সাতক্ষীরা উপকূলীয় মানুষের প্রশ্ন তাদের স্বপ্নের টেকসই বেড়িবাঁধ আসলে কি নির্মান হবে

রবিউল ইসলাম, সাতক্ষীরা প্রতিনিধি:  সাতক্ষীরা বাংলাদেশের সর্ব দক্ষিণ-পশ্চিমে অবস্থিত উপকূলীয় অঞ্চল। এখানকার মানুষের প্রাণ হচ্ছে নদ-নদী। উপকূলের মানুষের সঙ্গে নদীর সম্পর্ককে কখনো বন্ধুত্বপূর্ণ আবার কখনো বৈরী সম্পর্ক গড়ে ওঠে।

প্রাকৃতিক দুর্যোগ সমূহ এ সম্পর্ককে করে তলে বৈরী। নদী ভাঙনই তেমন একটি প্রাকৃতিক দুর্যোগ। উপকূলীয় এলাকায় নদী ভাঙনের কারনে শত শত পরিবার বাস্তচ্যুত হচ্ছে। এমন মহামারী দুর্যোগ হওয়া সত্ত্বেও বিষয়টি বরাবরই উপেক্ষিত। উপকূলের অধিকাংশ মানুষই বিভিন্ন প্রাকৃতিক দুর্যোগের সাথে মোকাবেলা করে জীবন যাপন করে থাকে।

সাতক্ষীরা উপকূলীয় মানুষের প্রশ্ন তাদের স্বপ্নের টেকসই বেড়িবাঁধ আসলে কি নির্মান হবে ? তাদের এ সকল দুর্যোগ মোকাবেলা করতে দিতে হয়েছে লক্ষ লক্ষ টাকার সম্পদ এমনকি প্রাণও। উপকূলীয় মানুষের একটাই স্বপ্ন বুকে নিয়ে আশায় পথ চেয়ে রয়েছে কবে হবে স্বপ্নের টেকসই বেড়িবাঁধ নির্মাণ। কোন বড় ধরনের প্রাকৃতিক দুর্যোগের আভাস দিলে সরকারিভাবে সচেতনতার হইচই পড়ে যায়।

উপকূলের মানুষদের রক্ষা করার জন্য প্রস্তুতি থাকে প্রশাসনের সকল দলবল। প্রাকৃতিক দুর্যোগের পরে উপকূলীয় অঞ্চলের বেড়িবাঁধ ভেঙে যখন লোকালয়ে পানি প্রবেশ করে। তাৎক্ষণিক সরকারি ও স্থানীয়দের উদ্যোগে রিং বাধ দিয়ে পানি আটকে দেয়। আশ্বাস দেওয়া হয় টেকসই বেড়িবাঁধ নির্মাণের। নিজের অভিজ্ঞতা ব্যক্ত করেন গাবুরা ইউনিয়নের লেবুবুনিয়া গ্রামের সাবেক ইউপি সদস্য আব্দুস সাত্তার। টেকসই বেড়িবাঁধ না থাকায় ২০০৯ সালে ২৫ মে থেকে ঘটে যাওয়া প্রলয়ঙ্কারী আইলার মাধ্যমে শুরু হয় উপকূলীয় অঞ্চলের দুর্দশা। এরপর একের পর এক প্রাকৃতিক দুর্যোগে শুরু হতে থাকে।

উপকূলীয় অঞ্চলের বেড়িবাঁধের উপরে শুরু হয় নদীর নির্মম নিষ্ঠুরতার ঢেউ। টলমল করতে থাকে জরাজীর্ণ বেড়িবাধঁগুলো আতঙ্কেই আশ্রয় নিতে শুরু করে উপকূলের মানুষ। সেখান থেকেই উপকূলীয় অঞ্চলের মানুষের আশ্বাস দেয়া হচ্ছে টেকসই বেড়িবাঁধের। উপকূলের মানুষের একটাই স্বপ্ন জীবন নিয়ে সুস্থ মতো বসবাস করতে টেকসই বেড়িবাঁধ নির্মাণের। দীর্ঘ ১২ বছর পার হলেও তাদের এই স্বপ্নকে বাস্ত বায়িত রূপ নিতে পারেনি এখনো। সম্প্রতি ঘটে যাওয়া বুলবুল ও আম্পানে ঠিক উপকূলীয় অঞ্চল আইলার মতো লন্ডভন্ড হয়ে যায়।

ঈদ উৎসব থেকে বঞ্চিত হয়েছে উপকূলের লাখো মানুষ। কষ্টভরা মন নিয়ে মুন্সিগঞ্জ ইউনিয়নের ৭০ উর্দ্ধ আয়ুব হোসেন জানান, ১২ বছর আগে আইলার সময় এমন দৃশ্য দেখতে হয়েছিল আমাদের সে সময় যদি সরকারি উদ্যোগে জরাজীর্ণ বেড়িবাঁধগুলো টেকসইভাবে নির্মাণ করতো তাহলে এই দুর্দিনে পড়তে হতো না। ঘরবাড়ি মৎস্য ঘের নদীর পানিতে ভেসে গেছে। প্রাকৃতিক দুর্যোগ এসে নদীর বাঁধ ভেঙে পানি প্রবেশ করে নষ্ট হয় উপকূলের মানুষের গচ্ছিত সম্পদ।

সে সময় উপকূলের বসবাসকারীরা অসহায় হয়ে সরকারের কাছে ব্যানার, ফেস্টুন, মানববন্ধন, সমাবেশসহ বিভিন্ন আন্দোলনের মাধ্যমে টেকসই বেড়িবাঁধ নির্মাণের দাবি তুলে থাকে। আশ্বাসও দেওয়া হয় টেকসই বেড়িবাঁধ নির্মাণের। এতেও সরকারের তৎপরতার কমতি নেই বলা হচ্ছে ? খুব দ্রুতই নির্মাণ হবে টেকসই বেড়িবাঁধ। বেসরকারি সংস্থার পরিচালক মোহন কুমার বলেন, উপকূলীয় এলাকা রক্ষা করতে হলে টেকসই বেড়িবাঁধের বিকল্প নেই। দ্রুত টেকসই বাঁধ নির্মাণ না করলে উপকূলীয় এলাকা রক্ষা করা সম্ভাব হবে না।

আমরা উপকূলের বাঁধ নিয়ে বার বার আন্দোলন করলেও এখনো কোন কাজ হয়নি। উপকূলের মানুষ বুকে আশা নিয়ে বেচেঁ আছে কবে হবে স্বপ্নের টেকসই বেড়িবাঁধ নির্মাণ। সরকারের দেওয়া আশায় টেকসই বেড়িবাঁধ নির্মাণের আশ্বাস নিয়ে বেচেঁ থাকবে উপকূলের মানুষ। তাদের প্রশ্ন স্বপ্নের টেকসই বেড়িবাঁধ আসলে কি নির্মান হবে ?