সিলেটে করোনা নেগেটিভ ছোট ভাইয়ের মৃত্যুর ২০ দিনের মধ্যে, বড়ভাই ও চলে গেলেন না ফেরার দেশে

এনাম রহমান, সিলেট জেলা প্রতিনিধি: করোনা পরিস্থিতির প্রভাব মানুষের শরীরে চেয়ে মানুষিক দুর্বল করে বেশি, একের পর এক মৃত্যুর ঘটনায় আতঙ্কিত হয়ে পড়েছিলেন সিলেট সিটি কর্পোরেশনের ৩ নং ওয়ার্ডে আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক সিলেট আওয়ামী লীগের পরিচিত মুখ ছিলেন, মুরাদ আহমদ মোরন।

ছোট ভাইয়ের মৃত্যুর পর তার আতঙ্ক আরো বেড়ে যায় এ কারনে তিনি অসুস্থ হয়ে পড়েন। করোনা আক্রান্ত ছিলেন না। পরপর তিন বার পরীক্ষা করা হলো, রিপোর্ট নেগেটিভ ছিলো। এক সময় যুবলীগ করতেন। ফলে যুবলীগের রাজনীতির মাধ্যমেই পরিচিত সব মহলে। তাহার ছোট ভাই ফরহাদ আহমদ ও প্রায় ২০ দিন আগে মারা গেছেন। ঠিক একই ভাবে মৃত্যু হয়েছে তার। ফরহাদও শ্বাসকষ্টে ভুগছিলেন। এ কারণে তাকে শহীদ শামসুদ্দিন হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছিলো। সেখানে ফরহাদের করোনা টেস্ট করা হলে রিপোর্ট নেগেটিভ আসে। পরে তাকে ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়।

সেখানে হার্ট অ্যাটাকে মারা যান ফরহাদ। ছোট ভাইয়ের মৃত্যুর পর শোকে কাতর হয়ে পড়েছিলেন মোরন। করোনা নিয়েও ভয় পেয়ে যান। নিজেরও শরীরে জ্বর, সর্দি দেখা দেয়। কোনো ভাবে জ্বর নিয়ন্ত্রণে আসছিলো না। প্রায় ১২ দিন আগে ভর্তি করা হয়েছিলো সিলেটের আইসোলেশন সেন্টার শহীদ শামসুদ্দিন আহমদ হাসপাতালে। সেখানে অক্সিজেন সাপোর্টে রেখে তাকে পরপর তিন দফা করোনা টেস্ট করা হয়। প্রতিবারই টেস্ট রিপোর্ট নেগেটিভ আসে। করোনা নয় এমনটি নিশ্চিত হওয়ার পর উন্নত চিকিৎসার জন্য প্রায় সপ্তাহ খানেক আগে তাকে নেওয়া হয় সিলেটের মাউন্ট এডোরা হাসপাতালে।

সেখানে ও তাকে আইসিইউতে রেখে চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছিলো। পরিবারের সদস্যরা জানান আইসিইউতে থাকার সময় বাড়িতে ফেরার তীব্র আকুতি জানাচ্ছিলেন মোরন। এ কারণে তার কথা মতো গতকাল বৃহস্পতিবার সকালে মাউন্ট এডোরা হাসপাতাল থেকে রিলিজ নেন। মাউন্ট এডোরা হসপিটালের ডাক্তাররা জানিয়েছিলেন তার অবস্থা ভালো নয়। অক্সিজেন সাপোর্ট লাগবে। এ কারনে পরিবারের পক্ষ থেকে একটি অক্সিজেন সিলিন্ডার কেনা হয়। বাসায় তার শারীরিক অবস্থা অবনতি হলে পরিবারের সদস্যরা তাকে নিয়ে যান সিলেটের রাগিব রাবেয়া মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে আইসিইউ বা অক্সিজেন সাপোর্টে রাখার জন্য।

সেখানে যেতে ও মোরনের মন চাইছিলো না। তিনি বার বার বাসায় থাকার আকুতি জানিয়েছিলেন। এরপরও অনেকটা বুঝিয়ে তাকে রাজী করান। বৃহস্পতিবার দুপুরে তারা অক্সিজেন সাপোর্ট দিয়ে মোরনকে নিয়ে যান রাগিব-রাবেয়া হাসপাতালে। সেখানে নেওয়ার পর ডাক্তাররা তাকে পরীক্ষা করেন। অক্সিজেন সাপোর্ট স্বাভাবিক রাখার জন্য তারা তাকে একটি কেবিনে রাখার পরামর্শ দেন। মোরনের খালাতো ভাই জাফর আহমদ জানিয়েছেন ডাক্তারের পরামর্শ মতো তাকে হাসপাতালে কেবিনে নিয়ে যাওয়ার পথেই তিনি নিস্তেজ হয়ে পড়েন।

তাৎক্ষনিক ডাক্তাররা এসে তাকে পরীক্ষা করে বলেন তিনি আর নেই মারা গেছেন। জাফর জানান ফুসফুসে সমস্যা থাকার কারনে তার শ্বাস কষ্ট হচ্ছিলো। এ কারনে তার অক্সিজেন সাপোর্ট লাগছিলো। আমরা চেয়েছিলাম তিনি মাউন্ট এডোরার আইসিইউ থেকে চিকিৎসা নিক। কিন্তু তিনি ওখানে থাকতে না চাওয়ার কারনে আমরা নিয়ে আসি। পরিবারের সদস্যরা জানান একের পর এক মৃত্যুর ঘটনায় আতঙ্কিত হয়ে পড়েছিলেন মোরন।

এদিকে ছোট ভাইয়ের মৃত্যুর পর তার আতঙ্ক আরো বেড়ে যায়। এ কারনে তিনি অসুস্থ হয়ে পড়েন। মোরনের মৃত্যুতে সিলেট আওয়ামী লীগে শোকের ছায়া নেমে এসেছে। তার মৃত্যুতে শোক প্রকাশ করেছেন, সিলেট মহানগর আওয়ামী লীগের সভাপতি মাসুক উদ্দিন আহমদ ও সাধারণ সম্পাদক অধ্যাপক জাকির হোসেন। তারা শোকাহত পরিবারের প্রতি সমবেদনা জানান।