সিলেটে বৃষ্টি না হওয়াতে নদ নদীর পানি ভাটার টান

এনাম রহমান, সিলেট জেলা প্রতিনিধি: সিলেটে ভারী বৃষ্টিপাত না হওয়ায় সকল নদ নদীর পানি কমতে শুরু করেছে। সিলেটের সীমান্তবর্তী নদী হিসেবে পরিচিতি সারী লোভাসহ সব নদ নদীর পানি কমছে। গতকাল সোমবার দিনভর সারী লোভার পানি তেমন একটা বাড়েনি।

আজ মঙ্গলবার সকাল থেকে দুপুরের পরিমাপ অনুযায়ী এ দুটো নদীর পানি কমছে কুশিয়ারার চারটি পয়েন্টের মধ্যে বিপৎসীমার ওপরে আছে শুধু ফেঞ্চুগঞ্জ পয়েন্টের পানি। সেখানে ধীরে হলেও কমছে পানি। এদিকে সুরমা নদীর দুটো পয়েন্টে পানি বিপৎসীমার নিচ দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে। আজ সকাল ও দুপুরে দৈনিক পানির স্তর-সম্পর্কিত তথ্য থেকে এ কথা জানিয়েছেন পানি উন্নয়ন বোর্ডের (পাউবো) সিলেটের নির্বাহী প্রকৌশলী মুহাম্মদ শহীদুজ্জামান সরকার। পাউবো আরো জানায় সিলেটের দুই প্রধান নদী সুরমা ও কুশিয়ারার সঙ্গে বিভিন্ন শাখা নদীর মাধ্যমে মিলিত হয়েছে সীমান্ত থেকে নেমে আসা সারী নদী ও লোভা নদী।

সারী নদী জৈন্তাপুর ও গোয়াইনঘাট উপজেলা হয়ে চেঙ্গেরখাল নদ দিয়ে সুরমায় মিশেছে। আর লোভা নদী কানাইঘাট উপজেলায় মিশেছে সুরমা নদীর সঙ্গে। সুরমা নদীর বিভিন্ন শাখা নদী কুশিয়ারার সঙ্গে মিলিত হয়েছে। যদি সিলেটের সীমান্ত নদীতে পানি বাড়ে তাহলে সুরমা ও কুশিয়ারার পানিও বাড়ে। পাউবোর দৈনিক পানির স্তর-সম্পর্কিত তথ্যে ‘ডেইলি ওয়াটার লেভেল ডেটা’ দেখা গেছে গতকাল সারী নদী ও লোভা নদীর পানি বাড়লেও আজ মঙ্গলবার সকাল থেকে কমছে শুরু করেছে।

সারী নদীর পানি সারীঘাট পয়েন্টে গতকাল সন্ধ্যায় ১০ দশমিক ২৮ মিটার থেকে নেমে আজ মঙ্গলবার সকাল ছয়টায় ১০ দশমিক ১৪ মিটার দিয়ে প্রবাহিত হয়েছে। সকাল নয়টায় আরও এক ধাপ কমে দুপুর ১২টার দিকে সেখানে পানি ১০ দশমিক ১০ মিটার দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছিল। পানি কমার ধারা দেখা গেছে লোভা নদীতেও কানাইঘাটের কাছে লোভার পানি গতকাল সন্ধ্যায় ১৩ দশমিক ৫০ মিটার থেকে কমে আজ দুপুর ১২টায় ১৩ দশমিক ২৮ মিটার দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছিল। উজানের সারী নদী ও লোভা নদীর পানি কমায় সুরমা ও কুশিয়ারার পানিও কমতে শুরু করে।

গতকাল সুরমা নদীর কানাইঘাট পয়েন্টে পানি ১২ দশমিক ৩৭ মিটার দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছিল। আজ মঙ্গলবার সকালে ১২ দশমিক ৩৭ মিটার ও দুপুরে ১২ দশমিক ১৭ মিটার দিয়ে পানি প্রবাহিত হচ্ছিল। এদিকে বিপৎসীমার ওপরে থাকা কুশিয়ারার ফেঞ্চুগঞ্জ পয়েন্টেও পানি কিছুটা কমছে তবে খুব ধীরে ধীরে। গতকাল সন্ধ্যায় ৯ দশমিক ৯১ মিটার থেকে নেমে আজ সকালে ৯ দশমিক ৮৯ মিটার দিয়ে পানি প্রবাহিত হয়। আজ দুপুরে আরও এক ধাপ পানি কমে ৯ দশমিক ৮৮ মিটার দিয়ে পানি প্রবাহিত হচ্ছিল। আজ ফেঞ্চুগঞ্জ পয়েন্টে কুশিয়ারার পানি বিপৎসীমা ৯ দশমিক ৪৫ মিটার দিয়ে প্রবাহিত হয়েছে।