লিবিয়ায় গুলিতে নিহতের ঘটনায় ভৈরবে একজনকে আটক করেছে সিআইডি

জয়নাল আবেদীন রিটন, ভৈরব প্রতিনিধি: লিবিয়ায় গুলিতে নিহতের ঘটনায় মানব পাচারকারী দালাল তানজিরুলের বিরুদ্ধে ভৈরব থানায় একটি মামলা দায়ের হয়েছে। জিজ্ঞাসাবাদের জন্য অভিযুক্ত আসামী তানজিরুলের বড় ভাই বাচ্চু মিলিটারিকে আটক করেছে সিআইডির একটি টিম।

রোববার দুপুরে নিহত আকাশের বড় ভাই মোবারক হোসেন বাদী হয়ে ৭ জন আসামীর নাম উল্লেখ করে মানবপাচার, মুক্তিপণ, মারধোর হত্যাসহ তৎধারায় এই মামলাটি দায়ের করেন। লিবিয়ায় পাচারকারিদের গুলিতে নিহত ভৈরবে বিভিন্ন গ্রামের মোট ৭ জন।

এ সব তথ্য নিশ্চত করেছেন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা লুবনা ফারজানা। মামলায় প্রধান আসামী করা হয় মানবপাচারকারী দালাল ভৈরবের শ্রীনগর গ্রামের তানজিরুলকে। এছাড়াও মামলায় অজ্ঞাত আসামী করা হয়েছে ৭/৮ জনকে ( উক্ত মামলা নাম্বার ৪৫)।

বিদেশ পাঠানো ও লিবিয়ায় নিহত হওয়ার ঘটনাটি তদন্ত করতে ঢাকার সিআইডির অর্গানাইজ ক্রাইম টিম গতকাল শনিবার রাতে ভৈরব থানায় এসে তদন্ত শুরু করেছে। সিআইডির টিম প্রধান পুলিশ পরিদর্শক মোঃ মিজানুর রহমান ঘটনাটি তদন্ত করতে গিয়ে ভৈরবের শ্রীনগর গ্রামের মানবপাচারকারী দালাল তানজিরুলের বড় ভাই মোঃ বাচ্চু মেলিটারীকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য আটক করে।

নিহত ও আহতরা স্হানীয় দালাল তানজিরুল, জাফরসহ অন্যান্য দালালের মাধ্যমে ইতালী যেতে লিবিয়া গিয়েছিল। তারা পরিবারের ভাগ্য পরিবর্তন ও সংসারের সচ্ছলতা আনতে বাড়ী-ঘর, জমি-জমা বিক্রিসহ ধারদেনা করে ৪/৫ লাখ টাকা দালালদের দিয়ে লিবিয়ায় যায়। কিন্ত স্বপ্নের দেশ ইতালী যাওয়া হলোনা তাদের। গত ২৮ মে লিবিয়ায় অপহরণকারীদের গুলিতে তারা নিহত ও আহত হয়।

ভৈরব থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মোঃ শাহিন মিয়া জানান, লিবিয়ার ঘটনায় থানায় মানবপাচার প্রতিরোধ ও দমন আইনের ৬/৭/৮/১০ ধারাসহ ৩২৬/৩০২/৩০৭/৩৪ ধারায় মামলা হয়েছে। ঘটনাটি রাষ্ট্রীয় ঘটনা।

পুলিশের হেড কোয়াটার বিষয়টি সিআইডি, ডিবি, পুলিশসহ বিভিন্ন গোয়েন্দা সংস্থার সদস্যদের দিয়ে মনিটরিং ও তদন্ত করছে। খুব দ্রুত অপরাধীদের আইনের আওতায় আনা হবে।