নুরুল আমিন দুলাল ভূঁইয়া, লক্ষ্মীপুর জেলা প্রতিনিধি: লক্ষ্মীপুরে রায়পুরে অস্বাভাবিক জোয়ারের পানিতে মেঘনা নদী তীরবর্তী এলাকার প্রায় ১১ হাজার হেক্টর জমিনের ফসলের ব্যাপক ক্ষতি সাধন হয়েছে। মেঘনার পানি স্বাভাবিক উচ্চতার চেয়ে নদীতে প্রায় ৫/৬ ফুট পানি বৃদ্ধি পেয়েছে।
এতে করে লোকালয়ে জোয়ারের পানি ঢুকে পানিবন্দি হয়ে পড়ছে এলাকার প্রায় দুই লক্ষাধিক মানুষ। রবিবার (৯ আগস্ট) জোয়ারের পানি কমেছে বলে খোঁজ নিয়ে জানা গেছে। সরেজমিনে দেখা যায় জোয়ারে কারনে ফসলের মাঠ সহ রায়পুর উপজেলার কয়েকটি ঘেরের অর্ধকোটি টাকার মাছ ভেসে গেছে ও কমলনগরে এক খামারের ৬ হাজার মুরগি পানিতে ডুবে মারা গেছে।
এতে প্রায় কোটি টাকার ক্ষতি হয়েছে বলে দাবি কৃষক ও মুরগি খামারির। এছাড়াও ফসলের বিস্তির্ণ মাঠ ব্যাপক ক্ষতি হয়েছে। প্রাপ্ত তথ্য মতে জানা যায় , রায়পুর থেকে লক্ষ্মীপুর সদর ও কমলনগর হয়ে রামগতি পর্যন্ত ৬০ কিলোমিটার নদী এলাকার প্রত্যেকটি গ্রাম প্লাবিত হয়েছে। লক্ষ্মীপুর জেলা সদরের করাতিরহাট, চররমনি, ভূঁইয়ার হাট, চরমেঘা, রায়পুরের চর আবাবিল,
খাসেরহাট, চরলক্ষ্মী, চরবংশী, চরভৈরবী, হাজীমারা, চর কাচিয়া, জালিয়ার চর, কুচিয়ামোড়া, চর ঘাশিয়া, টুনুর চর, কমলনগরের চরফলকন, চরকালকিনি, চরলরেন্স, নবীগঞ্জ ও রামগতির আলেকজান্ডারসহ প্রায় ৪০টি গ্রাম বন্যার পানিতে প্লাবিত হয়। মেঘনা নদীর তীর থেকে এসব এলাকার প্রায় ৪ কিলোমিটার পর্যন্ত জোয়ারের পানি ঢুকেছে।
অনুসন্ধানে জানা গেছে, লক্ষ্মীপুরের সদর রায়পুর রামগতি ও কমলনগর উপজেলায় প্রায় ৪০টি গ্রামে জোয়ারের পানি ঢুকে নদীর তীর থেকে ৪ কিলোমিটার এলাকা প্লাবিত হয়েছে। রায়পুর উপজেলায় কয়েকটি ঘেরের প্রায় অর্ধকোটি টাকার মাছ জোয়ারে ভেসে গেছে। উপজেলার চর আবাবিলসহ কয়েকটি গ্রামের অন্তত ৩ হাজার পানের বরজ পানিতে তলিয়ে গেছে।
পান নষ্ট হয়ে যাওয়ার শঙ্কা করছেন চাষীরা। অন্যদিকে কমলনগরের চরলরেন্স ইউনিয়নের ৭ নম্বর ওয়ার্ডের তাজ পোল্ট্রি খামারের ৬ হাজার মুরগী জোয়ারের পানিতে ডুবে মারা গেছে। নষ্ট হয়ে গেছে মুরগির খাবার। এতে প্রায় ৩০ লাখ টাকার ক্ষতি হয়েছে বলে জানা গেছে। তাজ পোল্ট্রি খামারের মালিক মো. ওসমান বলেন, জোয়ারের পানিতে আমার খামারের মুরগিগুলো মরে গেছে।
আমার সব শেষ হয়ে গেছে। ঋণ নিয়ে খামারটি করেছি। ঋণের টাকা এখনো পরিশোধ করতে পারিনি। এদিকে কমলনগর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও)’র কাছে বর্তমান সার্বিক বন্য পরিস্হীতি ও ক্ষয়ক্ষরিত বিষয়ে জানতে চাইলে ইউএনও মোবারক হোসেন বলেন কি পরিমান ক্ষতি হয়েছে এবিষয়ে ক্ষতিগ্রস্হ কৃষকদের তালিকা করা হবে।
রায়পুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) সাবরীন চৌধুরী জানান, জোয়ারের কারণে বেশ কিছু কাঁচা, আধাপাকা ঘরবাড়ি ও সড়কের গাছসহ ফসলের ব্যাপক ক্ষতি হয়েছে। ক্ষতিগ্রস্ত এলাকা পরিদর্শন করেছি। ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ নির্ধারণে কাজ চলছে।