শরীয়তপুরে আন্তর্জাতিক অভিবাসী দিবসে প্রবাসীর মেধাবী সন্তানদের পুরস্কার ও চেক প্রদান

খোরশেদ আলম বাবুল, শরীয়তপুর প্রতিনিধিঃ শরীয়তপুরে আন্তর্জাতিক অভিবাসী দিবস-২০২০ পালন করা হয়েছে। ১৮ ডিসেম্বর সকাল ১১টায় অনুষ্ঠিত আলোচনা সভা শেষে প্রবাসীদের সন্তানদের অংশগ্রহনে রচনা প্রতিযোগিতায় বিজয়ীদের মাঝে পুরস্কার বিতরণ ও প্রবাসীদের মেধাবী সন্তানদের মাঝে শিক্ষা বৃত্তির চেক প্রদান করা হয়। সভায় সভাপতিত্ব করেন অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক সার্বিক শামীম হোসেন। অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন জেলা প্রশাসক মো. পারভেজ হাসান।

বিশেষ অতিথি ছিলেন পুলিশ সুপার এস.এম. আশরাফুজ্জামান, সিভিল সার্জন প্রতিনিধি ডা. আব্দুস সোবাহান, জেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক অনল কুমার দে, ব্র্যাক আরএমসি ম্যানেজার খালিদ মোহাম্মদ সাইফুল্লাহ। দিবসের মূলপ্রবন্ধ উপস্থাপন করেন শরীয়তপুর কারিগরি প্রশিক্ষণ কেন্দ্রের অধ্যক্ষ স. ম. জাহাঙ্গীর আকতার। এই সময় উপস্থিত অতিথিবৃন্দ, পুরস্কার গ্রহণকারী ও বৃত্তিপ্রাপ্তরা উন্মোক্ত আলোচনায় অংশ গ্রহণ করেন।

বিশেষ অতিথির বক্তব্যে অনল কুমার দে বলেন, আন্তর্জাতিক অভিবাসী দিবসের বিশেষ তাৎপর্য রয়েছে। দিবস পালনের মধ্যে সিমাবদ্ধ থাকলেই দায়িত্ব শেষ হয়ে যাবে না। প্রবাসীরা প্রবাস থেকে যে রেমিটেন্স পাঠিয়ে দেশের অর্থনীতিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে সেই রেমিটেন্স যেন বৈধ প্রক্রিয়ায় আসে সেই দিকেও খেয়াল লাখতে হবে। বিদেশগামীদের প্রশিক্ষণ, যে দেশে যাবে সেই দেশের ভাষা শিক্ষা ও নারী প্রবাসীদের নিরাপত্ত নিশ্চিত করতে হবে। বিদেশ ফেরতদের অর্থনৈতিক পুনরেকত্রীকরনের কথা বলেন তিনি। প্রবাসী কল্যাণ ব্যাংকের সেবা যেন সকল প্রবাসীর জন্য হয়।
বিশেষ অতিথির বক্তব্যে পুলিশ সুপার বলেন, সামাজিক ও অর্থনৈতিক পরিবর্তনে ব্র্যাকের গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রয়েছে। বিশেষকরে প্রবাসে নারী কর্মী, দেশে ফিরে প্রবাসীর মানসিক অবস্থার সেবা, অর্থনৈতিক সেবার বিষয়টি নিশ্চিত করণে তার সহযোগিতা থাকবে বলেও তিনি জানান। তবে বিমান বন্দরে যৌথভাবে কাজ করতে পারলে প্রবাসীদের হয়রানী কমবে বলেও তিনি ধারণা করছেন।

প্রধান অতিথির বক্তব্যে জেলা প্রশাসক মো. পারভেজ হাসান বলেন, সরকার রেমিটেন্স পাঠানোর জন প্রণোদনা প্রদান করে। এজন্য প্রবাসীদের উচিত হবে বৈধ ভাবে ব্যাংকের মাধ্যমে রেমিটেনস পাঠনো। নিরাপদ অভিবাসন বিষয়ে আরো সচেতনতা বৃদ্ধি করতে হবে। সরকারের সাথে যৌথভাবে সবাইকে কাজ করতে হবে। বিদেশ ফেরতদের পুনরেকত্রীকরণে সহায়তা প্রদান করতে হবে। প্রবাসীর মেধাবী সন্তানদের শিক্ষাবৃত্তির বিষয়ে ব্যাপক প্রচার প্রচারণা করতে হবে। আমাদের সেবার মান বৃদ্ধি করে প্রবাসীদের দেশে কলকারখানা গড়তে উৎসাহিত করব। সরকারের পক্ষে এই ধরনের উদ্যোক্তাদের সকল নিরাপত্তার ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।