শার্শায় বাণিজ্যিক ভাবে শুরু হয়েছে পান চাষ বাজারজাত ও দাম নিয়ে হতাশায় চাষিরা

 জসিম উদ্দিন, বেনাপোল প্রতিনিধি : যশোরের শার্শায় বাণিজ্যিক ভাবে প্রায় ২৫ বিঘা জমিতে পানের চাষ হচ্ছে। একটি পানের বরজ তৈরী করতে খরচ হয় দেড় থেকে দুই লাখ টাকা। পানের উৎপাদন খুবই ভাল হলেও সময় মত পান বাজারজাত না করতে পারায় এবং বাজারে বর্তমান পানের দাম কম হওয়ায়, ন্যায্য মূল্য ও শ্রমিকের মুজুরি দিতে না পেরে ক্ষতির আশংক্ষায় ভুগছেন এ অঞ্চালের পান চাষিরা। যশোরের শার্শা উপজেলার কাঠশিকরা গ্রামে বাণিজ্যিক ভাবে শুরু হয়েছে এই পান চাষ।
এখানে ধান,পাটসহ অন্যান্য অর্থকারী ফসলের পাশাপাশি পান চাষে ঝুঁকছেন কৃষকরা। প্রবাদে আছে ষোল চাষে মূলা, তার অর্ধেক তুলা, তার অর্ধেক ধান ,বিনা চাষে পান। কিন্তু চাষিদের গল্প একটু ভিন্ন। কাঠশিকরা গ্রামের পান চাষি-শাহাদৎ হোসেন বলেন, ঘূর্নিঝড় আমপানে পানের বরজ গুলো লন্ডভন্ড করে দিয়ে যাওয়ার কারনে মাজা সোজা করে উঠতে অনেক সময় লেগে গেছে। কথায় বলে মরার পরে খাড়ার আঘাত। তার মধ্যে জোনমুজুরির দাম বেশি থাকায় অধিকাংশ সময় নিজেরাই কাজ করছি জমিতে। তানজিলা ও খাইরুন নেছা দুই মহিলা শ্রমিক বলেন, ৬শ টাকা করে মুজুরের দাম কিন্তু বাজারে পানের দাম কম থাকায় সময় মত পান বিক্রি না করতে পেরে মহাজন তাদের ঠিকমত মুজুরের টাকাও দিতে পারছে না।
তবে সরকার যদি এই পান বিদেশে পাঠনোর ব্যবস্থা করতো তাহলে হয়তো দেশ পান চাষে আরো উন্নত হতো। তবে কৃষি অফিসারদের নিয়ে একটু ভিন্ন অভিযোগ করেছেন চাষি রফিকুল ইসলাম। তিনি বলেন, কৃষি বিভাগ আমাদের পান চাষে ঠিকমত কোন সাহায্য সহযোগীতা করছেনা। কোনদিন পান চাষ তিনি দেখতে আসেনি। একটু পরামর্শ চাইলে তিনি মন বোঝানো টিপস দিয়ে ছেড়ে দেন। এ ক্ষেত্রে কৃষি বিভাগ বলছে পান চাষে সার্বিক সহযোগীতা করছেন তারা। শার্শা উপজেলা কৃষি অফিসার সৌতম কুমার শীল বলেন, শার্শা উপজেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের পক্ষ থেকে প্রয়োজনীয় পরামর্শ দেওয়া এবং বিভিন্ন প্রকল্পের মাধ্যমে কৃষকদের প্রশিক্ষনের ব্যবস্থা করছেন তারা ।
পান চাষ একটি লাভ জনক ফষল। স্থানীয় কৃষি অফিসের সার্বিক ত্বত্তাবধায়নে পান চাষের উপর একটু নজর পড়লে লাভবান হবেন চাষিরা। এখানকার পান উৎপাদন বৃদ্ধি ও বিদেশে রফতানি হলে বৈদেশিক মুদ্রা অর্জন করা সম্ভব হবে বলে মনে করেন পান চাষিরা।