য উদঘাটনে যাদেরকে সন্দেহ করা হচ্ছে নিহত ইফজালের চাচাতো ও তালতো ভাই মিনহাজুল আবেদিন ও আবুল হোসেন তাদের সাথে তিনি সরাসরি ও মোবাইল ফোনে কথা বলছিলেন।

২৫ জুলাই সকাল সাড়ে ১১টায় আবুল হোসেন এর সাথে কথা বলার পর সাড়ে ১২টার দিকে হুমকি পান তিনি। মানবাধিকার কর্মী সৈয়দ সাহানকে হুমকি দেওয়ায় ইফজাল মৃত্যুর রহস্য আরো ঘণিভূত হলো। ইতিমধ্যে ইফজালের মৃত্যুর রহস্য উদঘাটনের জন্য তার মা আছারুন নেছা গত ৮ জুলাই সিলেট প্রেসক্লাবে সংবাদ সম্মেলন করেন এবং ১৫ জুলাই জেলা প্রশাসক বরাবর স্বারকলিপি দেন।

উল্লেখ্য গত ২৫ জুন ২০২০ ইংরেজি সিলেট নগরীর উপশহর বি ব্লকের ১৮নং রোডের ৩/এ বাহার মঞ্জিলের নিচে তার লাশ পাওয়া যায়। সে ঐ বাসার তৃতীয় তলায় বোনের বাসায় থাকতেন।