সারিয়াকান্দিতে অবৈধ বালু ব্যবসায়ীরা কৌশল পাল্টিয়ে রাতের আধারে বালু তুলছেন

জাফরুল সাদিক, সারিয়াকান্দি (বগুড়া) প্রতিনিধি: সারিয়াকান্দিতে যমুনা ও বাঙালী নদীর সর্ববৃহৎ বালুমহাল বছর পর বছর চলছে ইজারা ছাড়াই। এ অবস্থায় মাঝে মধ্য প্রশাসনের হস্তক্ষেপ হলেও তা একেবারে দায়সাড়া গোছের হওয়ায় বালুমহাল থেকে প্রতিবছর সরকারের রাজস্ব গচ্চা যাচ্ছে শ’শ কোটি টাকা। বর্তমানে প্রশাসনের শক্ত অভিযানের কারনে দিনের পরিবর্তে রাতের আধারে বালুদস্যুরা বালু উত্তোলন ও বিক্রি করছেন। কোন কোন ক্ষেত্রে এতে বাধা দিলে বালুদস্যুরা অকথ্য ভাষায় গালিগালাজ সহ জীবন নাশের হুমকীও দিচ্ছেন।

স্থানীয়রা, প্রত্যক্ষদর্শী ও নির্ভরযোগ্য সূত্রে জানা গেছে, সারিয়াকান্দি উপজেলার যমুনা নদীর কাজলা, কুড়িপাড়া, বেণিপুর ও দক্ষিণ দীঘলকান্দি এলাকায় সরকার ঘোষিত বালুমহাল আছে। কাজলা, কুড়িপাড়া ও বেণিপুর থেকে প্রায় ১৪লাখ সেপ্টি ও দক্ষিণ দীঘলকান্দি থেকে ৮শ সিএফটি বালু পাওয়া যাবে বলে সংশ্লিষ্টরা আশা প্রকাশ করেছেন। এই চারটি বালুমহাল থেকে কমপক্ষে ২২লাখ সিএফটি বা তারও অধিক বালু উত্তোলন করা যাবে প্রতি বছর এমন আশা সকল মহলের। বালু বিক্রি করে সরকারের মোটা অংকের টাকা আয় করার সম্ভাবনা থাকলেও প্রভাবশালী মহলের সিন্ডিকেটের কারণে আজ পর্যন্ত বালু মহাল ডাক হয়নি।

তবে সর্বশেষ ডাক হয়েছিল ২০১০ সালে। ওই সময় থেকে শুরু করে আজ পর্যন্ত বালু মহাল থেকে বালু হরিলুট করার পর রমরমা বানিজ্য চলছে। প্রতি রাতে কমপক্ষে দেড়’শ থকে দু’শ ট্রাক বালুর চালান যাচ্ছে দেশের বিভিন্ন স্থানে। তবে সম্প্রতি উপজেলা প্রশাসনের কঠোর অবস্থা গ্রহণ করার কারনে মাস খানেক বালু তোলা একেবারে বন্ধ ছিল। কিন্তু বালু উত্তোলন কারীরা বর্তমানে ‘দিনের বেলায় মুন্সিগিড়ি, রাতের বেলায় গরু চরি’ এমন সূত্র ব্যবহার করছেন। তারা কৌশল পাল্টিয়ে দিনের পরিবর্তে সন্ধ্যা রাত থেকে শুরু করে ভোর পর্যন্ত ড্রেজার মেশিন দিয়ে বালু উত্তোলন করে তা বিক্রি করছেন।

এ অবস্থায় বালু তোলা ও বিক্রির সাথে জড়িত সংশ্লিষ্টরা আঙ্গুল ফুলে কলাগাছ হওয়ার উপক্রম হয়েছেন। যমুনা ও বাঙালী নদীর কমপক্ষে দেড়’শ পয়েন্ট থেকে বালু তোলা হচ্ছে। এরমধ্যে বাঙালী নদীর ভেলাবাড়ী, জোড়গাছা ও ছাইহাটা এলাকায় ৪০টি, যমুনা নদীর কাজলা, টেংরাকুড়া, জামথল, মানিকদাইড় এলাকায় ৪৫টি, কর্ণিবাড়ি, বোহাইল, আওলাকান্দি, ধারাবর্ষা, দড়িপাড়ায় ৩টি, সদয়, হাটশেরপুর, বাঙালী নদীর নারচী ও পৌরএলাকায় কমপক্ষে ৪৫টি পয়েন্ট থেকে বালুদস্যুরা অবৈধভাবে ড্রেজার মেশিন বসিয়ে বালু উত্তোলন করছেন। অপরিকল্পিত ও যত্রতত্রভাবে বালু তোলায় সরকারের কেবল মোটা অংকের টাকা কেবল গচ্চা যাচ্ছে না, ক্ষতিগ্রস্থ ও হুমকীর মুখে পড়েছে ব্রীজ, কালভার্ট, রাস্তাঘাট, গ্রোয়েন বাধ, বসতবাড়ী সহ বহু সরকারি বেসরকারি স্থাপনা। বালু উত্তোলন ও অবৈধ বালু ব্যবসায়িরা এতটাই প্রভাবশালী যে, এদের ভয়ে কেউ মুখ খুলতে সাহস পাচ্ছেন না।নারচী নেউরগাছা গ্রামের আবু হাসান মানিক বলেন, একই গ্রামের ফজলুর রহমান আকন্দের ছেলে মিল্টন আকন্দ(২৫) প্রায় ৫ বছর হলে আমার বাড়ির পাশের্^ ব্যবসার উদ্দেশ্যে অবৈধভাবে ড্রেজার মেশিন দিয়ে বালু তুলছেন। এতে রাস্তাঘাট ব্রীজ, কালভার্ট, ফসলীজমি ও বসতবাড়ী হুমকীর মুখে পড়ছে।

অতিষ্ট হয়ে আমি সারিয়াকান্দির এসিল্যান্ড, ইউএনও, ডিসি ও এমপি মহোদয়ের কাছে অভিযোগ দেয়ায় মিল্টন এখন আমাকে হুমকী ধুমকী ও শাসিয়ে বেড়াচ্ছেন। সুযোগ পেলে সে আমাকে জখম, গুম, খুন করবেন। এজন্য থানায় গত ৩০ সেপ্টেম্বর একটি সাধারণ ডাইরী করেছি। নং- ১০৯৭। এব্যাপারে সহকারি কমিশনার (ভূমি) দেওয়ান আকরামুল হক বলেন, অবৈধ বালু উত্তোলন কারীদের বিরুদ্ধে আমাদের অভিযান শক্ত আছে। কিন্তু এখন যদি তারা কৌশল পাল্টিয়ে দিনের পরিবর্তে রাতে উত্তোলন করে আমরা সে সময় অভিযান চালাব। আমাদের কোন রাতদিন নেই।