লক্ষ্মীপুরে মেঘনায় জোয়ারের পানি নেমে গেলেও ক্ষতবিক্ষত রয়ে গেলো সড়ক

নুরুল আমিন দুলাল ভূঁইয়া, লক্ষ্মীপুর জেলা প্রতিনিধি:  বিগত ৯ দিন পূর্বে লক্ষ্মীপুরের রায়পুরে মেঘনা নদীর উপকূলে এক শক্তিশালী জলোচ্ছ্বাস হয় বয়ে যায়। এই জলোচ্ছাসে ভেসে গেছে উপকূলের প্রায় ১৫ গ্রামের প্রায় পাঁচ হাজার অসহায় পরিবারের বাড়ি-ঘর।

এতে করে ঘরের ভেতর হাঁটু পানির পাশাপাশি রয়েছে বিভিন্ন জীব জন্তু (সাপ, বিচ্চুর) আতংক । তবুও এমন দূর্বিষহ অবস্থার মধ্যে সরকারি সহযোগিতার আশায় ছিল এই জনপদের মানুষদের অপেক্ষা। গতকাল রোববার সরজমিন গিয়ে দেখা যায়,

গত ৫ আগস্টে মেঘনা তীরের রায়পুরসহ তিনটি উপজেলার ৭০ কিলোমিটার এলাকায় জুড়ে কোটি কোটি টাকার সম্পদের ক্ষয়ক্ষতি ঘটেছে এই জনপদের উপকূলবাসীর। এখন কেবলই চোখে পড়ে সেই সব ক্ষতচিহ্ন। মেঘনায় বেড়িবাঁধ থাকায় বেঁচে গেছে ছয়টি ইউনিয়নের বাসিন্দা। কিন্তু মেঘনার পশ্চিম পাশের-পানি ফুঁসে উঠায় চরম ক্ষতিগ্রস্থ হয়েছে তীরবর্তী রায়পুরের চরা ইউপির ১৫ গ্রামের প্রায় পাঁচ হাজার পরিবার।

এলাকাবাসি বলেন ৭ ফুট উচ্চতার এমন জলোচ্ছ্বাস গত ২০ বছরেও দেখেনি প্রবীণ লোকজন। এই ব্যাপারে জানতে চাইলে তারা বলেন, হঠাৎ করে জোয়ারের পানি কয়েক মিনিটের মধ্যেই তীরে আঘাত হানে, এবং মুহুর্তের মধ্যেই উপকূল অঞ্চলের নদী থেকে কয়েক কিলোমিটার এলাকাব্যাপী এই জোয়ারের পানি তান্ডব চালায়।

এই জলোচ্ছ্বাসে অনেকের বসত ঘরসহ ঘরের আসবাবপত্র , পুকুরের মাছ,ব্যবসা প্রতিষ্ঠানের সাথে রাস্তারও অনেক ক্ষতিসাধন হয়েছে। মেঘনাতিরবর্তী জনপথ ধরে হাঁটলে সর্ববত্রই কম বেশি সড়কের ভঙ্গুর অবস্হা চোখে পড়ে। মেঘনার জলোচ্ছ্বাসে সবচেয়ে ক্ষতিগ্রস্ত এলাকাগুলোর মধ্যে রায়পুরের পাশাপাশি রামগতি ও কমলনগর উপজেলায় ও ব্যাপক ক্ষতি হয়েছে।

সব চেয়ে বেসি ক্ষতগ্রস্হ হয় কমল নগরের চর মার্টিনের ৮নং ওয়ার্ডের রাস্তা-ঘাট । তোরাবগঞ্জ-মতিরহাট সড়ক ও চর মার্টিনের বলিরপোল থেকে চর কালকিনির নাছিরগঞ্জ নির্মাণধীন সড়কটির বিভিন্ন অংশ ভেঙে গেছে প্রবল জলোচ্ছ্বাসের শ্রোতে, মরণফাঁদে পরিনত হয়েছে জনচলাচলের রাস্তা। সরেজমিনে দেখা যায় বিভিন্ন স্থানে বেড়িবাঁধ ভেঙ্গে গিয়াছে।

এখনো মেরামতে কোন উদ্যোগ নেয়া হয়নি। চর কালকিনির নাছিরগঞ্জ থেকে উত্তরে মানিকগঞ্জ বেড়িবাঁধটি জোয়ারে ভেঙে যায়। ফলে জোয়ারের পানিতে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে কৃষকের ফসলি জমি। নষ্ট হয়েছে আমন বীজতলা। এদিকে রায়পুর উপজেলার চারটি ইউনিয়নের ১৫ টি গ্রামের প্রায় পাঁচ হাজার গ্রামবাসীদের বসত বাড়ীসহ ফসলী জমি পানিতে তলিয়ে যায়।

এর পাশাপাশি রাস্তা ভেঙ্গে যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন রয়েছে। সরকারি কোন জনপ্রতিনিধিদের কাছ থেকে সহযোগিতা না পেয়ে করুন অবস্থার মধ্যে আছেন ক্ষতি গ্রামবাসী। ক্ষতিগ্রস্ত রাস্তাঘাটগুলো দ্রুত মেরামতের দাবি জানিয়েছেন চরাঞ্চলের মানুষ। এ অঞ্চল নদী কেন্দ্রিক অর্থনীতি নির্ভর হওয়ায় ইলিশের বাজারজাতকরণে সড়কগুলো বড় ভূমিকা রাখে৷

সড়কগুলোর এমন বেহাল দশাতে ব্যবসায় বড় ধরণের ক্ষতি দেখছেন ইলিশ ব্যবসায়ীর সাথে কৃষকরাও। এই সমস্যা সমাধানের বিষয়ে জানতে চাইলে রায়পুরের উত্তর চরবংশী ইউপি চেয়ারম্যান মোঃ হোসেন ও দক্ষিন চরআবাবিল ইউপি চেয়ারম্যান শহীদ উল্যা বিএসসি বলেন, ইউনিয়নের প্রায় অধিকাংশ এলাকা নদীগর্ভে বিলীন। নদীতে বেড়িবাঁধের পশ্চিম পাশে বসবাস করা মানুষের ভিটে-মাটিতো বিলীন করছেই,

পাশাপাশি একটু জোয়ার হলে পানিতে সব তলিয়ে যায়। মানুষদের দুর্ভোগের সীমা থাকে না। উপজেলা চেয়ারম্যান ও ইউএনও ক্ষতিগ্রস্থ এলাকা পরিদর্শন করছেন। সহযোগিতা করার আশ্বাস দিলেও আর খবর নেই।