সরাইলে ত্রানের দাবিতে বিক্ষোভ

মোঃ মুরাদ খান, সরাইল (ব্রাহ্মণবাড়িয়া) প্রতিনিধি: ব্রাহ্মণবাড়িয়া সরাইলে তৃতীয় দিনের মতো ত্রানের দাবিতে উপজেলা পরিষদের সামনে বিক্ষোভ । তারা প্রতিদিনই উপজেলা পরিষদের সামনে এসে জরো হচ্ছে ত্রান পাবার আশায়। বৃহস্পতিবার সকাল ১১টা থেকে উপজেলা সদর ইউপি চেয়ারম্যানের কার্যালয়ের সামনে গিয়ে দেখা যায়, কয়েক শতাধিক লোক জরো হয়ে আছে।

এসময় কয়েক জনের সাথে কথা হয়, তারা জানান তাদের ঘরে খাবার নাই, তাদের জন্য সাহায্য নিয়ে কেউ এগিয়ে আসছে না। উত্তর আরিফাইল এলাকার রাবেয়া বেগম, বলেন, তার হাত ভেঙে আছে, তার স্বামী কোন কাজে যেতে পারছে না। কোন জনপ্রতিনিধি তাদের জন্য সাহায্য সহযোগিতা নিয়ে যায় নি। সাজেদা বেগমের ও একই দাবি তাদের সাহায্যের জন্য কেউ আসেনি। এদিকে ঠিকাদার শফিকুল ইসলাম সেলু জানায়, সারা উপজেলায় বিভিন্ন স্বেচ্ছাসেবী সংগঠন এবং আমি ব্যক্তিগত উদ্যোগে প্রায় ১০ হাজার মানুষকে সাহায্য সহযোগিতা করেছি, তবুও তাদের হচ্ছে না।

মানুষ যতোই পেয়ে থাকুক না কেন তবুও তার পাওয়ার শেষ হবে না। এখনো বিভিন্ন এলাকায় বিভিন্ন সংগঠনের উদ্যোগে খাদ্যসামগ্রী বিতরণ করে যাচ্ছে তারা, তবুও তারা বলছে তারা ত্রান পায়নি। আসলে বিষয়টি দুঃখজনক। সরাইল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা বলেন, শ্রমিক নেতা ইনুর বিরুদ্ধে ইউপি সদস্য একটি মামলা দায়ের করেন। পরে গতকাল ইনুকে গ্রেফতার করে সরাইল থানা পুলিশ। তার বিরুদ্ধে ডিজিটাল নিরাপত্তা আইনে মামলা করে তাকে জেলহাজতে প্রেরণ করা হয়েছে। এইবিষয়ে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা এ এস এম মোসা বলেন, আমাদের সরকারি বরাদ্দ যা এসেছে আমি ৯টি ইউনিয়নকে বন্টন করে দিয়েছি। আমার হাতে যা ছিলো আমি গত দুইতিন দিনে তা দুস্থ মানুষকে বন্টন করে দিয়েছি। তাছাড়া গত দুইদিন আগে এক শ্রমিক নেতা কিছু লোককে ফুসলিয়ে ত্রান-সাহায্য নিয়ে দিবে বলে জরো করে। পরে আমরা তাদের নামের লিষ্ট করে তাদের জন্য ত্রানের ব্যবস্থা করি। গতকালও এইসব লোক গুলো এসে পুনরায় জরো হয়। পরে তাদের আবার আমরা ৫০ জনকে চাল এবং ১৬৫ জনকে নগদ ৩০০ শত টাকা করে দিয়েছি। তারা এখন কারোর ইন্দনে বার বার জরো হচ্ছে এবং প্রশাসন ও সরকারের ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ন করার চেষ্টা চালাচ্ছে।

 

উপজেলা পরিষদ চেয়ারম্যান রফিক উদ্দিন ঠাকুর বলেন, আমাদের জন্য সরকারের বরাদ্দকৃত ত্রান আমরা সকল ইউনিয়নের মাধ্যমে বন্টন করে দিয়েছি। আর আমাদের কাছে এই মুহূর্তে কোন ত্রান নেই, নতুনভাবে বরাদ্দের জন্য জেলাপ্রশাসক মহোদয়ের কাছে জানানো হবে। আর কিছু কিছু লোককে আমার নিজের হাতে কয়েকবার দিয়েছে তারপরও বার বার ত্রানের দাবি নিয়ে আসছে। এর পিছনে আমাদের দলের কিছু লোক এবং বিএনপি -জামাতের একটি কুচক্রী মহল রয়েছে। তারা চাচ্ছে দুর্যোগ মুহূর্তে সরকারের ভাবমূর্তি ক্ষুন্ন করার জন্য। তারাপিছ থেকে ইন্দন যোগাচ্ছে। আর সরাইল সদর ইউনিয়নের ১ নম্বর ওয়ার্ডের ইউপি সদস্য বর্তমানে হত্যা মামলায় জেলহাজতে রয়েছেন। আমরা এই ওয়ার্ডের তালিকা করে তাদের জন্য ব্যবস্থা করে দিবো।