সাতক্ষীরা, খুলনা, পটুয়াখালীতে আম্পানে ৭ জনের মৃত্যু

উপকূল অতিক্রম করে সাতক্ষীরা-খুলনা দিয়ে বাংলাদেশে আঘাত হেনেছে ‘আম্পান’। এর প্রভাবে দেশের বিভিন্ন স্থানে রাতভর বৃষ্টি হবে বলে জানিয়েছে আবহাওয়া অফিস।

আজ  বুধবার বিকেল ৪টা থেকে এটি সাগর উপকূলের পূর্ব দিকে সুন্দরবন ঘেঁষা পশ্চিমবঙ্গ ও বাংলাদেশ দিয়ে অতিক্রম করছে।

খুলনা, সাতক্ষীরা, মোংলা ও সুন্দরবনের একাংশ দিয়ে আম্পান বাংলাদেশে ঢুকছে। ইতোমধ্যে ঝড়ের প্রভাবে উপকূলীয় জেলাগুলোতে ঝড়ো হাওয়াসহ বৃষ্টি শুরু হয়েছে। রাজধানীসহ দেশের অন্যান্য অংশেও ঝড়-বৃষ্টি শুরু হয়েছে।

ঘূর্ণিঝড় আম্পানের তাণ্ডবে পটুয়াখালী জেলাতে  দুজনের মৃত্যু হয়েছে।

জানা যায়, আজ বুধবার সন্ধ্যায় বাবা-মা’র সঙ্গে আশ্রয় কেন্দ্রে যাবার সময় গাছের ঢাল পড়ে জেলার গলাচিপার পানপট্টিতে রাশেদ নামে ৫ বছরের এক শিশু মারা গেছে। রাশেদ পানপট্টি ইউনিয়নের খরিদা গ্রামের শাহজাদা মিয়ার ছেলে।

এর আগে বুধবার সকালে ঘূর্ণিঝড়ের সতর্ক বার্তা প্রচার করতে গিয়ে কলাপাড়ার লোন্দা খালে নৌকা ডুবিতে নিখোঁজ হয় সিপিপি’র ধানখালীর ৬ নম্বর ইউনিটের দলনেতা সৈয়দ শাহ আলম। পরে সন্ধ্যার দিকে তার মরদেহ উদ্ধার করে ডুবুরিরা।

সৈয়দ শাহ আলমের বাড়ি ওই ধানখালী ইউনিয়নের ছৈলাবুনিয়া গ্রামে। তিনি প্রায় তিন দশক ধরে ঘূর্ণিঝড় প্রস্তুতি কর্মসূচির (সিপিপি) সঙ্গে জড়িত ছিল।

শক্তিশালী ঘূর্ণিঝড় আম্পানের কারণে মোংলা ও পায়রা সমুদ্র বন্দরে ১০ নম্বর মহাবিপদ সংকেত জারি করেছে আবহাওয়া অফিস। এছাড়া, চট্টগ্রাম সমুদ্র বন্দর ও কক্সবাজারে ৯ নম্বর মহাবিপদ সংকেত জারি করা হয়েছে।

উপকূলের বিভিন্ন জেলায় ঘূর্ণিঝড়ের প্রভাব পড়তে শুরু করেছে।  এ পর্যন্ত বরিশাল ও খুলনা ও চট্টগ্রাম বিভাগে প্রায় ২৪ লাখ মানুষকে আশ্রয়কেন্দ্রে নিয়েছে প্রশাসন। এছাড়া, করোনা সংক্রমণ রোধে অতিরিক্ত আশ্রয়কেন্দ্র খোলা হয়েছে উপকূলীয় জেলাগুলোতে।

ঘূর্ণিঝড় আম্পানের প্রভাবে ভোলার চরফ্যাশন ও মনপুরা উপজেলাসহ সাত উপজেলার ২১টি ঝূকিপূর্ণ দ্বীপ ও চরাঞ্চল থেকে প্রায় আড়াই লাখ মানুষকে আশ্রয়কেন্দ্রে নেয়া হয়েছে। সামাজিক দুরত্ব নিশ্চিত করার লক্ষ্যে প্রতিটি আশ্রয় কেন্দ্রে গড়ে ২০০ জন করে রাখা হয়েছে।

পটুয়াখালীর কলাপাড়ার লোন্দা খালে নৌকা উল্টে নিখোঁজ স্বেচ্ছাসেবক শাহালম মীরের মরদেহ ৯ ঘণ্টা পর উদ্ধার হয়েছে। এদিকে আশ্রয়কেন্দ্রে যাওয়ার সময় গলাচিপার পানপাট্টি এলাকায় গাছের ডাল ভেঙে এক শিশুর মৃত্যু হয়েছে।

ঘূর্ণিঝড় আম্পানের তাণ্ডবে সাতক্ষীরার কামালনগরে গাছে ডাল ভেঙে একজনের মৃত্যু হয়েছে। এছাড়া আশাশুনিতে কপোতাক্ষ নদীর বাঁধ ভেঙ্গে প্লাবিত হয়েছে প্রতাবনগর ইউনিয়নের ১০ গ্রাম।

ভোলার চরফ্যাশনেও গাছের ডাল পড়ে একজন নিহত হয়েছে। জেলার ঢালচর ও চর কুকরিমুকরিতে পানি ঢুকে অন্তত ৫ থেকে ৬ হাজার মানুষ পানিবন্দি হয়ে পড়েছে। পিরোজপুরের মঠবাড়িয়ায় দেয়াল চাপাপড়ে একজন নিহত হয়েছে। আর উপজেলার মাঝেরচরে বেড়িবাঁধ ভেঙে গ্রামের ভেতর পানি ঢুকেছে।

চট্টগ্রামরে পটিয়ায় জোয়ারের পানিতে ভেসে যাওয়া একজনের মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে। বরগুনার আয়লা পাতাকাটা ইউনিয়নের বেড়িবাঁধ ভেঙে তিন গ্রাম প্লাবিত হয়েছে।