সাভারে ত্রান প্রতিমন্ত্রির উপস্থিতিতে জরুরী দূর্যোগ ব্যাবস্থাপনা সভা অনুষ্ঠিত

বাবুল আহমেদ, সাভার উপজেলা প্রতিনিধিঃ দেশের চলমান বন্যা মোকাবেলায় বানভাসি মানুষের মাঝে সরকার ত্রাণ পৌছে দিচ্ছে বলে জানিয়েছেন দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ প্রতিমন্ত্রী ডা.এনামুর রহমান(এমপি) মঙ্গলবার (৪আগস্ট) দুপুরে সাভার উপজেলা পরিষদে উপজেলা দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা কমিটির সভায় যোগ দিয়ে সাংবাদিকদের সাথে আলাপকালে তিনি একথা বলেন।

দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ প্রতিমন্ত্রী ডা.এনামুর রহমান এসময় আরও বলেন, দেশের কোন জেলায় বানভাসীরা ত্রাণ পায়নি এমন নজির নেই। সরকার সব বন্যার্তদের মাঝে ত্রাণ পৌছে দিচ্ছে। এই দুর্যোগের সময় কোন মানুষ না খেয়ে নেই। তিনি আরও বলেন, বাংলাদেশ এখন তৃতীয় দফা বন্যা মোকাবেলা করছে। যমুনাসহ বিভিন্ন নদ নদীর পানি হ্রাস পাচ্ছে। আগামী ৭২ ঘন্টা পর্যন্ত গঙ্গা, পদ্মা নদীর পানি স্থিতিশীল রয়েছে। রাজধানী ঢাকার আশেপাশের বন্যার পানি স্থিতিশীল রয়েছে। আগামী ২৪ ঘন্টায় নাটোরসহ দেশের বিভিন্ন জেলায় বন্যা পরিস্থিতি উন্নতি হবে।

প্রতিমন্ত্রী বলেন, ৩৩ টি জেলা বন্যা কবলিত হয়েছে এবং সেখানে নগদ টাকা শুকনা খাবার গবাদী পশুর জন্য খাদ্য টিন গৃহস্থালির জন্য অর্থ সাহায্য দেওয়া হয়েছে। এছাড়া বিশটি অতি আক্রান্ত জেলায় যেখানে আশ্রয় কেন্দ্র খোলা হয়েছে সেখানে রান্না করা খাবার বিতরণ করা হচ্ছে।

এ পর্যন্ত সরকার ১৬ হাজার দুই’শ ১০ মেট্রিকটন চাল, চার কোটি ১৪ লক্ষ পঞ্চাশ হাজার টাকা, শিশু খাদ্যের জন্য এক কোটি ৩৬ লক্ষ টাকা, গবাদী পশুর জন্য ২ কোটি ৮৪ লক্ষ টাকা, গৃহ মঞ্জুরী বাবদ নয় লক্ষ টাকা এবং শুকনো খাবার বাবদ এক লক্ষ ৫৮ হাজার টাকা বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে। এছাড়া ঈদ উপলক্ষে বন্যার্ত মানুষের খাদ্য সহয়তার জন্য এক লক্ষ ছয় হাজার মেট্রিকটন চাল এক কোটি ছয় লক্ষ পরিবারের মাঝে বিতরণ করা হয়েছে। এছাড়া দেশের বিভিন্ন স্থানে আশ্রয় কেন্দ্র খোলা হয়েছে ১৫’শ ৮৮টি। সেখানে ৭৭ হাজার সাত’শ ৭৬ জন লোক আশ্রয় কেন্দ্রে অবস্থান নিয়েছে এবং প্রায় ৪৩ লক্ষ লোক বন্যা কবলিত হয়েছিলো।

এসময় অন্যান্যদের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন সাভার উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান মঞ্জুরুল আলম রাজীব,ভাইস চেয়ারম্যান শাহাদাৎ হোসেন খান,মহিলা ভাইস চেয়ারম্যান ইয়াসমিন আক্তার সুমি,উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা শামীম আরা নীপা,উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা একরামুল হকসহ বিভিন্ন ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান ও সরকারী দপ্তরের কর্মকর্তারা।