লক্ষ্মীপুর ও রায়পুরে মেঘনার জোয়ারের পানিতে ভেঙেছে বাঁধ দু’র্ভোগে জনজীবন

নুরুল আমিন দুলাল ভূঁইয়া, লক্ষ্মীপুর প্রতিনিধিঃ জোয়ারের পানি ও বৃষ্টিতে ভেঙেছে লক্ষ্মীপুর সদর উপজেলার চররমনীমোহন,রামগতির চর গাজী এলাকার বেড়িবাধ ও কমলনগরের তোরাপগঞ্জ-মতিরহাট সড়ক । আর স্বাভাবিকের চেয়ে মেঘনা উঁচু জোয়ারে পানির চাপে ৫ শত কিলোমিটার এলাকা প্লাবিত। তা ভাটায় সড়তেই ফের জোয়াতেই ফের জোয়ারে পানিতে ক্ষতিগ্রস্থ হয়েছে জেলার ১৮ টি ইউনিয়ন ২০ হাজার মানুষ পানিবন্ধী রয়েছে।

এসব ক্ষতিগ্রস্থ ইউনিয়ের জন্য জেলা প্রশাসন থেকে ২ লক্ষ ২০ হাজার টাকা ক্যাশ,২২ হাজার মেট্রিক টন চাউল, ৭৫০ প্যাকেট শুকনো খাবার দেওয়া হলে উপজেলা প্রশাসন তা বিতরণ না করায় ক্ষোভ জানিয়েছেন ইউনিয়ন পর্যায়ের জনপ্রতিনিধিরা।

সংবাদ সন্মেলন করে তুলে ধরছেন নানা অনিয়মের অভিযোগ। লক্ষ্মীপুরে কয়েকদিন ধরে বৈরী আবহাওয়ায় সাথে যোগ হয়েছে টানা বৃষ্টি এর কারনে বিভিন্ন রাস্তা, শিক্ষা প্রতিষ্ঠান বাড়ী ঘর পানিতে নিমজ্জিত হয়েছে।

এদিকে লক্ষ্মীপুরের রায়পুরেও ফের ২য় বার বৃষ্টি ও জলোচ্ছ্বাসে মেঘনা উপকূলীয় জনপথ ক্ষতবিক্ষত হয়েছে। উপকূলে ২য়বারের মত জলোচ্ছ্বাসে ভেসে গেছে ওই এলাকার প্রায় ২০ টি গ্রাম ও প্রায় ৮ হাজার অসহায় পরিবারের বাড়ি-ঘর।

এতে মারাত্বক ক্ষতিগ্রস্হ হয় ওই এলাকার সড়ক, ১৩টি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান ৫টি গ্রাম্য বাজারসহ প্রায় ৫’শ ব্যবসা প্রতিষ্ঠান।

জোয়ার ও অতিরিক্ত বর্ষনে প্রায় ৮/৯ হাজার বাড়ীঘরে হাটু পরিমান পানি উঠেছে। এছাড়াও উপকূলীয় এলাকার ৯টি পশুর খামার, ৩’শত মাছ চাষের পুকুর ও ৪০ টি পোল্টি খামার ডুবে গেছে।

বর্তমান প্রতিকুল অবস্থা থেকে উদ্ধার পেতে ক্ষতি গ্রস্হ এলাকাবাসি সি,আই,পি ও প্রশাসনের হস্তক্ষেপ কামনা করছেন।

এদিকে,টানা বর্ষনে রায়পুর-পৌর শহরের মুরিহাটা, মধ্যবাজার, পীরফজলুল্লাহ সড়ক, উপজেলা পরিষদ চত্তর, মহিলা কলেজ সড়ক, নতুন বাজারসহ নয়টি ওয়ার্ডের বাসা-বাড়ীতে হাটু পরিমান পানি বিরাজ করছে। পৌর সভায় পানি নিষ্কাসনের ব্যবস্থা না থাকায় এ জলাবদ্ধতার সৃষ্টি হয়েছ বলে অভিযোগ করেছেন পৌর বাসিন্দারা।
রোববার সরজমিন দেখা যায়, উপজেলার ১০ ইউপির মধ্যে উত্তর চরবংশী-দক্ষিন চরবংশী-উত্তর চরআবাবিল ও দক্ষষিন চরআবাবিল ইউপির ১৫টি গ্রামের ৪০ কিলোমিটার এলাকায় কোটি কোটি টাকার সম্পদহানী ঘটেছে উপকূলবাসীর, এখন কেবলই চোখে পড়ে ক্ষতচিহ্ন।
উপজেলায় বেড়িবাঁধ থাকায় জলোচ্ছ্বাস থেকে বেঁচে গেছে ছয় ইউনিয়নবাসী। কিন্তু মেঘনার বেড়ি বাঁধের পশ্চিম পাশের-পানি ফুঁসে উঠায় চরম ক্ষতিগ্রস্থ হয়েছে তীরবর্তী রায়পুরের চার ইউপির গ্রামের প্রায় পাঁচ হাজার পরিবার। করিম মাঝি বলেন ৭ ফুট উচ্চতার এমন জলোচ্ছ্বাস গত ২০ বছরেও দেখেনি এই এলাকার প্রবিনেরা।

তথ্য অনুসন্ধানে গেলে ক্ষতিগ্রস্হ গ্রামবাসীরা জানান, মেঘনার জোয়ারের পানি কয়েক মিনিটের মধ্যেই তীরে আঘাত হানে এবং মুহুর্তেই উপকূল অঞ্চলের কয়েক কিলোমিটার এলাকা জুড়ে তান্ডব চালায়। এ জলোচ্ছ্বাসে বসতঘরসহ আসবাবপত্র , পুকুরের মাছ, ব্যবসা প্রতিষ্ঠানের সাথে রাস্তারও করুন অবস্থার সৃষ্টি হয় । পানিতে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে কৃষকের ফসলি জমি ও আমন বীজতলা।