সারিয়াকান্দিতে মুক্তি যুদ্ধে শহীদ হলেও শহীদ বীর মুক্তিযোদ্ধা মমতাজ উদ্দিনের নাম স্বরণ করার কেউ নেই

জাফরুল সাদিক, সারিয়াকান্দি (বগুড়া) প্রতিনিধি: সারিয়াকান্দির ফুলবাড়ী ইউনিয়নের বালুয়ারতাইড় গ্রামের শহীদ বীর মুক্তিযোদ্ধা মমতাজ উদ্দিনের নাম স্বাধীনতার ৪৯বছর পরেও স্বরণ করার কেউ নেই । এমনকি এলাকার স্মৃতীতেও তাঁর নাম নেই এখন অজানা হয়েছে সাধারণ মানুষের মুখে।এখন এমন আক্ষেপ করে দিন কাটছে তাঁর পরিবারের সদস্য এবং সহযোদ্ধাদের। ওই শহীদ বীর মুক্তিযোদ্ধা বালুয়ারতাইড় গ্রামের মৃত আমির উদ্দিন ফকিরের ছেলে। তিন ভাই চার বোনের মধ্যে সে ছিল তৃতীয়। স্বাধীনতা যুদ্ধের ডাক শুনে তিনি ঝাঁপিয়ে পড়েছিলেন এ স্বাধীকার আন্দোলনে।

তিনি ভারত থেকে রনকৌশলের প্রশিক্ষণ নিয়ে মুজিব বাহিনীতে তালিকা ভুক্ত হয়ে স্বাধীনতা যুদ্ধে সম্মুখ যোদ্ধা হিসাবে বগুড়ার সারিয়াকান্দি এলাকায় যুদ্ধ করার জন্য টিম লিডার হিসাবে দায়িত্ব পালন করছিলেন। দিন নেই রাত নেই নাওয়া খাওয়া ছেড়ে, স্বাধীনতার জন্য টগবগে এই তরুন মমতাজ উদ্দিন পাক হানাদার বাহিনীকে পরাস্ত করতে তাঁর ভূমিকা ছিল উল্লেখ করার মতো। তিনি সে সময় ফুলবাড়ী গমীর উদ্দিন বহুমুখি উচ্চ বিদ্যালয়ে শিক্ষকাতায় যোগ দেন। কিন্তু বেশি দিন চাকুরী করতে পারেননি। সব কিছু বির্ষজন দিয়ে তিনি স্বাধীনতা যুদ্ধে অংশ নিয়ে ২৮শে নভেম্বর ভোর থেকে সারিয়াকান্দি সদর পাক হানাদার মুক্ত করার জন্য যুদ্ধ করতে থাকেন। সহযোদ্ধাদের নিয়ে যুদ্ধ করার এক পর্যায়ে সকাল ৮টার দিকে সারিয়াকান্দি সদর থেকে ১কিলোমিটার দক্ষিণে গোসাইবাড়ীর-সোনারপাড়া নিকট বাঙ্গালী নদীর পাড়ে পাক হানাদার বাহিনীর বুলেটে তিনি শহীদ হন।

সারিয়াকান্দি উপজেলা মুক্তিযোদ্ধা কমান্ডের প্রতিষ্ঠাতা কমান্ডার বীর মুক্তিযোদ্ধা আব্দুল কুদ্দুস বলেন, তিনি তো অসাধারণ রনকৌশল নিয়ে যুদ্ধ করতেন। কোন অবস্থাতেই পিছ্পা হওয়ার মতো ছেলে ছিল না সে। দেশকে হানাদার মুক্ত করাই ছিল তাঁর একমাত্র নেশা। তিনি শহীদ হওয়ার পরপরই সহযোদ্ধারা সারিয়াকান্দি সদরের চারিদিক থেকে ঘেরাও করে যুদ্ধ করা শুরু করলে সারিয়াকান্দি উপজেলা সদর পাক হানাদার মুক্ত হয়। অথ্যাৎ ২৮শে নভেম্বর দিন কেই সারিয়াকান্দি পাক হানাদার মুক্ত দিবস হিসাবে পালন করা হয়। এছাড়া তিনি আরো বলেন, তাঁর নাম শহীদের খাতায় লেখা রয়েছে ঠিকই, তবে আজ পর্যন্ত তাকে নিয়ে কোন আলোচনা ও স্মরণ সভা করা হয় নি। করা হয়নি কোন রাস্তার নাম বা এলাকার নাম।

প্রথম দিকে সারিয়াকান্দিকে মমতাজ নগর করার কথা বলা হলোও পরবর্তী তা বিভিন্ন কারণে সে নাম করণ ভেস্তে যায়। তার ভাতিজা আবু জাফর বলেন, বালুয়ারতাইড় গ্রামে তাঁর কবর রয়েছে। সেটি দীর্ঘদিন অবহেলা, অযত্নে পড়ে ছিল। তবে আমরা ক’বছর আগে পারিবারিক উদ্যোগে সে কবরটাকে সামান্য সংস্কার করতে সক্ষম হয়েছি। তাঁর নাম কোন জাতীয় দিবসে নেওয়া হয় না। স্বাধীনতার পরপরই কিছু বছর জেলা ম্যাজিস্ট্যেষ্ট ও থানা পর্যায়ের কর্মকর্তারা গিয়ে কবর জিয়ারত করতো এখন আর তাও করে না।