শ্বশুর বাড়ির নির্যাতনের স্বীকার আফরোজা ৫ দিন নিখোঁজ

নিখোজ আফরোজা

নজরুল ইসলাম, ঝিনাইদহ প্রতিনিধিঃ ঝিনাইদহ সদর উপজেলার কুমড়াবাড়িয়া ইউনিয়নে স্ত্রীকে শারীরিক নির্যাতন করে বাড়ি থেকে বের করে দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে।

জানা যায়, কুমড়াবাড়িয়া ইউনিয়নের ধোপাবিলা গ্রামের মোঃ হাবিল উদ্দিনের ছেলে রিপন (২৩) তার স্ত্রী আফরোজা (১৭) কে যৌতুকের টাকার জন্য শারীরিক নির্যাতন করে বাড়ি থেকে থেকে বের করে দিয়েছে।
আফরোজা পাশ্ববর্তী রামচন্দ্রপুর পুর গ্রামের ফরিদার মেয়ে। জন্মের পর থেকেই তার বাবা ফারুক তার মা ফরিদাকে তালাক দিয়ে চলে যায়। মামা বাড়িতেই বড় হয় আফরোজা।

গ্রামবাসি ও নিকট আত্বীয়ের আর্থিক সহযোগিতায় রিপনের সাথে বিয়ে দেওয়া হয় আফরোজার,৪ বছরের সংসার জীবনে এখন তাদের এক ছেলে। যদিও বিয়ের সময় যৌতুকের কোন কথা ছিলনা,তবুও বিয়ের পর থেকে টাকার জন্য নির্যাতন শুরু হয়।

এলাকাবাসি জানান, রিপন নেশা করে টাকার জন্য প্রতিদিন মেয়েটাকে মারধর করে, এতে রিপনের মা ছাবিনাও অংশ গ্রহন করেন।কেউ ঠেকাতে আসলে তাদের সাথেও খারাপ ব্যবহার করেন।

আফরোজার মা ফরিদা বলেন,আমি গরিব মানুষ আমার স্বামী নেই,মেয়ের কথা চিন্তা করে আমি আমার ভাইদের কাছ থেকে আমার ফারাজ এর জমি বিক্রি করে জামাইকে ৭০ হাজার টাকা দিয়েছি,তবুও ওরা আরো টাকা চায়।

আমি টাকা কোথায় পাবো?? টাকা না দিতে পারায় ওরা আমার মেয়েকে খুব মারধর করেছে,এখন সে জামাই বাড়ি থেকে নাতিকে সাথে নিয়ে নিখোঁজ। না জানি ওরা আমার মেয়েকে মেরে ফেলেছে। আমি আমার মেয়েকে ফেরত চাই।এ রিপোর্ট লেখা পর্যন্ত থানায় মামলার প্রস্তুতি চলছিল।

এ ব্যাপারে রিপনের সাথে কথা বলার জন্য তাকে পাওয়া যায়নি।তার মুঠোফোনটিও বন্ধ আছে।
অত্র ওয়ার্ডের মেম্বর জিল্লুর রহমান জানান, বিয়ের পর থেকেই রিপন ও তার মা দুজনেই মেয়েটাকে খুব নির্যাতন করে। এরা খুব বেয়াদব কারো কথা শোনেনা। এ বিষয় নিয়ে অনেকবার বসাবসিও হয়েছে।