সিলেটে আবার চার হাসপাতাল ঘুরে ভর্তি হতে না পেরে আওয়ামী লীগের নেতার স্ত্রীর মৃত্য

এনাম রহমান, সিলেট প্রতিনিধি:  সিলেটের চার হাসপাতাল ভর্তি হতে না পেরে এক আ.লীগ নেতার স্ত্রীর মৃত্যু হয়েছে। গত ৫ দিনে হাসপাতাল থেকে হাসপাতালে ঘুরে চিকিৎসাসেবা না পেয়ে মারা গেছেন ৩ জন। এই ঘটনাগুলোর সুখ এখনও কাটেনি। দুঃখজনক হলেও সত্য আজ আবারও একি ঘটনার জন্ম দিল সিলেটের হাসপাতাল গুলো। সিলেটের ৪ টি হাসপাতালে ভর্তি হতে না পেরে নির্মম পরিণতি মেনে নিতে হলো এক আওয়ামী লীগ নেতার স্ত্রীকে। কেনো সিলেটের ক্লিনিক হাসপাতাল গুলি মানুষের সঙ্গে এরকম আচারন করছে। মৃত্যুবরণকারী মহিলা সিলেট শহরতলী কুচাই ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক মো. আখতার হোসনের স্ত্রী।
তিনি মৃত্যুর আগ পর্যন্ত বুকেব্যথা ও শ্বাসকষ্টে ভোগছিলেন। খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, গত বৃহস্পতিবার (৪ জুন) দুপুরে কুচাই ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক স্ত্রীর বুকে প্রচণ্ড ব্যথা ও শ্বাসকষ্ট শুরু হয়। স্ত্রীকে নিয়ে আখতার হোসেন দক্ষিণ সুরমার নর্থ-ইস্ট মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে আসেন। সেখানের কর্তব্যরত ডাক্তার তার স্ত্রীকে দুইটি টেস্ট দিয়ে ভর্তি না করে বাসায় পাঠিয়ে দেন। এসময় কর্তব্যরত চিকিৎসক বলেন, ‘টেস্টগুলোর রিপোর্ট আসার পরে রোগীকে নিয়ে আগামীকাল (শুক্রবার) আসবেন। প্রয়োজনে কাল ভর্তি করবো।’ গতকাল শুক্রবার ভোরে রোগীর বুকেব্যথা ও শ্বাসকষ্ট বেরে শারীরিক অবস্থার অবনতি ঘটে। তখন তাহাকে নিয়ে নর্থ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ছুটে আসেন এবং সেখানে তার স্ত্রীকে ভর্তি করাতে চান। তখন হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ রোগীকে ‘সিট নেই বলে ফিরিয়ে দেয়া হয়।
পরে আখতার হোসেন সংকটাপন্ন অবস্থায় রোগীকে নিয়ে গতকাল দুপুর পর্যন্ত একে একে সিলেট নগরেরর পার্ক ভিউ মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল, শামসুদ্দিন আহমদ হাসপাতাল ও ইবসে সিনা হাসপাতালে চেষ্টা করে স্ত্রীকে ভর্তি করাতে কিন্তু সেখানেও পারেননি ভর্তি করাতে। ঐ হসপিটালগুলোর কর্তব্যরতদের প্রায় একই বক্তব্য ছিলো, যেসব টেস্ট দেয়া হয়েছে- সেগুলোর রিপোর্ট নিয়ে আসুন। তারপরে দেখবো রোগীর ভর্তি করা লাগবে কি না। তখন রোগীর অবস্থা খুব খারাপ।
কোনো উপায় অন্তর না পেয়ে দিশে হারা আখতার হোসেন এক প্রতিবেশী নার্সের সহযোগিতায় প্রায় ২০ হাজার টাকা দিয়ে একটি অক্সিজেন সিলিন্ডার কিনে বাড়িতে নিয়ে গিয়ে স্ত্রীকে দিতে শুরু করেন। কিন্তু শেষ রক্ষা হয়নি। প্রয়োজনীয় চিকিৎসা সেবা না পেয়ে দুপুর সাড়ে ১২টার দিকে স্বামী-সন্তান ও প্রিয়জনদের ছেড়ে পরপারে পাড়ি জমান তাহার স্ত্রী। আজ শনিবার আখতার হোসেন ক্ষুভ প্রকাশ করে বলেন কেনো আমাদের সাথে এমন হচ্ছে মনে হচ্ছে নিজ দেশে থেকে ও পরবাসে। জীবন-মৃত্যুর সন্ধিক্ষণে দাঁড়িয়ে আমরা যদি স্বাস্থ্যসেবা না পাই, তবে এই শহরে এত উন্নত ক্লিনিক হসপিটালগুলো দিয়ে কী লাভ যদি সাধারণ মানুষের উপকারে না আশে।তিনি এ বিষয়ে সরকারের পক্ষ থেকে কঠোর পদক্ষেপের দাবি জানান।