সরকার ভূর্তকিমূল্যে কৃষকের মাঝে ডিলারদের মাধ্যমে ধানবীজ বিক্রয়

মোহাম্মদ বিপ্লব সরকার, চাঁদপুর প্রতিনিধি:  চলতি ২০২০-২১ বিতরণ বর্ষে আমন মৌসুমে রোপা আমন আবাদ বৃদ্ধির নিমিত্ত সরকার কতৃক প্রতি কেজি ইনব্রিড আমন ধান বীজে ১০ টাকা এবং প্রতি কেজি হাইব্রিড আমন ধান বীজে ৫০ টাকা ভর্তুকি প্রদান করা হয়েছে। ভর্তুকি মূল্যে বীজ বিক্রয়ের জন্য কৃষি মন্ত্রণালয়ের নিদের্শনাবলি অনুসরণ করতে হবে। (ক) ভর্তুকিমূল্যে নির্ধারিত দরে বিক্রয় করতে হবে। (খ) ডিলারগণ ক্যাশ মেমোর মাধ্যমে বীজ বিক্রয় করবেন এবং ক্রয়কৃত চাষীদের নাম, ঠিকানা, চাষীদের জাতীয় পরিচয় পত্রের নম্বর ও কৃষি কার্ড নম্বর, মোবাইল নম্বর সংরক্ষণ করে বীজ বিক্রয়ের রেজিস্ট্রারে অন্তর্ভুক্ত করবেন। সাথে সাথে ভর্তুকিমূল্যে ক্রয়কৃত চাষীর একটি মাষ্টার রোল (ছক-ক) তৈরি করবেন।
পরবর্তীতে সংশ্লিষ্ট উপপরিচালক বীজ বিপণন, বিএডিসি’র নিকট জমা দিবেন। (গ) বিএডিসি উপজেলা ও জেলা বীজ বিক্রয় কেন্দ্রে সমূহেও নিম্নের ছক (ক) অনুযায়ী মাষ্টার রোল তৈরি করতে হবে। (ঘ) কোন চাষীর নিকট ১০০ কেজির বেশি ভর্তুকি মূল্যের আমন ধান বীজ বিক্রয় করা যাবে না। (ঙ) কৃষি মন্ত্রণালয় থেকে নতুন কোন নির্দেশনা পরিবর্তন হলে প্রাপ্ত নির্দেশনা পরবর্তীতে জানানো হবে। এদিকে গত কয়েকদিন আগে জাতীয় ও স্হানীয় পত্রিকা সংবাদ মাধ্যম কৃষিমন্ত্রী ড. মোঃ আবদুর রাজ্জাক বলেছেন, আউশ ও আমন ধানের আবাদ ও উৎপাদন বৃদ্ধির লক্ষ্য মাত্রা বাড়ানো হয়েছে। ইতি মধ্যে আউশধানের বীজ, সার,সেচ সহ বিভিন্ন প্রণোদনা কৃষকের মাঝে বিতরণ করা হয়েছে। আমন ও রবি মৌসুমে বীজ, সার, সেচ প্রভৃতিতে যাতে কোন সমস্যা না হয়।
এ ছাড়া কৃষিক্ষেত্রে কোন সংকট তৈরি না হয় সেজন্য সব ধরনের প্রচেষ্টা চলছে। আমন মৌসুমে দেশের প্রতিটি জেলায় বীজ ডিলারদের মাধ্যমে সরকার ভূর্তকি মূল্যে ধানবীজ বিক্রয়ের জন্য কৃষকের নাম, এন আইডি নম্বর , কৃষি কার্ড নম্বর ও মোবাইল নম্বর সংরক্ষণের মাধ্যমে ধানবীজ বিক্রয়ের ও ডিলারদের রেজিস্ট্রার খাতায় লিপিবদ্ধ করে নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। পরিবর্তিতে বিএডিসি উপজেলা ও জেলা বীজ বিক্রয় কেন্দ্রে সমূহেও মাষ্টার রোল তৈরি করে জমা দিবেন ডিলারগন। নাম প্রকাশ্যে অনেক ডিলাররা সরকার কতৃক কৃষি মন্ত্রণালয়ের এই নির্দেশনাবলীকে সাধুবাদ জানিয়েছে এতে সকল ডিলাররা কৃষকদের মাঝে ধান বীজ বিক্রি করে দেশের ও কৃষি উন্নয়ন সাথে সম্পৃক্ত রাখতে নিজদের গর্বিত মনে করবে।
কিন্তু কিছু কিছু ডিলার ব্যাবসায়ীরা নিজেদের পকেট ভর্তি করার জন্য বিশেষ করে তারা অন্য জেলা থেকে বিএডিসি’র মৌসুমে সকল প্রকারের ধানের বীজ ক্রয় করে মজুদ করে গ্রাম গন্জের বাজারে শতশত কেজি মৌসুম ধান বীজ এবং অনেক সময়ে মিকচার কৃত বীজ অল্প দামদর করে বাজারজাত করে ও পাশাপাশি বাজারে আসা নামে-বেনামে বিভিন্ন কোম্পানীর ধানের বীজ বেশি দামে বেশী লাভে বিক্রি করছে। এতে সরকার ও বিএডিসি’র বীজ ধানের দুর্নাম ঘটনা ঘটাচ্ছে ও বেকায়দায় ফেলছে ।
ফলে অন্য বীজ ডিলাররা জেলার বিএডিসির গুদাম থেকে সরকারের বরাদ্দকৃত মাল উত্তোলন করে বিক্রি করতে হিমশিম খেতে হয় এবং প্রতি বছর সরকারি কোষাগারে রাজস্ব আদায়ের আয়কর, ভ্যাট প্রদান করে বীজ লাইসেন্স নবায়ন বা বাতিল হওয়ার উপক্রম হয়ে দাঁড়িয়েছে। শুধু তাই নয় জেলার বিএডিসি’র গুদামঘর থেকে যে পরিমাণ বীজ সরবরাহ করার কথা তা না পেরে বিগত বছরে বীজ ফেরত দিতে হচ্ছে। এমতাবস্থায়, জেলা প্রশাসন, কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর, সদর ও উপজেলা প্রশাসন সহ ইউনিয়নের মাঠ পর্যায়ের কৃষি কর্মকর্তাদের দৃষ্টি আকর্ষণ করছি।