শিপিং লাইনের ডেমারেজ আদায় না করতে বিজিএমইএর চিঠি

মোঃ রাশেদ, চট্টগ্রাম প্রতিনিধিঃ করোনাকালে বন্দর কর্তৃপক্ষের স্টোর রেন্টের মতো শিপিং লাইনের ডেমারেজ বা ডিটেনশন চার্জ আদায় না করার জন্য চিঠি দিয়েছে বিজিএমইএ।

বৃহস্পতিবার (৩০ এপ্রিল) বন্দর চেয়ারম্যানকে বিজিএমইএর প্রথম সহ-সভাপতি মোহাম্মদ আবদুস সালাম এ চিঠি দেন।

শিপিং অধিদফতরের মহাপরিচালকের (ডিজি) সার্কুলারের আলোকে গত ২৬ মার্চ থেকে আগামী ৫ মে পর্যন্ত সরকার ঘোষিত সাধারণ ছুটির মধ্যে শিপিং লাইনের ফ্রি টাইমের পর ডেমারেজ বা ডিটেনশন চার্জ আনায় না করার নির্দেশনার আলোকে এ চিঠি দেওয়া হয়।

চিঠিতে বলা হয়, চট্টগ্রাম বন্দরের অপারেশনাল কার্যক্রম সচল রাখতে পোশাক শিল্প প্রতিষ্ঠানগুলো বর্তমান পরিস্থিতিতে আর্থিক সংকটের মধ্যেও শিপিং লাইনগুলোকে ডেমারেজ চার্জ দিয়ে পণ্য চালান খালাস করছে।

সূত্রোক্ত (ডিজি শিপিং) নির্দেশনার আলোকে শিপিং লাইনগুলোকে ডেমারেজ বা ডিটেনশ চার্জ আদায় না করা এবং ইতিমধ্যে আদায় করা অর্থ ফেরত দেওয়ার লক্ষ্যে বন্দর কর্তৃপক্ষের নির্দেশনা দেওয়া প্রয়োজন।

এ বিষয়ে বাংলাদেশ শিপিং এজেন্ট অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি আহসানুল হক চৌধুরীর কাছে জানতে চাইলে বলেন, ডিজি শিপিংয়ের অনুরোধ আমরা সব শিপিং লাইনকে প্রিন্সিপালের (বিদেশি জাহাজ মালিক প্রতিষ্ঠান) কাছে পাঠাতে বলেছি। যৌক্তিক কারণ থাকলে কেইস টু কেইস ভিত্তিতে ২০-৫০ শতাংশ ডেমারেজ ছাড় দেওয়া হয়।

এ ক্ষেত্রে সমস্যা হচ্ছে- বৈশ্বিক মহামারী করোনা ভাইরাসের কারণে চট্টগ্রাম বন্দরে কনটেইনার ও জাহাজজটের সৃষ্টি হয়েছে। একটি কনটেইনার জাহাজকে জেটিতে আমার আগে বহির্নোঙরে কয়েক সপ্তাহ অপেক্ষা করতে হচ্ছে। জটের কারণে হ্যান্ডলিং ধীরগতিতে হওয়ায় জেটিতে বেশি দিন থাকতে হচ্ছে জাহাজকে। একদিন বেশি থাকার অর্থ হচ্ছে কমপক্ষে ১০ হাজার ডলার বেশি খরচ শিপিং লাইনের। জাহাজপ্রতি ১৪-১৮ দিনে কয়েক লাখ ডলার আসছে লোকসান। এ পরিস্থিতি মুম্বাই, সিঙ্গাপুরসহ অন্যান্য বন্দরে নেই। কারণ সেখানে বন্দরের ভেতর কনটেইনার খুলে ডেলিভারির সিস্টেম নেই।

তিনি বলেন, শিপিং লাইন ১৪-২১ দিন ফ্রি টাইম দিচ্ছে আমদানিকারককে। যেখানে সাধারণত বন্দরের ফ্রি টাইম মাত্র ৪ দিন। শিপিংয়ের ফ্রি টাইম শেষে ৮ ডলার থেকে বিভিন্ন ধাপে ডেমারেজ বা ডিটেনশন শুরু হয়। মূলত পণ্য দ্রুত খালাস করে কনটেইনার ফেরত আনাই লক্ষ্য থাকে। করোনাকালে চট্টগ্রাম বন্দরকে শিপিং লাইন গ্যান্ট্রি ক্রেন, বার্থিং চার্জসহ দিয়ে থাকে তা যদি ছাড় দেওয়া হয় তবে প্রিন্সিপালকে ডেটেনশন কমানোর জন্য বলার যুক্তি থাকতো। এ বিষয়টি আমরা নৌ পরিবহন মন্ত্রণালয়ে জানিয়েছি।