সরকার রাজধানী সরানো নয়, বিকেন্দ্রিকরণের ওপরই বেশি গুরুত্ব দিচ্ছে

এমনিতেই অনেক দেরি হয়ে গেছে। তারপরও এখনি রাজধানীকে সরিয়ে নেয়ার দীর্ঘমেয়াদি প্রকল্প হাতে নিতে হবে। না হয় একসময় পুরো স্থবির হয়ে পড়বে এ নগরী-এমনটাই মনে করছেন নগর উন্নয়ন বিশেষজ্ঞরা। তারা বলছেন, বাংলাদেশের আশপাশে দক্ষিণ এশিয়ার অনেক দেশই নিজেদের প্রয়োজনের তাগিদে এর মধ্যে সরিয়ে নিয়েছে রাজধানী। তবে সরকার বলছে, জটিল এ প্রক্রিয়ায় না গিয়ে রাজধানী বিকেন্দ্রিকরণের ওপরই বেশি গুরুত্ব দেয়া হচ্ছে।

৪শ’ বছরের পুরনো শহর, ঢাকা। ১৩৪ বর্গমাইল আয়তনের এ শহরে প্রতি বর্গমাইলে বাস করে ১ লাখ ১৫ হাজার মানুষ। গত কয়েক বছর ধরেই বিশ্বের বসাবাস অযোগ্য নগরীর তালিকায় শুরুর দিকেই থাকছে ঢাকা।
নগর উন্নয়ন বিশেষজ্ঞ অধ্যাপক ড. শামসুল হক বলেন, দ্রুত সময় চলে যাচ্ছে। এখনই রাজধানী সরানোর দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা নিতে হবে। আজ বা কাল আমাদের রাজধানী সরাতে হবে-এতে কোনো সন্দেহ নেই।

৫ দশক আগেও প্রথমবারের মতো আলোচনায় এসেছিল ঢাকা থেকে রাজধানী সরিয়ে নেয়ার। এরপর পাশের দেশ ভারত দিল্লি থেকে নয়াদিল্লি, পাকিস্তান করাচি থেকে ইসলামাবাদ, মিয়ানমার ইয়াঙুন থেকে নাইপিদো, শ্রীলঙ্কা কলোম্বো থেকে জয়াবর্ধনপুরা, মালয়েশিয়া কুয়ালালামপুর থেকে পুত্রজায়ায় সরিয়ে নিয়েছে প্রশাসনিক কার্যক্রম। সম্প্রতি ইন্দোনেশিয়াও জাকার্তা থেকে সরে যাচ্ছে বর্নিওতে। তবে বিষয়টি এখনো বাংলাদেশের পরিকল্পনায় নেই বলে জানান সংশ্লিষ্ট মন্ত্রী।

গৃহায়ণ ও গণপূর্তমন্ত্রী শ. ম. রেজাউল করিম বলেন, কোনোভাবেই তড়িঘড়ি করে কিছু করার চিন্তা আমরা করছি না এবং বাস্তবতা সম্মত না। তবে ঢাকাকে বিকেন্দ্রীকরণ করা, ঢাকার পার্শ্ববর্তী এলাকায় বেশকিছু স্যাটেলাইট সিটি করছি। এর ফলে ঢাকার ওপর থেকে যখন চাপটা কমে যাবে তখন রাজধানী হিসেবে ঢাকা অনেক কাজ করার সুযোগ পাচ্ছে।
পূর্বাচল ও ঢাকার আশপাশের শহরগুলোকে এ পরিকল্পনার অংশ করা হচ্ছে।