শিশু রকিকে নির্যাতনকারী আতাউর গ্রেফতার হবে কি?

মাহবুব জুয়েল, তানোর (রাজশাহী) প্রতিনিধি: রাজশাহীর তানোরে জামায়াত মতাদর্শী মাদরাসা শিক্ষক আতাউর রহমানের চরম দৌরাত্ন্যে গ্রামবাসী অতিষ্ঠ হয়ে উঠেছে।

স্থানীয়রা জানান, জামায়াত-বিএনপি মতাদর্শী একজন অসাধু ব্যাক্তির মদদে আতাউর বে-পরোয়া হয়ে উঠেছে। এদিকে আতাউর রহমানের বিরুদ্ধে উঙ্খাপিত অভিযোগের সুষ্ঠ তদন্ত সাপক্ষে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য স্থানীয় সাংসদ (এমপি), রাজশাহী জেলা প্রশাসক (ডিসি) ও রাজশাহী পুলিশ সুপার (এসপি) এর জরুরী হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন ভুক্তভোগী পরিবার।

স্থানীয় সুত্রে জানা গেছে, তানোরে পুর্ববিরোধের জের ধরে চিনাশো সিনিয়র আলিম মাদ্রাসার সহকারী শিক্ষক ও চুনিয়াপাড়া গ্রামের মৃত আজিমুদ্দিনের পুত্র জামায়াত মতাদর্শী আতাউর রহমান মাদ্রাসার ৮ম শ্রেণীর মেধাবী শিক্ষার্থী রকিকে (১৪) দেশীয় অস্ত্র দিয়ে পিটিয়ে গুরুত্বরভাবে জখম করেছে। তানোরের মুন্ডুমালা পৌর এলাকার চুনিয়াপাড়া গ্রামে এ ঘটনা ঘটেছে।

শিক্ষকের দেশীয় অস্ত্রের আঘাতে শিক্ষার্থীর মাথা ফেটে চৌচির হয়েছে এতে ওই শিক্ষার্থীর এক হাত, এক পা অকেজো এবং বাক ও স্মৃতিশক্তি হারিয়ে রামেক হাসপাতালে মৃত্যুর সঙ্গে পান্জা লড়ছে।

এ ঘটনায় চলতি বছরের ১৬মে বৃহস্প্রতিবার আহত রকির পিতা মাহাবুর রহমান বাদি হয়ে আতাউর রহমানসহ ৯ জনকে আসামী করে তানোর থানায় মামলা করেছেন। কিন্তু দীর্ঘ ১২দিন অতিবাহিত হলেও পুলিশ আসামিদের গ্রেফতার করতে পারেনি।

এদিকে এই সুযোগে প্রকৃত ঘটনা আড়াল ও ধাঁমাচাঁপা দিয়ে ভিন্নখাতে প্রভাবিত করতে ১৯মে রোববার আতাউরের পক্ষে তার স্বজন মাসুম রেজার স্ত্রী সীমা রেজা বাদি হয়ে চিকিৎসাধীন রকিসহ ১০জনকে আসামী করে রকির পরিবারের বিরুদ্ধে কাউন্টার মামলা করেছে।

প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, চলতি বছরের ১৪মে বৃহস্পতিবার শিক্ষক আতাউর রহমান তার লোকজন নিয়ে গ্রামের চলাচলের রাস্তা বেড়া দিয়ে বন্ধ করে দেয়। এদিন সন্ধ্যায় রকি ওই বেড়া অপসারণ করতে গেলে আতাউর রহমান দেশীয় অস্ত্র দিয়ে রকির মাথায় আঘাত করলে তার মাথা ফেটে চৌচির হয়ে সেখানেই টলে পড়ে।

এ সময় তার স্বজনরা তাকে মুমুর্ষ অবস্থায় উদ্ধার করে তানোর উপজেলা হাসপাতালে নিলে অবস্থা আশঙ্কাজনক বলে তারা তাকে রামেক হাসপাতালে প্রেরণ করেন।

এদিকে রকির পিতা মাহাবুর রহমান বাদি হয়ে শিক্ষক আতাউর রহমানের বিরুদ্ধে মুন্ডুমালা পুলিশ তদন্তকেন্দ্র অভিযোগ করতে গেলে তাদের অভিযোগ না নিয়ে আপোষ-মিমাংসার কথা বলে তাদের ফিরিয়ে দেয়া হয়। অথচ ঘটনার ৫দিন অতিবাহিত হবার পর ১৯মে রোববার আহত রকির পরিবারের বিরুদ্ধে কাউন্টার মামলা করা হয় এতে রকিকেও আসামী করা হয়।

এবিষয়ে জানতে চাইলে মাহাবুর রহমান বলেন, তার পুত্র রকির অবস্থা আশঙ্কাজনক। তিনি বলেন রকির মাথার মগজ বের হয়ে গেছে, একহাত, একপা অচল এবং বাক ও স্মৃতিশক্তি হারিয়ে মৃত্যুর মুখোমুখি তার চিকৎসা করাতে ইতমধ্য প্রায় দেড় লাখ টাকা খরচ হয়েছে।

এবিষয়ে জানতে চাইলে আতাউর রহমান অভিযোগ অস্বীকার করে বলেন, রকিরাই তাদের মারপিট করেছে।