শ্রমিকদের ধাওয়া খেয়ে সিলেটের শ্রমিক নেতা ফলিক আশ্রয় নেন এনা বাস কাউন্টারে

এনাম রহমান, সিলেট জেলা প্রতিনিধি:   সিলেটের পরিবহণ শ্রমিকদের তােপের মুখে পড়েছেন জেলা পরিবহণ শ্রমিক ইউনিয়নের একাংশের সভাপতি সেলিম আহমদ ফলিক। শ্রমিকদের ধাওয়ার মুখে ফলিক স্থানীয় এনা পরিবহণ কাউন্টারে আশ্রয় নিয়ে নিজেকে রক্ষা করেন।

সশস্ত্র সন্ত্রাসীরা ফলিকের পক্ষে অবস্থান নিয়ে টার্মিনালে প্রবেশ করায় ধাওয়ার মুখে সন্ত্রাসীরা আশ্রয় নেয় এনা পরিবহন কাউন্টারে। ফলে পরিস্থিতি নাজুক পর্যায়ে চলে যাচ্ছে। লকডাউনের সময় পরিবহণ শ্রমিকরা কোনাে ধরণের সহযােগিতা না পাওয়ায় সৃষ্টি হয়েছে।

ওই অবস্থার শ্রমিকরা বলেছেন, শ্রমিকদের একটি তহবিল রয়েছে। ওই তহবিল থেকে তাদের সহযােগিতা পাওয়ার কথা। কিন্তু দুর্দিনে সহযােগিতা না করে অকথ্য ভাষায় গালিগালাজ করায় শ্রমিকদের মধ্যে অসন্তোষ ছড়িয়ে পড়ে। এখন শ্রমিকরা ২৬ মাসের হিসেব চেয়েছেন।

হিসেব না দিয়ে অফিসে প্রবেশে ফলিকের উপর নিষেধাজ্ঞা জারি করেছেন শ্রমিকরা। সিলেট জেলা শ্রমিক ইউনিয়নের শ্রমিকরা। জানান, তারা দিন-রাত পরিশ্রম করার পরও সংগঠনের চাঁদা প্রদান করে আসছেন। ফলিক রক্ষক হয়ে ভক্ষকের কাজ করছেন দীর্ঘদিন থেকে। শ্রমিকদের ব্যবহার করেছেন যত্রতত্র।

করােনা আসার পর সারা বাংলাদেশে শুরু হয় লকডাউন। কর্মহীন হয়ে পড়া শ্রমিকদের জীবনে নেমে আসে দুর্দশা। এই সময়ে সভাপতি ফলিক সংগঠনের পক্ষ থেকে একটা টাকাও কাউকে দান করেননি। ত্রাণও দেননি যা শ্রমিকদের মাঝে এনে দিয়েছে চরম অসন্তোষ।

সিলেট জেলা বাস মালিক সমিতির সাবেক সহ সভাপতি আবদুল মান্নান বলেন, সেলিম আহমদ ফলিকের কাছে শ্রমিকদের পাওনা ৫৯ লাখ টাকা। এই টাকা পরিশােধের আল্টিমেটাম দেয়ার পর সেলিম আহমদ ফলিক ৩১ মে ১৪ লাখ টাকা পরিশােধ করেছেন। বাকি টাকার তিনটি চেক দিয়েছেন।

২৫, ২৭ ও ৩০ জুন ওই তিনটি চেক দিয়ে টাকা উত্তোলনের সময় রয়েছে। এছাড়া সংগঠনের ২৬ মাসের ব্যাংক স্ট্যাটমেন্ট চেয়েছেন শ্রমিকরা। খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, লকডাউনের সময় বেকার হয়ে পড়া শ্রমিকরা কোনাে ধরনের সহযােগিতা না পেয়ে গত ২৬ রমজান জড়াে হন জেলা পরিবহণ শ্রমিক ইউনিয়ন অফিসে।

সেলিম আহমদ ফলিকের কাছে শ্রমিকরা টাকার হিসাব চান। ফলিক সে হিসাব দিতে অপারগতা প্রকাশ করলে- শ্রমিকরা তাকে ধাওয়া করেন। প্রাণ বাঁচানাের জন্য দৌড়ে গিয়ে এনা কাউন্টার আশ্রয় নেন এবং বেঁচে যান ফলিক। শ্রমিকদের হিসাব অনুযায়ী ফলিকের কাছে তাদের ৫৯ লাখ টাকা পাওনা।

পরিস্থিতি খারাপের দিকে চলে যাওয়ার পর কয়েকজন পরিবহণ নেতা ঘটনাস্থলে গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনেন। পরবর্তীতে ফলিকের পুত্র সশস্ত্র অবস্থায় সন্ত্রাসী নিয়ে টার্মিনালে মহড়া দেয়ার চেষ্টা করে। শ্রমিকদের ধাওয়ার মুখে তারাও এনা পরিবহণের কাউন্টারে গিয়ে আশ্রয় নেয়।

এ সময় দক্ষিণ সুরমা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মোঃ খায়রুল ফজল একদল পুলিশ নিয়ে ঘটনাস্থলে এলে পরিস্থিতি স্বাভাবিক হয়।