লটারিতে উঠা কৃষকের কার্ড বিক্রি হলেই ব্যবস্থা: খাদ্যমন্ত্রী

আব্দুর রশীদ তারেক, নওগাঁ জেলা প্রতিনিধি: খাদ্যমন্ত্রী সাধন চন্দ্র মজুমদার এমপি বলেছেন, প্রকৃত কৃষকদের কাছ থেকে ধান কিনতে হবে। ধান ক্রয়ে কোন রকম রাজনৈতিক বা মধ্যস্বত্তভোগীদের প্রভাব যেন না পড়ে এজন্য খাদ্য নিয়ন্ত্রককে নির্দেশ দেন। এছাড়া লটারিতে যেসব কৃষকের নাম উঠবে সুযোগ নিয়ে তারা তাদের কার্ড মধ্যস্বত্তভোগীদের কাছে বিক্রি করতে পারবেন না। যদি বিক্রি করার প্রমাণ মিলে কৃষি কার্ড বাতিলসহ চিরদিনের জন্য তিনি সরকারি সবধরনের সুযোগ সুবিধা থেকে বঞ্চিত হবেন। এছাড়া যিনি কার্ড কিনবেন তিনিও মোবাইল কোর্টের আওতায় আসবেন।

বৃহস্পতিবার দুপুর সাড়ে ১২টায় নওগাঁ সদর উপজেলা খাদ্য গুদামে অভ্যন্তরীন বোরো চাল সংগ্রহের উদ্বোধনে ভিডিও কনফারেন্সে তিনি এসব কথা বলেন।

খাদ্যমন্ত্রী চাউল কল মালিকদের উদ্যেশ্যে বলেন, যেহেতু বোরো মৌসুমে চাউল সরকার ক্রয় করছেন। সেহেতু পুরনো চাউল পালিশ করে খাদ্য গুদামে প্রবেশের চেষ্টা করবেন না। যা কোন ক্রমেই গ্রহন যোগ্য নয়। পোশাক কারখানার মালিকরা যেমন প্রনোদনা পাবে, তেমনি চাউল কল মালিকরা প্রনোদনা পাবেন কিনা তা নিয়ে ইতোমধ্যে অর্থসচীবের সাথে আলোচনা হয়েছে। এসময় উপ¯ি’ত ছিলেন, জেলা খাদ্য কর্মকর্তা জিএম ফারুক হোসেন পাটওয়ারী, সদর উপজেলা চেয়ারম্যান আলহাজ্ব রফিকুল ইসলাম, সদর উপজেলা খাদ্য কর্মকর্তা মোহাজের হাসান, সদর খাদ্যগুদাম ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা আতিকুল ইসলাম, জেলা চাউলকল মালিক গ্রæপের সাধারন সম্পদাক ফরহাদ হোসেন চকদার, নওগাঁ চেম্বার অব কর্মাস এন্ড এন্ড্রাষ্টিরর পরিচালক এমএ খালেক, ছাত্রলীগের সভাপতি সাব্বির রহমান রিজভী সহ অন্যান্যরা।

উদ্বোধনী দিনে উপজেলার এমকে অটো রাইচ মিলের প্রোপাইটর খলিল উদ্দিন ১ হাজার ৭৮৩ বস্তা এবং আলহেরা রাইচ মিলের প্রোপাইটর জাহিদ হোসেন ৬০০ বস্তা চাল গুদামের প্রবেশ করান।

সদর উপজেলা খাদ্য অফিস সূত্রে জানা যায়, বোরো ধান ২৬ টাকা কেজি দরে ২ হাজার ২০৩ মেট্রিক টন, সিদ্ধ চাল ৩৬ টাকা কেজি দরে ১৬ হাজার ৭৯৮ মেট্রিক টন, আতব চাল ৩৫ টাকা কেজি দরে ২ হাজার ১১ মেট্রিক টন এবং ২৮ টাকা কেজি দরে ১৫৫ মেট্রিক চন গম সংগ্রহ করা হবে।

নওগাঁ জেলা খাদ্য কর্মকর্তা জিএম ফারুক হোসেন পাটওয়ারী বলেন, জেলায় সিদ্ধ চাল ৪৯ হাজার ২৬০ মেট্রিক টন, আতব চাল ৬ হাজার ৫১ মেট্রিক টন, ধান ২৩ হাজার ২৩২ মেট্রিক টন এবং গম ৪ হাজার ৬৫১ মেট্রিক টন খাদ্য শষ্য সংগ্রহ করা হবে। এরমধ্যে সদর উপজেলায় অ্যাপের মাধ্যমে ধান ক্রয় করা হবে। ইতোমধ্যে প্রায় সাড়ে ১০ হাজার আবেদন জমা পড়েছে। এছাড়া জেলার ৫৩ টি অটো রাইচ মিলের মধ্যে ৫১টি চুক্তি হয়েছে। আমাদের ধান কেনার সকল প্রস্ততি সম্পুর্ন হয়েছে। খাদ্য বিভাগের সকল নির্দেশনা মেনে কাজ করা হবে।