শিশু উন্নয়ন কেন্দ্রে ৩ হত্যা: মন্ত্রণালয়ের কমিটির প্রতিবেদন জমা

কমিটিকে পাঁচ কর্ম দিবসের মধ্যে তদন্ত প্রতিবেদন দিতে বলা হয়েছে।

যশোর শিশু উন্নয়ন কেন্দ্রে তিন কিশোরকে পিটিয়ে হত্যার ঘটনায় মন্ত্রণালয় গঠিত তদন্ত কমিটি প্রতিবেদন জমা দিয়েছে। মঙ্গলবার রাতে ই-মেইলে এই প্রতিবেদন জমা দেয়া হয় বলে জানান কমিটির প্রধান যশোরের অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেট আবু লাইছ।

তিনি বলেন, ২৭ পৃষ্ঠার প্রতিবেদনে ঘটনার কারণ ও তারপর নেয়া পদক্ষেপ যথাযথ ছিল কিনা সে বিষয়ে উল্লেখ করা হয়েছে। এছাড়া শিশু উন্নয়ন কেন্দ্রের দায়-দায়িত্ব নিরূপণে আটটি পর্যবেক্ষণ ও ১০টি সুপারিশ করা হয়েছে।

প্রসঙ্গত, গত ১৩ আগস্ট যশোর শিশু উন্নয়ন কেন্দ্রে কিশোর ‘বন্দিদের’ অমানুষিক মারপিট করা হলে তিন কিশোর নিহত ও অন্তত ১৫ জন আহত হয়। এ ঘটনায় ১৪ আগস্ট রাতে নিহত কিশোর পারভেজ হাসান রাব্বির বাবা রোকা মিয়া যশোর কোতয়ালী থানায় হত্যা মামলা করেন।

মামলায় যশোর শিশু উন্নয়ন কেন্দ্রে কর্তৃপক্ষকে আসামি করা হয়। এ মামলায় কেন্দ্রের সহকারী পরিচালকসহ পাঁচ কর্মকর্তা-কর্মচারীকে গ্রেপ্তার করা হয়। রিমান্ড শেষে ওই পাঁচ কর্মকর্তাকে কারাগারে পাঠানো হয়েছে। গ্রেপ্তারের পর পাঁচ কর্মকর্তাকে সাময়িক বরখাস্ত করেছে সমাজকল্যাণ মন্ত্রণালয়। রিমান্ড শেষে তারা কারাগারে রয়েছে।

একই ঘটনায় জড়িত থাকার অভিযোগে আদালতের নির্দেশে গত ১৬ ও ১৭ আগস্ট কেন্দ্রের বন্দি ৮ কিশোরকে শ্যোন অ্যারেস্ট দেখানো হয়। তারা হলেন- গাইবান্ধার খালিদুর রহমান তুহিন, নাটোরের হুমাইদ হোসেন ও মোহাম্মদ আলী, পাবনার ইমরান হোসেন ও মনোয়ার হোসেন, রাজশাহীর পলাশ ওরফে শিমুল ওরফে পলান, কুড়িগ্রামের রিফাত আহমেদ ও চুয়াডাঙ্গার আনিছুজ্জামান।

আদালতে তাদেরকে চারদিন করে জিজ্ঞাসাবাদের অনুমতি দিয়েছে পুলিশকে। মঙ্গলবার তাদের জিজ্ঞাসাবাদ শেষ হয়েছে। এছাড়াও পাঁচ সাক্ষী আদালতে জবানবন্দি দিয়েছে। তিন কিশোর বন্দি হত্যার ঘটনায় কর্মকর্তা ও বন্দিসহ মোট ১৩জনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে.