সিলেটে কোরবানির পশু ব্যবসায়ীদের বোবা কান্না।

এনাম রহমান, সিলেট জেলা প্রতিনিধি:  সিলেট নগরীর ভিতরে একমাত্র স্থায়ী পশুর হাট হচ্ছে কাজিরবাজার। করোনা ভাইরাসের কারণে এবারের চিএ ভিন্ন প্রতি বছর কোরবানির ঈদের ১৫ দিন আগেই থেকেই জমজমাট হয়ে উঠতো এই কাজিরবাজার পশুর হাট।

কিন্তু করোনা ভাইরাস বদলে দিয়েছে এ বছরের পশুর ব্যবসায়ীদের হিসাব নিকাশ। বিগত কোরবানির ঈদে কাজিরবাজার পশুর হাট ও আশপাশ এলাকায় আসা কোরবানির পশু ও ক্রেতা-বিক্রেতাদের সমাগম মুখরিত হয়ে উঠে থাকতো। কিন্তু এবার তেমন নয়। করোনা পরিস্থিতি কাজিরবাজারের গরুর হাটের দৃশ্য বদলে দিয়েছে। এমন পরিস্থিতিতে চিন্তিত হয়ে পড়েছেন সিলেটের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে কাজিরবাজারে হাটে গরু নিয়ে আসা বিক্রেতারা। বাজার ঘুরে দেখা গেছে সিলেট জেলার বিভিন্ন এলাকা থেকে ইত্যোমধ্যে কাজিরবাজার হাটে গরু-ছাগল উঠতে শুরু করেছে।

বিক্রেতারা কর্তৃপক্ষের আদেশ-নিষেধ ও স্বাস্থ্যবিধি মেনে হাটে অবস্থান করছেন। কিন্তু এখন পর্যন্ত বেচাকেনা জমে ওঠেনি। ব্যবসায়ীরা আশা করছেন ঈদের বাকি আছে তিন চার দিন হয়তো এ কয়দিন ক্রেতা সমাগম ঘটতে পারে। সিলেটের কোম্পানিগেঞ্জির, কয়েস মিয়া নামের একজন ব্যবসায়ীর সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে তিনি কয়েকটি গরু ও ছাগল নিয়ে এ হাটে এসেছেন তিনি বললেন আমরা দুজন মানুষ কয়েকটি গরু-ছাগল নিয়ে গত শনিবারে এই হাটে এসেছি। আমাদের থাকা খাওয়াসহ সঙ্গের পশুগুলোর পেছনে প্রতিদিন প্রায় ৫০০ টাকা খরচ আছে।

তবুও বিক্রির আশায় এখানেই থাকছি আশপাশের হোটেলে ডাল ভাত খেয়ে দিন রাত পার করছি। সুরমান আলী নামের আরেকজন পশু ব্যবসায়ী এসেছেন সিলেটের জকিগঞ্জ থেকে আটটি পশু নিয়ে। তিনিও ভরা কান্তমনে বলেন প্রতিবার এ সময় বাজার জমে উঠে কিন্তু এখনো ঐতিহ্যবাহী কাজিরবাজার যেমন ক্রেতার দেখা নেই। দু-একজন আসে, গরু দেখে, দাম শুনে চলে যায়। গতবার যে মাপের গরু লাখ টাকার উপরে বিক্রি হয়েছে এ হাটে- এবার সেই গরুর ৬০-৭০ হাজার টাকাও দাম বলছেন ক্রেতারা।

বর্তমানে এমন পরিস্থিতিতে আমরা যারা এই কোরবানির ঈদের আশায় সারা বছর চেয়ে থাকি, তারা এখন রীতিমতো চোখের জল ফেলছি। যদিও ঈদের বাকি ৪-৫ দিন ভালো ব্যবসা না হয় তবে নির্ঘাত পথে বসতে হবে আমাদের।