সংবাদ সম্মেলনে মহানগর আ.লীগ সভাপতি মেয়র লিটন

সৈয়দ মাসুদ, রাজশাহী প্রতিনিধি: রাজশাহীতে এক লাখ ৩০ হাজার পরিবারকে খাদ্য সহায়তা দেওয়া হয়েছে করোনা প্রভাবে কর্মহীন অসহায় ও দুঃস্থ মানুষের জন্য বঙ্গবন্ধুকন্যা মাননীয় প্রধানমন্ত্রী আওয়ামী লীগ সভাপতি জননেত্রী শেখ হাসিনা‘র নির্দেশে ত্রাণ সহায়তা বিতরণ কার্যক্রম সম্পর্কে রাজশাহী মহানগর আওয়ামী লীগের উদ্যোগে দলীয় কার্যালয়ে সংবাদ সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয়েছে। সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্য পাঠ ও সাংবাদিকদের প্রশ্নের উত্তর দেন রাজশাহী মহানগর আওয়ামী লীগের সভাপতি ও মাননীয় সিটি মেয়র এ.এইচ.এম খায়রুজ্জামান লিটন। সংবাদ সম্মেলন পরিচালনা করেন মহানগর আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ডাবলু সরকার।
সংবাদ সম্মেলনে মহানগর আওয়ামী লীগ সভাপতি মেয়র খায়রুজ্জামান লিটন বলেন, বঙ্গবন্ধুকন্যা মাননীয় প্রধানমন্ত্রী আওয়ামী লীগ সভাপতি জননেত্রী শেখ হাসিনা‘র নির্দেশে রাজশাহীতে ১ লাখ ৩০ হাজার পরিবারকে খাদ্য সহায়তা প্রদান করা হয়েছে। পবিত্র ঈদুল ফিতরের আগে মহানগর আওয়ামী লীগের ৩৭টি সাংগঠনিক ওয়ার্ডের নেতৃবৃন্দের মাধ্যমে প্রতিটি ওয়ার্ডে ২০০ জন মানুষকে ঈদের শুভেচ্ছা বিতরণ করা হবে। সকলের সম্মিলিত প্রচেষ্টায় রাজশাহীকে করোনামুক্ত রাখা সম্ভব হয়েছে। ত্রাণ বিতরণ কার্যক্রম নিয়ে বিএনপির মিথ্যাচারের তীব্র নিন্দা প্রতিবাদ জানিয়েছেন মেয়র। সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্যে তিনি বলেন, আপনাদের সকলকে জানায় বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ, রাজশাহী মহানগরের পক্ষ থেকে পবিত্র মাহে রমজানের শুভেচ্ছা। বক্তব্যের শুরুতেই গভীর শ্রদ্ধাভরে স্মরণ করছি জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান সহ ১৯৭৫ সালের ১৫ আগস্ট নির্মমভাবে নিহত সকল শহীদ, শহীদ জাতীয় চার নেতা ও মহান মুক্তিযুদ্ধে ত্রিশ লক্ষ শহীদদের প্রতি। আরো স্মরণ করছি গণতান্ত্রিক আন্দোলনে নিহত সকল শহীদদের। আপনারা ইতিমধ্যে অবগত হয়েছেন যে, কোভিড-১৯ বিশ্বব্যাপী মহামারী আকার ধারণ করেছে। আমাদের প্রিয় মাতৃভূমি বাংলাদেশেও কোভিড-১৯ এ আক্রান্ত। এখন পর্যন্ত আইইডিসিআর এর তথ্য অনুযায়ী সারাদেশে করোনায় আক্রান্ত হয়েছেন ১৬,৬৬০ জন, মৃত্যুবরণ করেছেন ২৫০ জন ও সুস্থ হয়ে বাড়ী ফিরেছেন ২,৯০২ জন।
করোনায় আক্রান্ত হয়ে যারা মৃত্যুবরণ করেছেন বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ, রাজশাহী মহানগরের পক্ষ থেকে তাদের বিদেহী আত্মার মাগফেরাত কামনা করছি এবং শহীদদের স্বজনদের প্রতি গভীর সমবেদনা জ্ঞাপন করছি। যে সকল চিকিৎসক, স্বাস্থ্য কর্মী, সেনাবাহিনী, পুলিশ, সাংবাদিক সহ আরো যারা করোনা যুদ্ধে সম্মুখে থেকে সর্বসাধারণের সেবায় নিয়োজিত আছেন আমরা তাদের প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করছি । গত ৮মার্চ বাংলাদেশে কোভিড-১৯ সনাক্ত হওয়ার পর বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ সভাপতি ও গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকারের মাননীয় প্রধানমন্ত্রী জননেত্রী শেখ হাসিনা জনসাধারণের জীবন সুরক্ষার জন্য করোনা প্রতিরোধে নানাবিধ কর্মসূচী গ্রহন করেছেন এবং জাতিকে সামনে থেকে নেতৃত্ব দিয়ে বিভিন্ন দিকনির্দেশনা প্রদান করেছেন। সেই সাথে মাননীয় প্রধানমন্ত্রী সরকার প্রধান ও দলীয় সভাপতি হিসেবে করোনা প্রতিরোধে প্রচেষ্টা অব্যাহত রেখেছেন। তিনি এই উদ্ভুত পরিস্থিতিতে দেশের রাজনৈতিক ও সামাজিক সংগঠন এবং সমাজের বিত্তশালী মানুষদের কর্মহীন, অসহায় ও নিম্ন আয়ের মানুষদের পাশে সহযোগীতার হাত বাড়ানোর জন্য উদাত্ত আহ্বান জানিয়েছেন। বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ সভাপতি ও গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকারের মাননীয় প্রধানমন্ত্রী জননেত্রী শেখ হাসিনা’র নির্দেশে রাজশাহী মহানগরীতে করোনা প্রতিরোধে মহানগরবাসীর পাশে দাঁড়িয়ে কর্মহীন, অসহায় ও নিম্ন আয়ের মানুষকে বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ, রাজশাহী মহানগর নিম্নলিখিত সহায়তা প্রদান করেছেঃ মহানগরীর ৩৭ টি সাংগঠনিক ওয়ার্ডে সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদকের মাধ্যমে ৩৭৫ টন চাল, ৫ টন আটা, ৬৪ টন ডাল, ৬৭ টন আলু, শিশু খাদ্য হিসাবে ল্যাকটোজেন ও বায়োমিল দুধ ২০০০ প্যাকেট , বিভিন্ন প্রকার সবজি ৩০০ টন বিতরণ সহ নগদ অর্থ প্রদান করা হয়েছে।
রমজানের শুরু থেকেই ভাসমান রোজাদার মানুষদের জন্য প্রতিদিন ১২০০ প্যাকেট উন্নতমানের ইফতারি বিতরণ করা হচ্ছে। ত্রাণ সহায়তা ও ইফতার বিতরণ এবং নগদ অর্থ সহায়তা ছাড়াও মহানগরীর প্রতিটি ওয়ার্ডের পাড়া ও মহল্লায় করোনা সম্পর্কিত সচেতনতা বৃদ্ধির লক্ষ্যে সামাজিক দূরত্ব ও স¦াস্থ্য বিধিসম্পর্কিত প্রচারপত্র বিতরণ সহ ১৫ দিন ব্যাপী মহানগরীতে মাইকযোগে প্রচারণা করা হয়। জনসাধারণের স্বাস্থ্য সুরক্ষায় হ্যান্ডস্যানিটাইজার, সাবান, ও মাস্ক বিতরণ করা হয়েছে। নগরীর প্রতিটি পাড়া, মহল্লা ও প্রধান প্রধান সড়কে এবং যানবহনে জীবাণুনাশক স্প্রে করা হয়েছে। দেশে প্রথম করোনা রোগী সনাক্ত হওয়ার পর পরই সামাজিক দূরত্ব বজায় রাখার লক্ষ্যে মহানগর দলীয় কার্যালয় বন্ধ রাখা হয়েছে। জনসাধারণের স্বাস্থ্য সেবা সুনিশ্চিত করার লক্ষ্যে রাজশাহী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের চিকিৎসক ও স্বাস্থ্য কর্মীদের নিয়মিত যোগাযোগ করে স্বাস্থ্য সেবা নিশ্চিত করার প্রচেষ্টা অব্যাহত আছে। সরকারী নির্দেশনা অনুযায়ী মহানগরীর প্রতিটি ওয়ার্ডের মসজিদে ওয়াক্তের নামাজে পাঁচজন ও জুম্মার নামাজে দশজন মুসল্লী নিয়ে নামাজ আদায় করার জন্য ওয়ার্ড আওয়ামী লীগের নেতৃবৃন্দের মাধ্যমে মসজিদ কমিটি ও মুসল্লীদের উদ্বুদ্ধ করা হয়। সরকারের নির্দেশিত লকডাউন মেনে চলার জন্য আওয়ামী লীগের নেতাকর্মী ও মহানগরবাসীকে উদ্বুদ্ধ করা হয়। এছাড়াও আওয়ামী লীগের অঙ্গ সহযোগী সংগঠনসমূহ তাদের সাধ্যমত ত্রাণ তৎপরতা অব্যাহত রেখেছে।