শরীয়তপুরে সহায়ক চালাচ্ছেন ড্রাগ অফিস, ঘুষ ছাড়া মিলছে না লাইসেন্স

খোরশেদ আলম বাবুল, শরীয়তপুর প্রতিনিধি: ফার্মেসী খুলে বৈধভাবে ওষুধের ব্যবসা করতে ড্রাগ লাইসেন্স জরুরি। সরকারের স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রণালয়ের অধীনস্থ ঔষধ প্রশাসনের কাছ থেকে ড্রাগ লাইসেন্স নিতে হয় ফার্মেসী মালিকদের।

সরকার নির্ধারিত ফিসহ সব শর্ত পূরণ করে আবেদন করার পরও ঘুষ ছাড়া ড্রাগ লাইসেন্স পাচ্ছেনা ওষুধ বিক্রেতা বা ফার্মেসী মালিকগণ। ঘুষ না দিলে মাসের পর মাস ফাইল আটকে থাকে অফিস সহায়কের টেবিলে। আবার মাঝে মাঝে তার টেবিল থেকে ফাইলও হারিয়ে যায় লাইসেন্স প্রত্যাশীদের।

আর ঘুষের লেনদেন টেবিলে বসেই নির্ধারণ করেন অফিস সহায়ক ছাদেকুর রহমান এমন অভিযোগ ভুক্তভোগিদের। জানা গেছে, ড্রাগ লাইসেন্স ফি ট্রেজারী চালানের মাধ্যমে ব্যাংকে জমা দিতে হয়। পৌর এলাকার জন্য এই ফি ৩ হাজার টাকা এবং পৌর এলাকার বাইরে দেড় হাজার টাকা। দুই বছর পর পর লাইসেন্স নবায়ন করতে হয়।

পৌর এলাকার জন্য নবায়ন ফি ২ হাজার টাকা এবং পৌর এলাকার বাইরে এটি ১ হাজার টাকা। ভুক্তভোগিরা জানান, ১৫হাজার থেকে ২০ হাজার টাকা ছাড়া নতুন লাইসেন্স পাওয়া যায় না। শরীয়তপুর পৌরসভার ক্ষুদ্র ওষুধ ব্যবসায়ী সাদ্দাম হোসেন ও অজিত মজুমদার জানান, নতুন লাইসেন্স পাওয়ার জন্য তারা ২১হাজার করে টাকা দিয়েছেন। আর এই টাকা অফিস সহায়ক ছাদেকুর রহমান নিয়ে থাকেন বলে জানান তারা।

মুঠোফোনে এ বিষয়ে জানতে চাইলে শরীয়তপুর ড্রাগ অফিসের অফিস সহায়ক ছাদেকুর রহমান বলেন, এ বিষয়ে ড্রাগ সুপারের সাথে কথা বলেন, আমি কিছু বলতে পারবো না। মাদারীপুর জেলা অফিসের ভারপ্রাপ্ত ড্রাগ সুপার বিথী রাণী মন্ডল শরীয়তপুর ড্রাগ অফিসে সুপার হিসেবে অতিরিক্ত দায়িত্ব পালন করছিলেন। শরীয়তপুর জেলা ড্রাগ অফিসে সুপার হিসেবে অতিরিক্ত দায়িত্বে থাকা বিথী রাণী মন্ডল মুঠোফোনে বলেন,

আমি মাদারীপুর জেলা ড্রাগ অফিসে ভারপ্রাপ্ত সুপার হিসেবে দায়িত্ব পালন করতাম। ২০১৯ সালের ৩০ জুলাই থেকে ২০২০ সালের ২৫ আগস্ট পযর্ন্ত আমি শরীয়তপুরে ড্রাগ অফিসে সুপার হিসেবে অতিরিক্ত দায়িত্ব পালন করেছি। এখন আমার প্রমোশন হয়েছে তাই ঢাকা অফিসে যোগদান করেছি। ঘুষ লেনদেনের বিষয়টি জানতে চাইলে তিনি কল কেটে দেন।

জানা গেছে, অফিস সহায়ক ছাদেকুরের মাধ্যমে পূর্বের তারিখ দিয়ে এখনও ফাইল স্বাক্ষর করছেন অতিরিক্ত দায়িত্বে থাকা ড্রাগ সুপার বিথী রাণী মন্ডল। জেলা ড্রাগ অফিসে দীর্ঘদিন যাবত সুপার ও অফিস সহকারীর পদ শূন্য থাকায় অফিস সহায়ক ছাদেকুর রহমান চালাচ্ছেন অফিস। এদিকে জেলায় প্রায় ২হাজার ফার্মেসী থাকলেও লাইসেন্স আছে মাত্র ৮শ’ ফর্মেসীর। বিনা লাইসেন্সে অনেকেই এই গুরুত্বপূর্ণ ব্যবসা চালাচ্ছেন বলে অভিযোগ ওঠেছে।

ফলে সরকার রাজস্ব হারাচ্ছে। লাইসেন্স নেয়ার জন্য ব্যাংক স্বচ্ছলতার সনদপত্র, লাইসেন্স ফি জমা দেয়ার ট্রেজারী চালান, দোকান ভাড়ার রসিদ বা চুক্তিপত্রের সত্যায়িত ফটোকপি, নিজস্ব দোকান হলে দলিলের ফটোকপি, ফার্মাসিস্টের অঙ্গীকারপত্র এবং পৌর এলাকার ক্ষেত্রে ট্রেড লাইসেন্সের কপি প্রয়োজন হয়। ওষুধ প্রশাসনের সঠিক তদারকির অভাবে এই সমস্যা হয়েছে শরীয়তপুরে।