শ্রমিক সংকটের আশংকা! রাণীনগরে বোরো ধান ঘরে তোলার চিন্তাই দিশেহারা কৃষকরা

 সুকুমল কুমার প্রামানিক, রাণীনগর (নওগাঁ) প্রতিনিধি: আর মাত্র কয়েকদিন বাদে শুরু হবে বোরো ধান কাটা। আগাম জাতের ধান ইতি মধ্যে পাকা শুরু হয়েছে। কিন্তু করোনা ভাইরাসের প্রভাবে ধান কাটা শ্রমিকের তীব্র সংকট দেখা দিতে পারে এমনটি আশংকা করছেন কৃষকরা। ফলে নওগাঁর রাণীনগর উপজেলার লাখ লাখ কৃষক ঘরে ধান তোলা নিয়ে দূশ্চিন্তাই দিশেহারা হয়ে পরেছেন কৃষকরা। রাণীনগর উপজেলা কৃষি অফিস সূত্রে জানা যায়, চলতি ইরি-বোরো মৌসুমে উপজেলায় ১৮ হাজার ৫৮৫ হেক্টর জমিতে ধান রোপন করা হয়েছে। শুরু থেকে আবহাওয়া অনুকুলে থাকায় ধান বেশ ভাল হয়েছে। কৃষি কর্মকর্তা ও কৃষকরা মনে করছেন, অন্যান্য বছরের তুলনায় এবার রোগ বালায় না থাকায় ধানের অনেক ভাল ফলন হবে। কৃষি অফিসের তথ্য মতে, ইতি মধ্যে আগাম জাতের ধান পাক ধরেছে। হয়তো আগামী সপ্তাহের শেষের দিকে এসব ধান কাটা শুরু হবে। কিন্তু সারাদেশে করোনা ভাইরাসের কারনে একদিকে যেমন একের পর এক জেলাগুলো লক ডাউন করে দেয়া হচ্ছে। অন্য দিকে স্বাস্থ্য বিধি মেনে চলতে জনসমাগম এরিয়ে সামাজিক জনদূরত্ব বজায় রেখে চলতে হচ্ছে জনসাধারনকে। কৃষকরা বলছেন, উপজেলা জুরে ধান কাটা মৌসুমে দেশের বিভিন্ন জেলা থেকে লক্ষাধীক শ্রমিক এসে ধান কেটে ঘরে তুলে দেন। কিন্তু এবার কি হবে! ইতি মধ্যে করোনা ভাইরাস রোধে বুধবার সন্ধা ৬টা থেকে সমগ্রহ নওগাঁ জেলাকে লক ডাউন ঘোষনা করেছেন জেলা প্রসাশন। এর মধ্যে কিভাবে শ্রমিকরা আসবেন। এনিয়ে সর্বত্র চলছে আলোচনা সমালোচনা। যদি শ্রমিকরা লকডাউনের মধ্যে সময় মতো আসতে না পারেন তা হলে কিভাবে ধান ঘরে উঠবে এমন দুশ্চিন্তাই কৃষদের ঘুম নেই। এমন ভাবনা যেন দূর্বল করে ফেলছে কৃষকদেরকে। রাণীনগর উপজেলার কালিগ্রামের খলিলুর রহমান, চামটা গ্রামের মিলন আহম্মেদ, ভেটিগ্রামের দুলাল হোসেন, বোদলা গ্রামর সাইদুর রহমানসহ অনেক কৃষকরা বলেন, আমন আবাদে ধান পাকার পরেও ধান কাটতে হাতে কিছু সময় পাওয়া যায়। কিন্তু ইরি-বোরো মৌসুমে নানান রকম প্রাকৃতিক দূর্যোগ লেগেই থাকে। ফলে ধান পাকার সাথে সাথেই কেটে ঘরে তুলতে ব্যস্ত হয়ে পরতে হয়। কয়েক বছর ধরে এমনিতে ধানের আবাদে নানা কারনে লোকসান গুনতে হয়েছে। এই মৌসুমেও যদি শ্রমিক সংকটে সময় মতো ধান ঘরে তোলা না যায় তাহলে ব্যপক লোকসানের কবলে পরতে হবে। তাই ধান ঘরে তুলতে কৃষি শ্রমিকদের অবাধ চলাচলের জন্য প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে সংশ্লিষ্ঠদের প্রতি অনুরোধ জানিয়েছেন কৃষকরা। এ ব্যাপারে রাণীনগর উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা শহিদুল ইসলাম বলেন, কৃষি শ্রমিকরা যেন অবাধে আসতে পারে এবং কৃষকদের ধান কেটে ঘরে তুলে দিতে পারে সে লক্ষে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে সংশ্লিষ্ঠ উপর মহলে চিঠি দেয়া হয়েছে। ধান কাটা শ্রমিক নিয়ে কৃষকদের চিন্তার কোন কারণ নেই আসা করছি সমস্যার সমাধান হবে।