সচেতনতা বাড়ানোর দাবি মিঠাপুকুর স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স লকডাউন

আমিরুল কবির সুজন,মিঠাপুকুর (রংপুর) প্রতিনিধি: মিঠাপুকুরে ৫ বছর বয়সী এক শিশুর শরীরে প্রাণঘাতী করোনাভাইরাসের অস্তিত্ব ধরা পড়েছে। সে জ্বর , সর্দি, কাশি নিয়ে রংপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন ছিল। তার নমুনা সংগ্রহ করে পরীক্ষার পর করোনার উপস্থিতি ধরা পড়ে। এ নিয়ে উপজেলা দুই চিৎিসকসহ ৫ জন করোনায় সংক্রমিত হলেন।

করেনা সংক্রমিত ওই শিশুর নাম খোকা বাবু। সে উপজেলার সেরুডাঙ্গা গ্রামের এক গার্মেন্ট কর্মীর ছেলে। তার মা ঢাকায় একটি পোশাক কারখানায় কাজ করতেন। কিছুদিন আগে বাড়ি ফিরে আসেন তারা। এরপর শিশুটি অসুস্থ্য হয়ে পড়ে। তাকে রংপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। সেখানে চিকিৎসকরা তার নমুনা সংগ্রহ করেন। মিঠাপুকুর উপজেলায় প্রথম করোনা আক্রান্ত হয় এক এসএসসি পরীক্ষার ফল প্রত্যাশী শিক্ষার্থীর। তার বাড়ি উপজেলার বালারহাট ইউনিয়নে।

সে তার মামার বাড়ি নারায়নগঞ্জ থেকে এসে অসুস্থ্য হয়ে পড়েছিল। গত ৮ এপ্রিল রংপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পরীক্ষা করার পর তার শরীরে করোনা ধরা পড়ে। সে বর্তমানে বাড়িতে চিকিৎসাধীন আছে। এরপর ১৮ এপ্রিল করোনা ধরা পড়ে মিঠাপুকুর স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের চিকিৎসক আবদুল হালিমের। এর একদিন পর ওই স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের অপর চিকিৎসক আফসানা লাইজুর শরীরে করোনার উপস্থিতি ধরা পড়ে। এর দুই দিন পর স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের যক্ষারোগ নিয়ন্ত্রণ কর্মকর্তা আনিছুর রহমানের শরীরেও করোনার অস্তিত্ব ধরা পড়ে।

দুই চিকিৎসক এবং একজন কর্মকর্তা করোনায় আক্রান্ত হওয়ায় ২০ এপ্রিল স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সটি লকডাউন ঘোষনা করা হয়েছে। পরবর্তী নির্দেশ না দেওয়া পর্যন্ত স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের সকল কার্যক্রম বন্ধ ঘোষনা করা হয়েছে। বিষয়টি নিশ্চিত করে রংপুর সিভিল সার্জন ডা. হিরম্ব কুমার বলেন, সাধারন রোগীরা চিকিৎসা নেওয়ার জন্য চিকিৎসকদের সংস্পর্শে আসলে সংক্রমণের আশঙ্কা থাকে।

 

জনগনের স্বাস্থ্য সুরক্ষার বিষয়টি বিবেচনা করে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সটি লকডাউন করা হয়েছে। তবে চিকিৎসা সেবা অব্যাহত রাখতে ইতিমধ্যে উপজেলার মিঠাপুকুর মহাবিদ্যালয় কলেজ মাঠে অস্থায়ি চিকিৎসা সেবার ব্যবস্থা চালু করা হয়েছে বলে জানান তিনি।এই উপজেলার বিভিন্ন এলাকার জনসাধারণ জানান, করোনা ভাইরাস মোকাবেলায় ঢাকা,চট্রগ্রাম, নারায়নঞ্জ সহ দেশের বিভিন্ন এলাকা থেকে আগত অনেকে গ্রামে আসছেন। এসব লোক সরকারের দিকনির্দেশনা মানছেন না, ফলে করোনা ঝুঁকির আসংকা বাড়তে পারে বলে অনেকেই ধারণা করছেন। সচেতন মহল গ্রাম সুরক্ষিত রাখার স্বার্থে বহিরাগত লোকদের প্রবেশের বিষয়ে প্রশাসনের কঠোর পদক্ষেপ কামনা করেছেন সচেতন মহল।