সাতকানিয়ায় গণশৌচাগার ভেঙ্গে দোকান বাণিজ্য

রতন দাশ, সাতকানিয়া প্রতিনিধি:  অপরাহ্ শুধুমাত্র আয় বাড়ানোর জন্য চট্টগ্রামের সাতকানিয়ায় প্রাচীন ও বহুল ব্যবহৃত গণশৌচাগার ভেঙ্গে ফেলেছে পৌর কর্তৃপক্ষ। সাতকানিয়ার দেওয়ানহাটে অবস্থিত এ শৌচাগার ভাঙ্গা নিয়ে সংশ্লিষ্টদের আপত্তি না শুনেই তড়িঘড়ি করে দোকান নির্মাণ করা হয়েছে।

ব্যবসায়ীরা বলেছেন- বিকল্প ব্যবস্থাও না করে হঠাৎ পৌরসভার এমন সিদ্ধান্তের কারণে বিপাকে পড়েছেন এ বাজারে আসা মানুষেরা। এখন পাশের দুই মসজিদের শৌচাগারের উপর নির্ভর হয়ে পড়েছেন তারা। এদিকে শৌচাগারটি ব্যবহার হয় না দাবি করেন সাতকানিয়া পৌরসভার মেয়র মোহাম্মদ জোবায়ের। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক ব্যবসায়ীরা জানান, প্রাচীনতম এ বাজারে প্রতিদিন উপজেলার বিভিন্ন প্রান্ত থেকে বাজার করতে আসে মানুষ।

কাঁচাবাজার ছাড়াও পৌরসদরের স্টেশন রোডের শতাধিক ব্যবসায়ী ও দোকান কর্মচারী ওই শৌচাগার ব্যবহার করেন। কিন্তু এভাবে শৌচাগার দখল করে দোকান নির্মাণ হলে ভোগান্তিতে পড়েছেন তারা। সাতকানিয়া উপজেলা আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাংগঠনিক সম্পাদক ও জেলা পরিষদ সদস্য মোহাম্মদ জসিম উদ্দীন বলেন, ‌পৌরসভা একটি সেবাদানকারী প্রতিষ্ঠান। কোন ব্যবসা প্রতিষ্ঠান না। ব্যবসায়ীদের জন্য বিকল্প কোন গণ-শৌচাগার ব্যবস্থা না করে এটি ভাঙা কর্তৃপক্ষের কোনভাবে উচিত হয়নি। যদি আয়ের কারণে এটি ভাঙতে হয় তবুও বিকল্প ব্যবস্থা করা খুবই জরুরি ছিল।

এ বিষয়ে স্বাচিপের কেন্দ্রীয় সাংগঠনিক সম্পাদক ডা. আ ম ম মিনহাজুর রহমান বলেন, ‘আর্থিক লাভের আশায় জনস্বার্থ বিসর্জন দেওয়াটা পৌর কর্তৃপক্ষের উচিত হয়নি। আমি এর তীব্র প্রতিবাদ জানাচ্ছি।’ বিকল্প ব্যবস্থা না করে গণ শৌচাগার কেন ভেঙ্গে ফেলা হচ্ছে সে বিষয়ে জানতে চাইলে সাতকানিয়া পৌরসভার মেয়র মোহাম্মদ জোবায়ের বলেন, ‘কোন ব্যবসায়ী এ পর্যন্ত আমাদের কাছে বিষয়টি নিয়ে অভিযোগ করেননি। অভিযোগ পেলে আমরা সে অনুযায়ী ব্যবস্থা গ্রহণ করব।’ ব্যবসায়ীরা অসন্তুষ্ট কী না জানতে চাইলে মেয়র বলেন, ‘ব্যবসায়ীদের সাথে আমার নিয়মিত যোগাযোগ হয়।

তাদের সাথে আমি কিছুদিন পরপর দেখা করি। তাদের জন্য আমরা সব করি, আমাদের আয়টাও আসতে হবে না?’ দোকান বরাদ্দের বিষয়ে জানতে চাইলে মেয়র বলেন, সরকারি নির্দেশনা অনুযায়ী দোকান বরাদ্দ দেওয়া হবে।’ এ প্রসঙ্গে মেয়র নতুন টয়লেটসহ আধুনিক বাজার নির্মাণের আশ্বাস দিয়েছেন তবে সেটি কবে হবে তা জানাতে পারেননি।