সংসদ নারায়ণ চন্দ্র চন্দের হস্তক্ষেপে ডুমুরিয়া কান্চন নগর খেয়া ঘাট সচল হতে যাচ্ছে

জাহাঙ্গীর আলম (মুকুল), ডুমুরিয়া খুলনা প্রতিনিধি:  ডুমুরিয়ায় নদীর নাব্যতা হারিয়ে পলি ভরাট হয়ে দীর্ঘদিন অকেজো অবস্থায় পড়ে থাকা কাঞ্চননগর খেয়া ঘাটটি অবশেষে সচল হতে যাচ্ছে। গত ৬ বছর আগে ৫০ লাখ টাকা বরাদ্দে আধুনিক মানের পাকা ঘাট নির্মাণ করা হলেও এর সুফল পাইনি কেউ। অরক্ষিতভাবে পড়ে থাকা ঘাটটি অবশেষে খুলনা ৫আসনের সংসদ সদস্য নারায়ণ চন্দ্র চন্দ্র এর হস্তোক্ষেপে বাঁশের সাঁকো তৈরি করে বিকল্প ভাবে মানুষ যাতায়াতের উপযোগী করে তোলা হচ্ছে।

জানা যায়, খুলনার ডুমুরিয়া ও বটিয়াঘাটা উপজেলার সংযোগস্থলে কাঞ্চননগর-পারবটিয়াঘাটা খেয়া ঘাট। এই ঘাট পারাপার হয়ে দু’পারের মানুষ দ্রুত যাওয়া-আসাসহ তাদের নিত্য প্রয়োজনীয় পণ্য সহজে আনা-নেয়া করতো। মানুষের জীবনযাত্রার মান আরো বৃদ্ধির লক্ষ্যে এলজিইডি’র বাস্তবায়নে গত ৬ বছর আগে ৫০ লাখ টাকা বরাদ্দে ঘাটটি আধুনিকভাবে পাকাকরণে উন্নিত করা হয়। ২০১৪ সালের ৭ আগস্ট ঘাটটির শুভ উদ্বোধন করেন খুলনা ৫ আসনের সংসদ সদস্য ও সাবেক মৎস ও প্রাণী সম্পদ মন্ত্রী নারায়ণ চন্দ্র চন্দ। কিন্তু বছর গড়াতে না গড়াতেই সালতা নদীর নাব্যতা হারিয়ে ডুমুরিয়ার অংশে ব্যাপকভাবে পলি ভরাট হয়ে পড়ে।

ক্রমন্বয় ঘাট থেকে নদী পর্যন্ত প্রায় ১শ’ ফুটের বেশি পলি ভরাট হয়ে যায়। একপর্যায়ে ঘাটটি পারাপারের একেবারই অনুপোযোগী হয়ে পড়ে। যার ফলে ৩ কিলোমিটারের পথ ৩০ কিলোমিটার ঘুরে আসতে হয় দু’পারের মানুষের। সীমাহীন বিপদের মধ্যে পড়ে স্কুলগামী শিক্ষক ও শিক্ষার্থীরাও। তাদের সঠিক সময় বিদ্যালয় পৌঁছাতে বিগ্ন সৃষ্টি হয়। নদীতে কখন জোয়ার আসবে সেই অপেক্ষার প্রহর গুনতে হয় স্থানীয় ব্যবসায়ীদের। কারণ, জোয়ার হলেই পণ্য পারাপার করতে হয়। ঘাটটি অচল থাকায় বেশি বিপাকে পড়ে এলাকার সবজি ব্যবসায়ীরা। স্থানীয় বাসিন্দা পবিত্র মন্ডল, দিলীপ রায়সহ অনেকেই বলেন, পলি পড়ে ঘাটের অবস্থা খুব খারাপ।

এ ঘাটে জোয়ারে পার হওয়া যায়। ভাটা হলে কাদায় নামতে হয়। এরমধ্যে মাঝে মাঝে খেয়া থাকে না। ফলে অতিরিক্ত টাকা দিয়ে জেলের নৌকায় পার হতে হয়। এ প্রসঙ্গে ওই খেয়া ঘাটের পাটনি গৌর পাটনি বলেন, আমি ৪৪ বছর এই (কাঞ্চননগর-পারবটিয়াঘাটের) খেয়া ঘাটের পাটনি হিসেবে দায়িত্ব পালন করছি। ঘাটে পলি এতো পরিমানে পড়েছে যে ঘাট ধুতে ধুতে আর পারিনি। নদীর ডুমুরিয়ার অংশে ব্যাপক ভরাট হয়ে গেছে। জোয়ারে দুই একজন হয়, ভাটায় কোন লোক হয়না।

কারণ অনেকদুর কাদায় হাঁটতে হয়। যার ফলে আয় রোজগার নেই। কিভাবে যে সংসার চালাবো এই দুশ্চিন্তায় আছি আমি। ইউপি চেয়ারম্যান হিমাংশু বিশ্বাস বলেন, ঘাটটি একদম বেহাল অবস্থা। পলি ভরাট হয়ে মানুষ চলাচলের অনুপোযোগী হয়ে পড়েছে। কয়েক বছর আগে ৫০ লাখ টাকা ব্যয়ে সরকারি বরাদ্দে ঘাটটি নির্মাণ হয়। কিন্তু মানুষ ঘাটের সুফল ভোগ করতে পারেনি। দেখতে না দেখতেই নদীতে পলি পড়ে ঘাটটি অকেজো হয়ে যায়।

উপজেলা পরিষদ চেয়ারম্যান গাজী ‌এজাজ আহম্মেদ এর ঐকান্তিক প্রচেষ্টায় মানুষ চলাচলের জন্য আশু বাঁশের সাঁকো তৈরি করা হচ্ছে। এটি হলে মানুষ স্বস্তি ফিরে পাবে। তারা নির্বিগ্নে পারাপার হয়ে তাদের প্রয়োজনীয় কাজ মেটাতে পারবে।