সিলেটে আসছে শীতে করোনার দ্বিতীয় মারাত্মক ঢেউ

এনাম রহমান, সিলেট জেলা প্রতিনিধি: সিলেটে মানা হচ্ছে না সামাজিক দুরত্ব একশো জনের মধ্যে নিরানব্বই জনের মুখে মাস্ক নেই। আর মাত্র বাকি কিছুদিন দরজায় কড়া নাড়ছে শীত মৌসুম।

বিশেষজ্ঞ ডাক্তারদের মতে এ মৌসুমে সিলেটে বয়ে যেতে পারে করোনার ভয়ঙ্কর ‘দ্বিতীয় ঢেউ’ এবং সেটি হতে পারে আরও মারাত্মক- এমনটাই আশঙ্কা করছেন চিকিৎসকসহ স্বাস্থ্যসংশ্লিষ্টরা। বিশেষজ্ঞরা বলছেন শীতের সময় যেকোনও ভাইরাসজনিত রোগ বাড়ে।

এ সময়ে মানুষের শরীরে ইমিউনিটি কমে যায়। এ কারণে শীতে করোনার প্রকোপ বেড়ে যাওয়ার সম্ভাবা শতভাগ বেশি। তবে এখনই সঠিক পদক্ষেপ গ্রহণ করতে পারলে হয়তো সেটি রোধ করা সম্ভব বলে মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা। জানা গেছে,

গত ২৮ আগস্ট স্বাস্থ্য অধিদফতরের নবনিযুক্ত মহাপরিচালক অধ্যাপক ডা. আবুল বাসার মোহাম্মদ খুরশীদ আলম কোভিড-১৯ নিয়ে জনস্বাস্থ্য বিষয়ক জাতীয় কমিটির সঙ্গে অনলাইন সভা করেন। সেখানে সিলেটসহ আট বিভাগের দায়িত্বপ্রাপ্ত আট সদস্যই উপস্থিত ছিলেন। ওই সভায় করোনা বিষয়ক ৭টি এজেন্ডার মধ্যে ৩ নম্বরেই ছিলো শীতকালের করোনা পরিস্থিতি।

সেকেন্ড ওয়েভ-কে সমুদ্রের ঢেউ এর সঙ্গে তুলনা করেন বিশেষজ্ঞরা। সামুদ্রিক ঢেউ যেমন উঠা-নামা করে তেমনি করোনাভাইরাসের সংক্রমণও বাড়ে এবং তারপর আবার কমে আসে। এই উঠা-নামা বা বাড়া-কমার প্রত্যেকটা ধাপকে বলা হয় ঢেউ বা ওয়েভ। সিলেটে করোনার এই ‘সেকেন্ড ওয়েভ’ সম্পর্কে সোমবার (৭ সেপ্টেম্বর) স্বাস্থ্য অধিপ্তরের সিলেট বিভাগীয় কার্যালয়ের সহকারী পরিচালক ডা. আনিসুর রহমান বলেন শীতের মৌসুমে আবহাওয়ার কারণে ভাইরাস জনিত সর্দি-কাশি জ্বর বেশি হয়,

আবার যেকোনও ছোঁয়াচে রোগও শীতে বেশি হয়। একইসঙ্গে হিউমিলিটি যখন ড্রাই থাকে তখন সেটা বাতাসে বেশিক্ষণ থাকে। এ জন্য সংক্রমণও বাড়ে। তাই আগামী শীত মৌসুমে সিলেটে করোনার ‘সেকেন্ড ওয়েভ’র সমূহ আশঙ্কা রয়েছে। তিনি বলেন ‘অ্যাজমা বা শ্বাসকষ্ট যাদের থাকে, তাদের শীতের সময়ে এসব রোগের টেন্ডেসি বাড়ে।

এর কারণে ভাইরাসের শিকার হলে সেটা সিভিয়ার হয়ে যায়। তাই শীতকালের সাধারণ মানুষ একটু বেশি সচেতন থাকা উচিৎ। শীতে যে সেকেন্ড ওয়েভ আসতে পারে আর সেটা প্রথম ওয়েভের চেয়ে বেশিও হতে পারে মন্তব্য করে ডা. আনিস বলেন, সিলেটে শীতের আগে সংক্রমণের হার কমে গেলেও শীতের সময়ে আরেকটা ঢেউ আসতে পারে।

এর প্রতিকার হিসেবে স্বাস্থ্য অধিপ্তরের সিলেট বিভাগীয় কার্যালয়ের সহকারী পরিচালক বলেন শীতের সময় অধিকাংশ ঘর বদ্ধ থাকে এবং ভেন্টিলেশন কম থাকে বলে এসব রোগ বাড়ে। শীতে অনেকে ঘরের দরজা জানালা বন্ধ রাখে ঠান্ডা বাতাস যাতে গড়ে না ঢুকতে পারে, সেটা বাসা বাড়ি কিংবা অফিসগুলোতেও। এতে করে সবার হাঁচি-কাশি আবদ্ধ ঘরের বাতাসে জমা হয়।

তাই সংক্রমণ কমাতে ভেন্টিলেশনের ব্যবস্থা করতে হবে। তিনি বলেন, সেকেন্ড ওয়েভ এর জন্য এখনি প্রস্তুতি নেওয়া প্রয়োজন। এখনি প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নিতে পারলে সংক্রমণ কমানো যাবে। কন্টাক্ট ট্রেসিং, কোয়ারেন্টিন, আইসোলেশন জোরদার ও তদারকি বাড়াতে হবে। মানুষের মাঝে মাস্ক পরা ও শারীরিক দূরত্বের বিষয়টি নিশ্চিত করতে হবে।

শুরু থেকেই বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা বলে এসেছে- করোনা মহামারি নিয়ন্ত্রণে মানুষকে ঘরের ভেতরে থাকতে এবং শারীরিক দূরত্ব বজায় রাখার মতো পদক্ষেপ ভাইরাসের সংক্রমণের গতি কমিয়ে দিতে পারে। তাই একমাত্র সমাধান সচেতনতা এটা আমাদের নিজ থেকে করতে হবে।