সারিয়াকান্দিতে জামায়াত নেতার কারণে মসজিদের মুসল্লিরা দু‘ভাবে বিভক্ত

 জাফরুল সাদিক, সারিয়াকান্দি (বগুড়া) প্রতিনিধি : এবার জামায়াত নেতার নেতৃত্বে একটি ঐতিহ্যবাহী মসজিদের মুসল্লিরা দু‘ভাগে বিভক্ত হয়ে পড়েছেন। একটি পক্ষ উপজেলার নির্বাহী অফিসারের নিকট আবেদন করেও কোনো সন্তোষজনক ফয়সালা না পাওয়ায় শেষ পর্যন্ত আদালতের সরণাপন্ন হয়েছেন। এ ঘটনাটি ঘটেছে বগুড়ার সারিয়াকান্দি উপজেলার কামালপুর ইউনিয়নের কাঁশাহার গ্রামে। প্রত্যক্ষদর্শী ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, কাঁশাহার গ্রামে জামে মসজিদ নামে মসজিদটি প্রায় ১৬৫ বছর পূর্বে গ্রামের সামনে দিয়ে বয়ে যাওয়া মানাস খালের পশ্চিম ধারে প্রতিষ্ঠিত করেছিলেন গ্রামের মুসল্লিরা।

বর্তমানে প্রায় ৩ শতাধিক মানুষ একসাথে নামাজ আদায় করে আসছেন এ মসজিদে। তবে প্রায় ৫০ বছর পূর্বে টিন সেট ঘর থেকে উন্নতি করে ছাদ ঢালাই দিয়ে বিল্ডিং নির্মাণ করা হয়। সে থেকে অত্যন্ত আরাম-আয়াসে মুসল্লিরা জুমার নামাজ সহ সব ধরনের নামাজ আদায় করে আসছেন। তবে গ্রামের লোকসংখ্যা বৃদ্ধি পাওয়ায় ২০১৬ সালে মসজিদটি দ্বি-তল ভবনে উন্নতি করার সিন্ধান্ত গৃর্হীত হয়। কিন্তু জামায়াত ইসলামের রোকন সদস্য ও ৩ বছর পূর্বে মসজিদ কমিটির সভাপতি নিযুক্ত হয়ে মোঃ দেলোয়ার হোসেন মসজিদটি অন্যত্র স্থান্তারের চিন্তাভাবনা করেন। সে থেকে মসল্লিদের মধ্য অসন্তোশ, ক্ষোভ ও উত্তোজনা বিরাজ করতে থাকে। এ নিয়ে স্থানীয় ভাবে দফায় দফায় বৈঠকের করেও উক্ত দেলোয়ার হোসেন ও তার অনুসারিরা মসজিদ স্থান্তারের অনড় থেকে জান।

পরে আরিফুলের নেতৃত্বে মুসল্লিদের একাংশ স্থানীয় উপজেলা নির্বাহী অফিসারের (ইউএনও) নিকট ৮ই জুলাই একটি আবেদন করা হয়। কিন্তু এ আবেদনও সন্তোস জনক কোন ফয়সালা না হওয়ায় মুসল্লিদের একাংশ বগুড়া জেলা জুডিসিলাল ম্যাজিস্ট্রেট সারিয়াকান্দি আমলী আদালতে মামলা দায়ের করেছেন। বর্তমানে সেখানে প্রকাশ্য বিরোধ, উত্তোজনা বিরাজ করছে। অন্য অংশের নেতা মোঃ আরিফুল ইসলাম বলেন, তারা অন্য একটা মসজিদ করে করুক। আমাদের এই মসজিদের টাকা দিয়ে নয়। এ মসজিদের টাকা মসজিদেই থাকবে। অন্য একটি মসজিদ করতে চাইলে তাদের নতুন ভবনের অর্থ সংগ্রহ করে নতুন একটি মসজিদ নিমার্ণ করতে হবে। এব্যাপারেও আমরা আদালতে আরেকটি মামলা করেছি।

এ ব্যাপারে কামালপুর ইউপি চেয়ারম্যান হেদাইদুল ইসলাম বলেন, ওখানকার পরিবেশ খুবই ঘোলাটে ছিল। যে কারণে এমপি মহোদয় ও ইউএনও রাসেল মিয়ার নির্দেশে আমরা সেখানে একটি সিন্ধান্তে উপণিত হয়েছি। এ সিন্ধান্ত মোতাবেক মসজিদ কমিটির কাছে রক্ষিত প্রায় ৯ লক্ষ টাকার দেলোয়ার হোসেনের নেতৃত্বে অংশকে ৭০ভাগ ও আরিফুল হোসেরন নেতৃত্বে থাকা অংশকে ৩০ভাগ টাকাসহ স্থাবর-অস্থাবর সম্পত্তির ভাগ করে নেওয়ার লিখিত নির্দেশনা দেওয়া হয়।

মসজিদ কমিটির সাধারণ সম্পাদক মোঃ মোজাম্মেল হোসেন বলেন, গত ২০ অক্টোবর চন্দনবাইশা শাখা, জনতা ব্যাংক থেকে ৪ লক্ষা ৩০ হাজার ১০০ শত টাকা উত্তোলন করা হয়েছে। এই টাকা দিয়ে আমরা ৪/৫ শ গজ দূরে আরেকটি মসজিদ ভবন নিমার্ণ করার উদ্দ্যেগ নিয়েছি। এব্যাপারে কাঁশাহার জামে মসজিদ কমিটির সভাপতি মোঃ দেলোয়ার হোসেন বলেন, পুরাতন ভবনটি নদী ভাঙ্গনের মুখে পরায় আমরা দ্বিতল ভবন করার সিন্ধান্ত থেকে সরে এসে অন্যস্থানে নতুন ভবন করব। এজন্য আমাদের প্রয়োজনীয় জমি ক্রয় করা হয়েছে। খুব শীর্ঘই ভবন নিমার্ণ কাজ শুরু করা হবে। যে মূল্যে এ নতুন মসজিদ ভবন নিমার্ণ করা হবে।