সরাইলে ব্যুরো ধান কাটা শুরু হয়েছে

 মো. মুরাদ খান, সরাইল (ব্রাহ্মণবাড়িয়া) প্রতিনিধি: ব্রাহ্মণবাড়িয়া সরাইলে ব্যুরো ধান কাটা শুরু হয়েছে।এবার বুরো মৌসুমে ধানের ফলন মুটামুটি ভালো হয়েছে বলে জানা যায়। কিন্তু সারা বিশ্বে চলছে করোনা ভাইরাসের সংক্রমণের প্রাদুর্ভাব, বাংলাদেশেও চলছে এই প্রাণঘাতী ভাইরাসের সংক্রমণ, দিন দিন বেড়েই চলেছে করোনায় আক্রান্তের সংখ্যা। আর এই করোনা ভাইরাসের প্রভাবে সারাদেশে চলছে লক ডাউন, যার ফলে কৃষক পড়েছে বিপাকে। কারণ করোনার প্রভাবে মানুষ ঘর থেকে বের হতে পারছেনা, তাই কৃষক তার পাকা ধান ঘরে নিতে কষ্ট করতে হচ্ছে। এই মুহূর্তে ধান কাটার শ্রমিক পাওয়া যাচ্ছে না। শাহবাজপুর ইউনিয়নের তিতাস নদীর পাড় ঘেসা রাজা মাড়িয়াকান্দি এলাকার বিলে বুধবার সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, কিছু কিছু জায়গায় কৃষক ধান কাটা শুরু করেছে। একদিকে ধান কাটার শ্রমিকরা ধান কেটে নিয়ে আসছে ভাড় কাঁধে করে, কেউবা আবার ছোট পিকআপ এবং ট্রাকটরে ভরে । কেউবা আবার কেটে আনা সেই ধান গুলো মাড়াই করছে। কৃষক বাছির আলী বলেন, সে এবার ১০ কানি ক্ষেতে ফসল ফলিয়েছেন, ফসল মুটামুটি ভালো হয়েছে। কিন্তু করোনা ভাইরাসের কারণে ধান কাটার শ্রমিক পাচ্ছেনা, যেকজন পেয়েছে সেগুলোও রোজ ৬০০টাকায়। খরচ পড়ে যায় অনেক বেশি, তবুও যদি ধান কাটা শেষ করে এগুলো রোদে শুকানোর জন্য আল্লাহ পাক সুযোগ দেয় তাতেই সে খুশী। এদিকে আরেক কৃষক ইয়াকুব আলী বলেন সে ৮কানি ক্ষেতে ফসল ফলিয়েছেন। করোনা ভাইরাসের সংক্রমণের কারণে সে ক্ষেত থেকে ধান কেটে আনতে পাড়ছেনা। ধান কাটার শ্রমিক পাচ্ছে না, একজন শ্রমিক ৬০০-৭০০টাকায় ও পাওয়া যাচ্ছেনা। ধান গুলো পেকে পড়ে যাচ্ছে ক্ষেতে। অন্যদিকে কয়েজন শ্রমিকের সাথে কথা হলে তারা যানায়, তারা এই কাজের সাথে জড়িত না, করোনা ভাইরাসের কারণে ঘর থেকে বের হতে পারছেনা। তাদের কেউ সাহায্য সহযোগিতাও করছেনা তাই বাধ্য হয়ে এই ধান কাটার কাজে এসেছে। এখানে অনেকে সিএনজি, অটোরিক্সা বা অন্যান্য পেশায় নিয়োজিত ছিলো। কোন উপায় না পেয়ে তারা এখানে এসেছে কাজ করতে। এদিকে উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা নয়ন মনি সূত্রধর জানায় এবার সারা উপজেলায় ১৪৮৮০ হেক্টর জমিতে ধান চাষ হয়েছে। তারা যে লক্ষ মাত্রা নিয়েছিলো সেইটা পুরন হয়েছে বলে জানান তিনি। ব্যুরো মৌসুমে বি ২৮ এবং বি ২৯ দুইটা ফসলই বেশি করা হয়েছে, বি ২৮ ফসলটা পেকে গেছে অনেক জায়গায় কাটা শুরু হয়েছে। তিনি আরো বলেন এখানকার শ্রমিক গুলো বেশির ভাগই আসে ময়মনসিংহ, কিশোরগঞ্জ, এলাকা থেকে এবং কিছু আসে উত্তরবঙ্গ থেকে। করোনার প্রভাবে বাইড়ের শ্রমিকরা আসতে পারছেন। যেখানে বেশি সমস্যা আমরা ভেহিক্যাল দিয়ে ধান কাটার ব্যবস্থা করছি।