শীতে করোনার সংক্রমণ বাড়ার আশংকা, ভারতে আক্রান্তের সংখ্যা ৬৩ লক্ষ

শীতের শুরুতে করোনা ভাইরাসের দ্বিতীয় ধাক্কা আসতে পারে বলে আশংকা করছেন দেশের বিজ্ঞানীরা। সচেতন না হলে দ্বিতীয় ধাপ ভয়াবহ হয়ে উঠতে পারে বলেও আশংকা তাদের। সম্ভাব্য এই ধাক্কা সামলাতে সরকারি তরফ থেকেও প্রস্তুতি শুরু হয়েছে। তবে, আগের মত সাধারণ ছুটিতে ফেরার কোন সম্ভাবনা নেই বলেও জানিয়েছে সরকারি সূত্র।

বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা ও বিশেষজ্ঞ প্রতিবেদনে আভাস দেয়া হয়েছে- শীতকালে করোনা অতিমারীর সংক্রমণ বাড়তে পারে। এরইমধ্যে ইউরোপের বিভিন্ন দেশে সংক্রমণ বাড়তে শুরু করেছে। ফলে নতুন করে বিধিনিষেধ আরোপ করা হয়েছে কোন কোন দেশে।

বাংলাদেশে করোনা পরিস্থিতি অনেকটা নিয়ন্ত্রণে থাকায় স্বাস্থ্যবিধি মানার ক্ষেত্রে মানুষের মধ্যে উদাসীনতা চলে এসেছে।

স্বাস্থ্য অধিদপ্তর জানিয়েছে, করোনা অতিমারীর সম্ভাব্য দ্বিতীয় ধাক্কা সামাল দিতে বিভিন্ন পদক্ষেপ নিয়েছে সরকার। করোনার নমুনা পরীক্ষার পরিসর বাড়ানো হয়েছে। এরই মধ্যে দেয়া হয়েছে এন্টিজেন পরীক্ষার অনুমোদন। হাসপাতালের শয্যা ও আইসিইউ সংখ্যা বাড়ানোর ব্যবস্থাও নেয়া হয়েছে। এছাড়া, ভ্যাকসিন আনতে বিভিন্ন দেশের সাথে নিয়মিত যোগাযোগ রক্ষা করছে বাংলাদেশ।

তবে, সামাজিক দূরত্ব বজায় রাখা এবং স্বাস্থ্যবিধি মেনে চললে দ্বিতীয় ধাপেও করোনা দেশে খুব একটা খারাপ পরিস্থিতি সৃষ্টি করতে পারবেনা বলে মনে করছেন, স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের এই কর্মকর্তা।

অন্যদিকে, ভারতে করোনা আক্রান্তের সংখ্যা ৬৩ লক্ষে। ৭৪ লক্ষে আমেরিকা। দেশে যে-হারে কোভিড রোগীর সংখ্যা বাড়ছে, তাতে চলতি মাসেই বিশ্ব-তালিকার শীর্ষে ভারতের উঠে আসা সম্ভব বলে বিশেষজ্ঞদের আশঙ্কা।

ভারতে করোনা সংক্রমিতের সংখ্যা ১৬ সেপ্টেম্বর ছিল ৫০ লক্ষ, ২৮ সেপ্টেম্বর হয়েছে ৬০ লক্ষ। অর্থাৎ ১০ লক্ষ রোগী বেড়েছে ১২ দিনে। ‘আনলক-৫’-এ মাল্টিপ্লেক্স, বিনোদন পার্ক-সহ বেশ কিছু ক্ষেত্রকে ছাড় দেওয়া হয়েছে। আসন্ন উ‌ৎসবে ভিড়ও বাড়বে রাস্তাঘাটে। ফলে সংক্রমণ বৃদ্ধি নিয়ে চিন্তা আরো বাড়ছে।

গত ২৪ ঘণ্টায় করোনা আক্রান্ত ৮৬,৮২১ জন— একই সময়ে সুস্থের সংখ্যার চেয়ে হাজারখানেকের সামান্য বেশি। মৃত্যু ফের ১১০০ পেরিয়েছে। আর সুস্থ কোভিড রোগীর সংখ্যা ৫২.৭৩ লক্ষ, যা অ্যাক্টিভ রোগীর সংখ্যার ৬ গুণের কাছাকাছি। সুস্থতার হার ৮৩.৫৩ শতাংশ। মৃত্যুহার ১.৫৬ শতাংশে নেমেছে। গত কাল ১৪ লক্ষেরও বেশি নমুনা পরীক্ষা হয়েছে।