সাপটা ইস্যু জটিলতায় ৩ সপ্তাহ ধরে আমদানি কার্যক্রম বিঘ্নিত বেনাপোল কাস্টমসে

জসিম উদ্দিন, বেনাপোল প্রতিনিধি: সাফটা চুক্তির আওতায় ইস্যুকৃত সার্টিফিকেট অব অরজিনে ডিজিটাল স্বাক্ষর কপি গ্রহণ না করায় দেশের সর্ববৃহৎ স্থলবন্দর বেনাপোল কাস্টমসে বেশ কিছু পণ্য আটকা পড়ে আছে। ইতোমধ্যে ২১ দিন পার হয়ে গেলেও এ ব্যাপারে কোন কার্যকরী ব্যবস্থা নেয়নি বাণিজ্য মন্ত্রণালয়, জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর) ও ভারতীয় বাণিজ্য মন্ত্রণালয়। সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন, সময় বৃদ্ধি না করার ফলে গত ১ জুলাই থেকে সাফটা চুক্তির অধীনে আমদানিকৃত পণ্য ডিজিটাল স্বাক্ষর কপি দিয়ে ছাড় দিচ্ছে না বেনাপোল কাস্টমস কর্তৃপক্ষ।

এর ফলে দেশের বিভিন্ন শিল্প প্রতিষ্ঠানের ও বাণিজ্যিক আমদানিকারকরা আমদানিকৃত এসব পণ্য চালান খালাস করতে না পেরে আর্থিক ক্ষতির মুখে পড়েছেন। মহামারি করোনা ভাইরাসের কারণে এমনিতেই ব্যবসা প্রায় বন্ধের পথে, অন্যদিকে আমদানি পণ্য খালাস করতে না পেরে দিন দিন বন্দরের গুদাম ভাড়া বেড়েই চলছে। তারপর রয়েছে ঈদের ছুটি। আমদানিকৃত এসব পণ্য চালান কবে ছাড় হবে তা নিয়েও দুশ্চিন্তায় রয়েছে আমদানিকারকরা। সংশ্লিস্ট সূত্রে জানা যায়, সাফটা (সাউথ এশিয়ান ফ্রি ট্রেড এরিয়া) সুবিধার আওতায় পণ্য আমদানিতে বেশকিছু শর্ত রয়েছে। এর মধ্যে অন্যতম হলো যে দেশ থেকে পণ্য আসবে সে দেশের দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তাদের স্বাক্ষরযুক্ত অরজিনাল কপি আমদানিকারককে স্ব স্ব কাস্টমস হাউজে অন্যান্য কাগজপত্রের সাথে দাখিল করতে হবে এবং জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের অনলাইনেও একটি স্বাক্ষরযুক্ত কপি পাঠাতে হবে।

এতদিন এভাবেই পণ্য চালান খালাস হচ্ছিল বিভিন্ন কাস্টমস হাউজ থেকে। কিন্তু বৈশ্বিক করোনা ভাইরাসের (কোভিড-১৯) কারণে বর্তমানে বিভিন্ন অফিস আদালতের কার্যক্রম অনলাইনে চলছে। সে কারণে ভারতীয় বাণিজ্যমন্ত্রণালয় গত ৭ এপ্রিল প্রথমে একটি চিঠি দিয়ে সে দেশ থেকে ইস্যুকৃত সার্টিফিকেট অব অরজিনে ডিজিটাল স্বাক্ষরযুক্ত অথবা স্বাক্ষরবিহীন ইলেকট্রনিক্যালি গ্রহণ করতে অনুরোধ জানায়। তা ৩০ জুন পর্যন্ত চিঠিতে উল্লেখ করা হয়। সেই চিঠির আলোকে বাংলাদেশ বাণিজ্য মন্ত্রণালয় গত ২৭ এপ্রিল এক চিঠিতে (স্বারক নং- ২৬.০০.০০০০.১২২.৪৩.০০১-১৬) জাতীয় রাজস্ব বোর্ডকে বিষয়টি জানায়। এদিকে জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের দ্বিতীয় সচিব (কাস্টমস : আন্তর্জাতিক বাণিজ্য ও চুক্তি) আকতার হোসেন স্বাক্ষরিত সকল কাস্টমস হাউজে পাঠানে চিঠিতে জানানো হয় বর্তমানে করোনা ভাইরাসের প্রার্দুভাবের কারণে দাপ্তরিক কার্যক্রম সীমিত বা বন্ধ থাকায় কোন কোন দেশ সাপটা চুক্তির আওতায় মূল সার্টিফিকেট অব অরজিন ইস্যু করতে পারছে না। তবে এর পরিবর্তে ডিজিটাল স্বাক্ষরযুক্ত অথবা স্বাক্ষরবিহীন সার্টিফিকেট অব অরজিন ইলেকট্রনিক্যালি ইস্যু করা হচ্ছে।

