সাড়ে চার কোটি টাকার কাজ হাতিয়ে নিতে চেষ্টা করছেন নালিতাবাড়ী পৌর মেয়রের

সোহেল রানা, শেরপুর প্রতিনিধি : শেরপুরের নালিতাবাড়ী পৌরসভার কর্তৃপক্ষ (মেয়র) কর্তৃক প্রায় সাড়ে চার কোটি টাকা মূল্যের নগর উন্নয়ন প্রকল্পের কাজ হাতিয়ে নিতে চেষ্টার অভিযোগ পাওয়া গেছে। পৌরসভার বেশিরভাগ ঠিকাদারী লাইসেন্স ও তাদের ট্রেড লাইসেন্স নবায়ন না করে পছন্দমতো ঘনিষ্ঠ ঠিকাদারদের লাইসেন্স নবায়ন করে এ কৌশল অবম্বন করা হয়েছে বলে জেলা প্রশাসক বরাবর ভুক্তভোগীদের লিখিত অভিযোগে জানা গেছে।

গত ২২ জুলাই জেলা প্রশাসক বরাবর লিখিত অভিযোগের প্রেক্ষিতে জানা গেছে, ২০২০-২০২১ অর্থবছরে নগর উন্নয়ন প্রকল্পের আওতায় প্রায় সাড়ে চার কোটি টাকা বরাদ্দে ৬টি কাজের দরপত্র আহবান করে পৌর কর্তৃপক্ষ। ওই দরপত্রে ২৭ জুলাই পর্যন্ত শিডিউল বিক্রি ও ৬ আগস্ট পর্যন্ত দরপত্র জমাদানের শেষ তারিখ নির্ধারণ করা হয়।

অভিযোগ রয়েছে, পৌরসভার লাইসেন্সধারী ঠিকাদারদের মধ্যে পৌর মেয়রের পছন্দমতো ঘনিষ্ঠ কয়েকজন ঠিকাদারের লাইসেন্স নবায়ন করা হলেও অন্যান্য ঠিকাদারের ঠিকাদারী লাইসেন্স ও ট্রেড লাইসেন্স নবায়ন করে দেওয়া হচ্ছে না। সংশ্লিষ্ট ঠিকাদারেরা বারবার পৌরসভায় গেলেও নানা বাহানায় তাদের ঘণ্টার পর ঘণ্টা অপেক্ষা করিয়ে ফেরত পাঠানো হয়। কখনও কখনও সন্তোষজনক উত্তর না দিয়ে উল্টো আপত্তিকর কথাবার্তা বলে দেওয়া হয়। ফলে পৌর কর্তৃপক্ষের (মেয়রের) পছন্দের নির্দিষ্ট ঠিকাদার ব্যতীত অন্যান্য ঠিকাদারগণ শিডিউল ক্রয় ও দরপত্র দিতে পারছেন না।

অভিযোগে বলা হয়, পৌর কর্তৃপক্ষ (মেয়র) তার পছন্দের একাধিক নামে লাইসেন্স থাকা ঠিকাদার দিয়ে প্রায় সাড়ে চার কোটি টাকার কাজ বাগিয়ে নিতে এ কৌশল অবলম্বন করেছেন। এতে যেমনি অন্যান্য ঠিকাদার কাজ থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন তেমনি সরকার লাখ লাখ টাকা রাজস্ব আয় থেকে বঞ্চিত হয়ে পড়ছে।

প্রথম শ্রেণির ঠিকাদার জাহাঙ্গীর আলম ও আব্দুল লতিফ জানান, ইতিপূর্বেও পৌর মেয়র আবু বক্কর সিদ্দিক একই কায়দায় তার ঘনিষ্ঠ লোকদের মাধ্যমে বিভিন্ন উন্নয়ন মূলক কাজ নিজেদের লোক দিয়ে বাগিয়ে কোটি কোটি টাকা হাতিয়ে নিয়েছেন। বর্তমানে কোন জটিলতা না থাকলেও কৌশল করে নানা বাহানায় আমাদের লাইসেন্স নবায়ন করা হচ্ছে না।

পৌর মেয়র আবু বক্কর সিদ্দিক এসব অভিযোগ অস্বীকার করে জানান, পৌর কর ও পানির বিলসহ অন্যান্য পাওনা পরিশোধ না করায় লাইসেন্স নবায়ন করা হচ্ছে না। পৌরসভার যাবতীয় পাওনা দিলে লাইসেন্স নবায়ন করে দেওয়া হবে।

এ বিষয়ে জানতে শেরপুরের জেলা প্রশাসক আনার কলি মাহবুবকে মোবাইল ফোনে একাধিকবার চেষ্টা করে পাওয়া যায়নি। তবে স্থানীয় সরকার বিভাগের উপ-পরিচালক ও অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক এটিএম জিয়াউল ইসলাম জানিয়েছেন, আমার হাতে এখনও অভিযোগ এসে পৌছায়নি। অভিযোগ পেলে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেব।