সম্পত্তির লোভে মদ খাওয়ার অজুহাত তুলে গণপিটুনি দিয়ে ছোট ভাইকে হত্যা

রতন কান্তি দাশ, সাতকানিয়া প্রতিনিধি: সম্পত্তির লোভে মদ খাওয়ার অজুহাত তুলে গণপিটুনি দিয়ে বড় ভাইয়ের বিরুদ্ধে ছোট ভাইকে হত্যার অভিযোগ উঠেছে। গণপিটুনিতে ছোট ভাইয়ের মৃত্যু হলেও তা স্বাভাবিক মৃত্যু বলে চালিয়ে দিয়ে রাতারাতি সৎকার করতেও চেয়েছিল বড় ভাই। কিন্তু খবরটি পুলিশের কানে পৌঁছালে সেই পরিকল্পনা ভেস্তে যায়। নিহতের সনি দাশ (৩৫) চট্টগ্রামের সাতকানিয়া উপজেলার নলুয়া ইউনিয়নের ৩ নম্বর ওয়ার্ড এলাকার মৃত সাধন দাশের ছোট ছেলে। অভিযুক্ত স্বপন দাশ (৪০) সনির বড় ভাই। সোমবার (১২ অক্টোবর) ওই এলাকার মুক্তিযোদ্ধা অরুণ মজুমদারের বাড়িতে এ ঘটনা ঘটে।

এর আগে বৃহস্পতিবার (৮ অক্টোবর) মদ খাওয়ার অজুহাতে গণপিটুনির শিকার হন সনি দাশ। এতে আহত হয়ে প্রায় চারদিন পর বিনা চিকিৎসায় তার মৃত্যু হয়। জানা যায়, বড় ভাই স্বপন দাশ ও তার স্ত্রী ফন্দি আঁটে অবিবাহিত ছোট ভাই সনিকে বাপের সম্পত্তি থেকে বঞ্চিত করার। এ জন্য বিয়ের বয়স পেরিয়ে গেলেও নানা টালবাহানায় সনিকে বিয়ে করাতে রাজি নয় তারা। এ নিয়ে তাদের মধ্যে প্রায় সময় ঝগড়া লেগে থাকতো। সনি বাড়িতে খুব একটা থাকতেন না। ৮ অক্টোবর সনি বাড়ি ফিরে ভাই, ভাবির কাছে বিয়ে করানোর জন্য চাপ দেয়। এসময় তাকে বিয়ে করানো না হলে সে নিজেই বিয়ে করে সংসার সাজাবে বলে সাফ জানিয়ে দেয়।

এ নিয়ে বড় ভাই আর ভাবির সঙ্গে কথা কাটাকাটি হয়। এক পর্যায়ে মদ খেয়ে মাতলামি করছে কথা রটিয়ে বড় ভাই স্বপন দাশ স্থানীয় চেয়ারম্যানের শিষ্য হিসেবে পরিচিত আরিফুল ইসলাম, ইউপি সদস্য মো. ইউনুসসহ ১০-১৫ জন মিলে তাকে গণপিটুনি দেয়। এতে গুরুতর আহত হলেও সনি দাশকে চিকিৎসা না দিয়ে ঘরে ফেলে রাখা হয়। ফলে সোমবার (৮ অক্টোবর) বিকালে তার মৃত্যু হয়। স্থানীয়রা জানান, সনির দাশের মৃত্যুর পর তড়িঘড়ি করে রাতে সৎকার করার বন্দোবস্তও করে ফেলে অভিযুক্ত স্বপন দাশ। কিন্তু খবরটি সাতকানিয়া থানায় জানালে পুলিশ ঘটনাস্থলে এসে সৎকার কাজে বাধা দিয়ে লাশ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য হাসপাতাল মর্গে পাঠিয়ে দেয়। এ বিষয়ে জানতে চাইলে সনির বড় ভাই স্বপন হত্যার বিষয়টি প্রথমে অস্বীকার করলেও এক পর্যায়ে স্বীকার করেন। তবে স্বাভাবিক মৃত্যুর নিয়ে নিউজ করার জন্যও অনুরোধ করেন তিনি।

তাছাড়া হত্যার বিষয়টি স্বীকার করেছেন নিহতের চাচাত ভাই লিটন ও নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক সাতকানিয়া উপজেলা আওয়ামী লীগের এক সদস্য। এদিকে, জনপ্রতিনিধি হয়ে কেন সনি দাশ হত্যায় জড়িত হলেন জানতে চাইলে স্থানীয় ৩ নম্বর ওয়ার্ডের ইউপি সদস্য মো. ইউনুস বিষয়টি জানেন না বলে মোবাইলের সংযোগ কেটে দেন। তাছাড়া ঘটনার পর থেকে ওই ইউপি সদস্যসহ ঘটনায় জড়িতরা গা ঢাকা দিয়েছে বলেও জানা গেছে। স্থানীয় এক চকিদার বলেন, আমি বৃহস্পতিবারে মেম্বার ইউনুসের কাছে গণপিটুনির বিষয়ে জানতে চাইলে তিনি বলেছিলেন, সনি দাশ মদদী। তাকে মেরে ফেললেও সমস্যা নেই। সাতকানিয়া থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) আনোয়ার হোসেন বলেন, লাশ ময়নাতদন্তের জন্য পাঠানো হয়েছে। রিপোর্ট এলেই আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে। তবে এ ঘটনায় নিরীহ কাউকে জড়ানো হবেনা বলেও তিনি উল্লেখ করেন। এদিকে, সনি হত্যায় এখনও মামলা না হওয়ায় হত্যার মূলহোতা স্বপন দাশকে কাছে পেয়েও গ্রেপ্তার করা যাচ্ছে না বলেও জানায় পুলিশ।