এই বিশেষ পরিস্থিতিতে সাপটা চুক্তির আওতায় শুল্কায়নকালে মূল সার্টিফিকেট অব অরজিন দাখিল করা না হলে এর পরিবর্তে ডিজিটাল স্বাক্ষরযুক্ত অথবা স্বাক্ষরবিহীন সার্টিফিকেট অব অরজিন গ্রহণপূর্বক পণ্য চালান সমূহ সাময়িক শুল্কায়ন করে খালাস প্রদানের নির্দেশক্রমে অনুরোধ করা হয়। তবে চিঠিতে বলা হয় এই আদেশের কার্যকারিতা ৩০ জুন পর্যন্ত বলবৎ থাকবে। সেই চিঠির আলোকে ৩০ জুনের মধ্যে ইস্যুকৃত সার্টিফিকেট অব অরজিনের মাধ্যমে পণ্য চালান খালাস হচ্ছিল। ৩০ জুনের পরে ইস্যুকৃত কোন সার্টিফিকেট অব অরজিন কাস্টমস কর্তৃপক্ষ গ্রহণ করছে না। যে কারণে আমদানিকারক ও সিএন্ডএফ এজেন্ট পণ্য খালাসে মারাত্মকভাবে হয়রানির শিকার হচ্ছেন। ইতোমধ্যে ভারত থেকে আমদানিকৃত বেশ কিছু পণ্য বেনাপাল বন্দরে আটকে আছে। যার ফলে বিভিন্ন আমদানিকারকরা আর্থিকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছেন। নাম প্রকাশ না করার শর্তে বেনাপোল কাস্টমস হাউজের এক কর্মকর্তা জানান, এটা বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের সিদ্ধান্ত।

ভারতীয় বাণিজ্য মন্ত্রণালয় যদি আবারও সময় বাড়ানোর অনুরোধ জানায়, অবশ্যই এই মহামারির সময়ে সময় বৃদ্ধি করে বাংলাদেশ বাণিজ্য মন্ত্রণালয় এনবিআরকে চিঠি দিলে তারা (এনবিআর) সেটা বাড়িয়ে দেবে। যেহেতু বাণিজ্য মন্ত্রণালয় একটি তারিখ নির্দিষ্ট করে দিয়েছে এবং তারই আলোকে এনবিআর ওই চিঠি ইস্যু করেছে তাই এ ব্যাপারে আমাদের কিছুই করার নেই। বেনাপোল সিএন্ডএফ এজেন্টস অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি মফিজুর রহমান সজন জানান, এ বিষয়ে একাধিকবার বেনাপোল কাস্টমস কমিশনারের সাথে কথা বলেছি। আসলে এনবিআরের চিঠিতে স্পষ্ট করে ৩০ জুন পর্যন্ত সময়সীমা বেঁধে দেয়া আছে। এখন আমদানিকারক বা রফতানিকারক বা এফবিসিসিআই যদি বিষয়টিতে হস্তক্ষেপ করে তাহলে দ্রুত সমাধান হতে পারে। ভারতে এখনও অনেক স্থানে লকডাউন রয়েছে।

সে কারণে অফিস বন্ধও রয়েছে। সে হিসেবে সময় বাড়ানো একান্ত প্রয়োজন। তিনি আরও জানান, সর্বশেষ তাদের অ্যাসোসিয়েশনের মাধ্যমে ২০ জুলাই ভারতীয় বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ে ডেপুটি ডাইরেক্টর জেনারেল, ঢাকাস্থ ভারতীয় হাইকমিশনার ও কলকাতাস্থ বাংলাদেশ হাইকমিশনের ডেপুটি হাইকমিশনারকে বিষয়টি দ্রুত সমাধানের জন্য ই-মেইল করা হয়েছে।