শ্রীমঙ্গল , এ যেন জল-পাহাড়-সবুজ কেতনের হাতছানি

শীতের ছুটি কাটানোর জন্য কোথাও বেড়াতে যেতে চান? তবে পরিবার-পরিজনের সঙ্গে হাতে ২-৩ দিন সময় নিয়ে বেড়ানোর জন্য চমৎকার জায়গা মৌলভীবাজারের শ্রীমঙ্গল। যতদূর চোখ যায় কেবল  সবুজের হাতছানি। চা বাগানের সারি সারি টিলা, আঁকাবাঁকা পাহাড়ি পথ আর ঘন সবুজ অরণ্যের অপরূপ সৌন্দর্য। এখানে যেমন বনভূমি রয়েছে; তেমনি রয়েছে হাওর আর বিল।

চায়ের রাজধানী খ্যাত এই অঞ্চল বাংলাদেশের উত্তর-পূর্ব প্রান্তে অবস্থিত একটি উপজেলা | ৪২৫ দশমিক ১৫ বর্গকিলোমিটার আয়তনের এ জনপদের সাথে রেল ও সড়কপথে যোগাযোগ রয়েছে সারাদেশের। পাশাপাশি আদিবাসী খাসিয়া, মণিপুরী, গারো, টিপরা-এদের বাড়িঘরও রয়েছে।

সাত রঙ্গের চা

শ্রীমঙ্গলে যা যা দেখতে পারেনঃ

এখানে উপভোগ করার মত অনেক কিছুই রয়েছে। শ্রীমঙ্গলের চা বাগান, বাইক্কা বিল, লাউয়াছড়া জাতীয় উদ্যান, মাধবপুর লেক , সীতেশ বাবুর চিড়িয়াখানা, কাছারী বাড়ী, মসজিদুল আউলিয়া তাই সবসময় থাকে পর্যটকদের সমাগমে মুখর।

চা-কন্যা

চা-কন্যা ভাস্কর্যঃ চায়ের রাজধানী শীমঙ্গলের প্রবেশদ্বারে স্থাপিত এক নারী চা শ্রমিকের চা-পাতা উত্তোলনের দৃশ্য সম্বলিত  ‘চায়ের দেশে স্বাগতম’ শিরোনামের এ ভাস্কর্যটি দেশি  বিদেশি  প্রকৃতিপ্রেমীসহ সবার দৃষ্টি কেড়েছে।

মাধবকুণ্ড জলপ্রপাত

মাধবকুণ্ড জলপ্রপাতঃ সবচেয়ে হৃদয় স্পর্শ এবং আশ্চর্যজনক অভিজ্ঞতা হচ্ছে মাধবকুণ্ডে যাত্রা। রাবার ও লেবু চাষ অসাধারণ অনুভূতির সঙ্গে পর্যটকদের চোখ পূর্ণ করে। বাংলাদেশের সবচেয়ে সুন্দর ও আকর্ষণীয় জলপ্রপাতগুলোর মধ্যে মাধবকুণ্ড অন্যতম। এটি বাংলাদেশের সবচেয়ে বড় জলপ্রপাত।

বাইক্কা বিল

বাইক্কা বিলঃ বিলের কিনারে ফোটে হাজারো পানা, শাপলা আর পদ্মফুল। বিলের পানিতে সকাল-সন্ধ্যা চলে রঙ্গীন ফড়িংয়ের বিরতিহীন উড়াউড়ি। শীত মৌসুমে এখানে আসে বিভিন্ন প্রজাতির পরিযায়ী পাখি।

লাউয়াছড়া জাতীয় উদ্যান

লাউয়াছড়া জাতীয় উদ্যানঃ ট্রেকিংয়ের শুরুতেই দেখবেন বিশাল গন্ধরুই গাছ, যার আরেক নাম কস্তুরী। পথের পাশে থাকা ডুমুর গাছের ফল খেতে আসে উল্লুক, বানর ও হনুমান ছাড়াও বনের বাসিন্দা আরও অনেক বন্যপ্রাণী। মায়া হরিণ আর বন মোরগেরও দেখা মিলতে পারে।

কিভাবে পৌঁছাবেন:

আপনি সড়কপথে এবং রেলপথে ঢাকা থেকে সরাসরি শ্রীমঙ্গলে যেতে পারবেন। তবে, আকাশপথে সিলেটে পৌঁছে সেখান থেকেও আপনি শ্রীমঙ্গলে আসতে পারেন। রাস্তা যোগে বা রেল পথে যেতে পারেন , এছাড়া ঢাকা থেকে শ্রীমঙ্গলের মধ্যে চলাচলকারি বাসগুলোর মধ্যে আছে-শ্যামলী পরিবহন, গ্রীনলাইন পরিবহন, হানিফ এণ্টারপ্রাইজ। শ্রীমঙ্গল শহর থেকে রিকশা নিয়ে কালীঘাট রোডের কিছুদূর গেলেই পেয়ে যাবেন নীলকণ্ঠ চা কেবিন। রিকশা ভাড়া নেবে ১০ টাকা। আর দ্বিতীয় কেবিনটি একই সড়ক ধরে রামনগরে অবস্থিত। শ্রীমঙ্গল শহর থেকে ২০-২৫ টাকা রিকশা ভাড়া নিবে।

খাবার সুবিধা

এখানকার রিসোর্টে খাওয়ার সুব্যবস্থা রয়েছে। এছাড়া স্থানীয় দোকানগুলোতে গিয়ে আপনি স্ন্যাক্স জাতীয় খাবার খেতে পারবেন।

থাকার জায়গা

শ্রীমঙ্গলের সবচেয়ে সুন্দর রিসোর্ট ও হোটেল গুলোর মধ্যে

পাঁচ তারকা রিসোর্ট গুলোর মধ্যে গ্র্যান্ড সুলতান টি রিসোর্ট এন্ড গলফ । সর্বনিন্ম রুম ভাড়া কিং ডিলাক্স ২৪,০০০ টাকা এবং সর্বোচ্চ রুম ভাড়া প্রেসিডেন্সিয়াল সুইট ৭৮,০০০ টাকা। তবে বিভিন্ন সময় এবং উপলক্ষে রুম ভাড়ার উপর ডিসকাউন্টের ব্যবস্থা।

এছাড়াও রয়েছে নভেম ইকো রিসোর্ট, দুসাই রিসোর্ট এন্ড স্পা  যেখানে সর্বনিম্ন ১০০০০ টাকা থেকে সর্বোচ্চ রুম ভাড়া ৬০০০০ টাকা ।

শ্রীমঙ্গল টি রিসোর্ট, টি হেভেন রিসোর্ট, নিসর্গ ইকো-রিসোর্ট, সুইস ভ্যালি রিসোর্ট  গুলোতে সম্পূর্ন নিজের মত থাকার জন্য পারফেক্ট । এখানে বিভিন্ন ক্যাটাগরির রুম পেয়ে যাবেন। সর্বনিম্ন ২০০০ টাকা থেকে সর্বোচ্চ রুম ভাড়া ৫০০০ টাকা ।

এছাড়াও আবাসিক হোটেলের মধ্যে

হোটেল মেরিনা, হোটেল মহসিন প্লাজা, হোটেল আল রহমান । যেখানে সর্বনিম্ন ৫০০ টাকা থেকে ৪০০০ টাকা এর মধ্যে নানারকম কক্ষ পেয়ে যাবেন।