শেরপুরে নতুন করে ৬ জনের শরীরে করোনা সনাক্ত; মৃত ১

সোহেল রানা, শেরপুর প্রতিনিধি: শেরপুর জেলায় আজ নতুন করে ৬ জনের শরীরে করোনা সনাক্ত হয়েছে, এর মধ্যে নকলা উপজেলার ৩০ বছর বয়সী এক নারী করোনা পজেটিভ নিয়ে হৃদক্রিয়া বন্ধ হয়ে মৃত্যু বরণ করেছেন। নতুন করে আক্রান্তরা হলেন- শেরপুর সদর, নালিতাবাড়ী ও ঝিনাইগাতী উপজেলার ১ জন করে এবং নকলা উপজেলার ৩ জন। নকলা হাসপাতালের মেডিক্যাল টেকনোলজিস্ট আবু কাউসার বিদ্যুতের দেয়া তথ্য মতে, ৬ জুন শনিবার নকলা উপজেলায় নতুন করে ৩ জনের শরীরে করোনা ভাইরাস (কোভিট-১৯) সনাক্ত হয়েছে।

এদের মধ্যে পাঠাকাটা ইউনিয়নের কৈয়াকুড়ি কান্দা পাড়া এলাকার সুফিয়া বেগম (৩০) নামে এক নারী ৪ জুন বৃহস্পতিবার সকাল ১১ টায় নমুনা দেওয়ার পরে ওই দিন সন্ধ্যায় হৃদক্রিয়া বন্ধ হয়ে তিনি মারা যান। নকলায় নতুন করে করোনা সনাক্ত হওয়া অন্য ২ জন হলেন- নকলা উত্তর বাজারস্থ আজিজ ফার্মেসীর কর্মচারী ছামিদুল ইসলাম ও নকলা মধ্য বাজারের মুদি দোকানদার সোহেল কুমার সাহা। জানা গেছে, নিহত সুফিয়া বেগম দীর্ঘদিন ধরে হৃদরোগে ভোগছিলেন। বিভিন্ন হাসপাতাল ও ক্লিনিকে হৃদরোগ বিশেষজ্ঞদের কাছে তিনি চিকিৎসা নিয়েছেন। চিকিৎসা শেষে বাড়ি ফিরলে ৪ জুন দুপুরের দিকে তার শরীর থেকে নমুনা সংগ্রহ করা হয় এবং ওই দিন সন্ধ্যায় হৃদক্রিয়া বন্ধ হয়ে তিনি মারা যান। তাই অনেকের ধারনা সুফিয়া বেগম শুধুমাত্র করোনাতে আক্রান্ত হয়ে মারা যায়নি, তিনি মূলত হৃদরোগে আক্রান্ত হয়ে মারা গেছেন বলে স্থানীয়রা মনে করছেন।

উপজেলা স্বাস্থ্য ও প.প কর্মকর্তা ডা. মুহাম্মদ মজিবুর রহমান জানান, ৬ জুন শনিবার পর্যন্ত করোনা আক্রান্তের সন্দেহে নকলা উপজেলার ৪৭৯ জনের শরীর থেকে নমুনা সংগ্রহ করা হয়েছে; এর মধ্যে ৪৪৯ জনের নমুনা পরীক্ষার রিপোর্ট এসেছে। রিপোর্ট অনুযায়ী আজ শনিবার পর্যন্ত উপজেলায় করোনা ভাইরাসে (কোভিট-১৯) আক্রান্ত সনাক্ত হয়েছে ২৩ জন। এর মধ্যে ১১ জন সম্পূর্ণ সুস্থ্য হয়ে নিজ বাসা-বাড়িতে ফিরে গেছেন, আর এক জন রিপোর্ট আসার আগেই মারা গেছেন।

আক্রান্ত বাকি ১১ জনের মধ্যে ৬ জন নকলা হাসপাতালের আইসোলেশন ওয়ার্ডে এবং ৫ জনকে তাদের মৌখিক আবেদনের প্রেক্ষিতে হোম আইসোলেশনে রাখা হয়েছে। উল্লেখ্য, আজ ৬ জুন শনিবার পর্যন্ত জেলায় মোট আক্রান্তের সংখ্যা ১২০ জন, এর মধ্যে ৬৮ জন সম্পূর্ণ সুস্থ্য হয়ে ফিরে গেছেন এবং মারা গেছেন এক নারীসহ ২ জন। করোনা উপসর্গ নিয়ে মারা যাওয়া ২ জনই রিপোর্ট পাওয়ার আগেই মৃত্যু বরণ করেন।

অনেকে বলেন, মৃত্যু বরণ করা ২ জনের শরীরে করোনা ভাইরাসের উপস্থিতি থাকতেই পারে, তাইবলে তারা যে শুধুমাত্র করোনা ভাইরাস (কোভিট-১৯)-এ আক্রান্ত হয়ে মারা গেছেন, তা বলা যাবে না। কারন হিসেবে তারা জানান, এ ২ জন দীর্ঘদিন ধরে অন্য মারাত্মক রোগে ভোগ ছিলেন। তাই এ ২ জন শুধু মাত্র করোনা ভাইরাস (কোভিট-১৯)-এ আক্রান্ত হয়ে মারা যায়নি, বরং অন্য রোগে আক্রান্ত হয়েই মারা গেছেন বলে দৃঢ় বিশ্বাসের সহিদ অনেকে জানিয়েছেন।