সিদ্ধিরগঞ্জে মটর শ্রমিককে পিটিয়ে হত্যা করল মাদক ব্যবসায়ীরা, আটক ২

সিদ্ধিরগঞ্জ প্রতিনিধি: মাদক ব্যবসায়ীদের পুলিশে ধরিয়ে দিয়েছে এমন সন্দেহে নারায়ণগঞ্জের সিদ্ধিরগঞ্জে শুভ (১৮) নামে এক মটর শ্রমিককে লোহার রড দিয়ে পিটিয়ে হত্যা করেছে মাদক ব্যবসায়ীরা। ঘটনার সময় শুভকে বাঁচাতে এগিয়ে আসলে মাদক ব্যবসায়ীদের হামলায় ফারুক, জুম্মন, রফিক, মোজাম্মেল ও মিথুন আহত হয়। এদের মধ্যে জুম্মনের অবস্থা আশংকাজনক। হত্যাকান্ডের মিশনে জড়িত মাদক ব্যবসায়ীদের মধ্যে জনি, আনিস, বিথি, অনিক, শাকিল, হৃদয়, রবিন, নজরূল হাসু বেগম, সেলিম, টুনি ও সজিবের নাম জানা গেছে।
শুক্রবার (১৪ ফেব্রুয়ারী) রাত সাড়ে ৮ টার দিকে সিদ্ধিরগঞ্জের শিমরাইল মধ্যপাড়া বৌ বাজার স্বর্ণকারের বাড়ীর পিছনে রাস্তার গলিতে এ ঘটনাটি ঘটে। খবর পেয়ে রাতেই সিদ্ধিরগঞ্জ থানার পরিদর্শক (অপারেশন) রুবেল, উপ পরিদর্শক হাফিজুর, মুজিবুর, গৌতম, সহকারি উপ পরিদর্শক মোমেন ও হুমায়ুন ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছেন। এ সময় রাত ১২টার দিকে পুলিশ মারিয়া ও অনিক নামে দুজনকে আটক করেন।
এ ঘটনায় ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে যাওয়া সিদ্ধিরগঞ্জ থানার পরিদর্শক (তদন্ত) আজিজ জানান নিহতের মাথার পিছনে রড দিয়ে আঘাত করা হয়েছে। অতিরিক্ত রক্তক্ষরনে শুভর মৃত্যু হয়।
নিহত শুভ শিমরাইল দক্ষিনপাড়া এলাকার রেজা মেম্বারের বাড়ীর ভাড়াটিয়া মৃত আব্দুর রবের ছেলে। সে ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কের কাঁচপুর সেতুর পূর্বপাড়ের সাজেদা হাসপাতাল সংলগ্ন একটি ট্রাকের গ্যারেজে মেকানিকের কাজ করতো।
হামলাকারী জনি শিমরাইল উত্তরপাড়া এলাকার চিহ্নিত মাদক ব্যবসায়ী। তার পিতার নাম তাহের আলী। জানির স্ত্রী বীথি, শাশুড়ি ধেন্দি নাজমা এবং শ্যালক আনিস চিহ্নিত মাদক ব্যবসায়ী। এই পুরো পরিবারটি এলাকার চিহ্নিত মাদক ব্যবসায়ী।
এদিকে ময়নাতদন্ত শেষে শনিবার (১৫ ফেব্রুয়ারি) বিকেল সাড়ে ৪টার দিকে এলাকায় লাশ নিয়ে আসলে শোকের ছায়া নেমে আসে।
নিহতের বোন রুমা জানায়, শুক্রবার রাত সাড়ে ৮টার দিকে গ্যারেজ থেকে কাজ শেষ করে বাসায় যাচ্ছিলেন শুভ। পথিমধ্যে শিমরাইল মধ্যপাড়া স্বর্ণকারের বাড়ীর পিছনে গলির রাস্তায় দেখা হয় ইয়াবা ব্যবসায়ী জনি ও আনিসসহ কয়েকজন মাদক ব্যবসায়ীর। এসময় তাকে একা পেয়ে কিছু দিন আগে জনির শ্যালক আনিসকে পুলিশে ধরিয়ে দিয়েছে সে সন্দেহে তারা তাকে রড দিয়ে পিটিয়ে গুরুতর রক্তাক্ত জখম করে। এলাকার কয়েকজন যুবক শুভকে উদ্ধার করতে গেলে মাদক ব্যবসায়ী জনি, আনিস, অনিক, শাকিল, হৃদয়, রবিন, হাসু বেগম, বিথি, সেলিম, টুনি, নজরুল ও সজিবসহ অজ্ঞাত কয়েকজন নারী পুরুষ তাদের উপর হামলা চালায়। হামলায় ফারুক, জুম্মন, রফিক, মোজাম্মেল ও মিথুন আহত হয়। এদের মধ্যে জুম্মনের অবস্থা আশংকাজনক।
পরে স্থানীয় লোকজন সংঘবদ্ধ হয়ে এগিয়ে আসলে তারা পালিয়ে যায়। পরে আহতদের উদ্ধার করে প্রথমে স্থানীয় সাজেদা হাসপাতালে নিয়ে গেলে তাদের অবস্থা আশঙ্কাজনক হওয়ায় ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে প্রেরণ করা হয়। ঢাকা মেডিকেলে নিয়ে গেলে সেখানে চিকিৎসারত অবস্থায় শুভর মৃত্যু হয়। জুম্মনকেও আশঙ্কাজনক অবস্থায় চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে বলে জানা গেছে।
এলাকাবাসীর অভিযোগ, মাদেকর বিরুদ্ধে পুলিশে জিহাদ ঘোষনা হলেও এ এলাকাটিতে রহস্যজনক কারনে মাদক রোধ হচ্ছে না। আর মাদককে কেন্দ্র করে প্রায়ই অপরাধ কর্মকান্ড ঘটছে।
হত্যার ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে সিদ্ধিরগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো: কামরুল ফারুক জানায়, এ ঘটনায় (শনিবার বিকেল ৫টা) থানায় কেউ কোনো অভিযোগ করেননি। রাতেই দুজনকে আটক করা হয়েছে। জিজ্ঞাসাবাদ চলছে। অভিযোগ পেলে আইনগত ব্যবস্থা নেয়া হবে।