শেয়ার ধারণে ৩০ শতাংশ ব্যর্থ বেশিরভাগ কোম্পানি

সুজিত চক্রবর্তী, নিজস্ব প্রতিবেদকঃ পরিচালকদের সম্মিলিত ৩০ শতাংশ শেয়ার ধারণের সময়সীমা শেষ হয়েছে গতকাল। তবে এখনও বিএসইসির এই নির্দেশনা বাস্তবায়ন করতে পারেননি বেশিরভাগ কোম্পানির উদ্যোক্তা-পরিচালক। বিএসইসির চেয়ারম্যান বলছেন, নির্দেশনা পালনে ব্যর্থদের বিরুদ্ধে শিগগিরই ব্যবস্থা নেয়া হবে।

পুঁজিবাজার বিশ্লেষকরা বলছেন, নির্দেশনা অমান্যকারীদের বিরুদ্ধে সব ধরনের আইনগত এখতিয়ার রয়েছে নিয়ন্ত্রক সংস্থার। বিএসইসির এই অবস্থান পুঁজিবাজারের জন্য সুখবর বলেছেন তারা।

২০১০ সালে পুঁজিবাজারে ধসের পর তদন্ত কমিটির প্রতিবেদনে উঠে আসে উদ্যোক্তা-পরিচালকদের বেশিরভাগ শেয়ার বিক্রির তথ্য।এরই প্রেক্ষিতে ২০১১ সালে পরিচালকদের ব্যক্তি পর্যায়ে ২ শতাংশ ও সম্মিলিতভাবে ৩০ শেয়ার ধারণে নির্দেশনা জারি করে নিয়ন্ত্রক সংস্থা-বিএসইসি। বিষয়টি গড়ায় উচ্চ আদালতে। বিএসইসির নির্দেশনাকে বৈধ বলে আদেশ দেয় আদালত।

এরপর তৎকালীন কমিশন পরিচালকদের শেয়ার ধারণের নির্দেশনা বাস্তবায়নে কয়েক দফা চিঠি দিয়েই দায় সারে। কিন্তু লাভ হয়নি এতটুকু। উল্টো নতুন করে তালিকাভুক্ত হওয়া কোম্পানির উদ্যোক্তা-পরিচালকরাও বিক্রি করেছেন নিজেদের নূন্যতম শেয়ার। যার বিরুদ্ধেও অদৃশ্য কারণে কোনো ব্যবস্থা নেয়া হয়নি।কিন্তু চলতি বছর মে মাসে বিএসইসিতে নতুন নেতৃত্ব এসেই নির্দেশনাটি বাস্তবায়ন চিঠি দেয় উদ্যোক্তা-পরিচালকদের। ২ শতাংশ ধারণ না করায় এরইমধ্যে ১৭ জন পরিচালককে পদ থেকে সরিয়ে দেয়া হয়েছে। ৩০ শতাংশ শেয়ার ধারণের নির্ধারিত সময়সীমাও শেষ হয়েছে ৩০ নভেম্বর।বিএসইসির চেয়ারম্যান শিবলী রুবাইয়াত-উল-ইসলাম বলছেন, প্রয়োজনে ন্যূনতম শেয়ার ধারণে পূর্নগঠন করা হবে পরিচালনা পর্ষদ।কোম্পানি আইনের বিশ্লেষক এ এম মাসুম বলছেন, নির্দেশনা ভঙ্গকারিদের বিরুদ্ধে সবধরণের আইনগত ব্যবস্থা নেয়ার এখতিয়ার আছে। ৩০ শতাংশ শেয়ারধারন বাস্তবায়ণের বিএসইসি অবস্থানকে পুঁজিবাজারের জন্য সুখবর বলেছেন পুঁজিবাজারের বিশ্লেষক অধ্যাপক আবু আহমদ। চিঠি পাওয়া ৪১ টি প্রতিষ্ঠানের কয়েকটি ছাড়া বাকিরা এখনও পূরণ করতে পারেনি ৩০ শতাংশ ধারণের নির্দেশনা।