লক্ষ্মীপুরে ভরা মৌসুমে মেঘনায় ইলিশ শূন্য; হতাশ জেলেরা

নুরুল আমিন দুলাল ভূঁইয়া, লক্ষ্মীপুর প্রতিনিধি: মেঘনায় মাছ ধরা নিষেধাজ্ঞার কারনে মার্চ ও এপ্রিল এ দুই’মাস জেলেরা মেঘনা নদীতে ইলিশ ধরতে পারেননি। তাই তাদের উপার্জনও বন্ধ ছিল। এসময় সংসারের ঘানি টানতে হয়েছে ধার দেনা করে। নিষেধাজ্ঞা শেষে বুকভরা আশা নিয়ে নৌকা ভাসালেন, চিরচেনা মেঘনার বুকে, ফেললেন জাল। কিন্তু বিধিবাম ভরা মৌসুমেও মেঘনায় যে ইলিশ শূন্য! তবে ছোট মাছে ভরপুর মেঘনা ছোট ছোট মাছ পেয়েও মোটামুটি খুশি জেলেরা।

রুপালী ইলিশের দেখা না পেয়ে হতাশার সুরে কথা শোনালেন লক্ষ্মীপুরের রায়পুর চরবংশী সুইজগেইট এলাকার জেলে রসিদ আখন মিয়া। তিনি হতাসাগ্রস্ত হয়ে বলেন কিভাবে তার সংসার চলবে। এবং দেনার টাকাই-বা কীভাবে পরিশোধ করবেন?

রশিদ মিয়া এ প্রতিবেদককে আরো বলেন, অন্য অন্য সময়ে নিষেধাজ্ঞার পর নদীতে ছোট-বড় প্রচুর লিশ ধরা পড়তো। এবার জেলেরা আশানুরুপ ইলিশ পাচ্ছেন না। তবে ইলিশ না পেলেও ১৬ প্রকার ছোট মাছে ধরা পড়ছে প্রচুর। তথ্য অনুসন্ধানে জানা গেছে, চাঁদপুরের ষাটনল থেকে শুরু করে লক্ষ্মীপুরের রামগতির আলেকজান্ডার পর্যন্ত নদী তীরবর্তী অঞ্চলে প্রায় ৬২ হাজার জেলের বাস। তবে সরকারি তথ্য মতে সংখ্যাটি ৫২ হাজার।

নিষেধাজ্ঞার মৌসুমে লক্ষ্মীপুর জেলার প্রায় ২০ হাজারের অধিক জেলেকে সরকারিভাবে আর্থীক ও খাদ্য সহায়তা করা হয়। এখন নিষেধাজ্ঞা না থাকায়, জেলেরা প্রতিদিনই নদীতে যাচ্ছেন মাছ ধরতে। কিন্তু নদীর বিভিন্ন স্থানে ডুবোচর থাকায় প্রত্যাশিত ইলিশ পাচ্ছেন না তারা।

মজু চোধুরী ঘাট এলাকার জেলে মো. মুছা দেওয়ান বলেন, অভাবের তাড়নায় পহেলা মে থেকে করোনা ঝুঁকি নিয়ে মৎস আহরনে নদীতে গিয়েছিলাম। কিন্তু বিপল হয়ে আমার মতো অনেকে দিশেহারা ! মাথায় ঋনের বোজা তাদের জন্য বিষফোঁড়া। রয়েছে আড়ৎদার ও দাদনদারদের কঠিন চাপ। অন্যান্য বছর এ সময় জেলেরা নদী থেকে ঝুড়ি ভর্তি মাছ নিয়ে ঘাটে ফিরতেন। আড়তে মাছ রাখামাত্র শুরু হতো হাঁক-ডাক। বেচাকেনায় সরগরম থাকত নদী তীরবর্তী ঘাটগুলো।

মতিরহাট মাছঘাটের আড়ৎদার আমিনুল হোসেন বলেন, নদীতে প্রত্যাশিত পরিমাণে ইলিশ ধরা পড়ছে না। সামান্য পরিমানে যাহা ধরা পড়ছে তাতে বড় সাইজের ইলিশ প্রতি কেজি ১ হাজার থেকে ১ হাজার ২০০ টাকা, মাঝারি ইলিশ ৬০০ থেকে ৮০০ এবং ছোট ইলিশ প্রতি কেজি ২৫০ টাকা পর্যন্ত বিক্রি হচ্ছে। এই বিষয়ে জানতে চাইলে জেলা মৎস্য কর্মকর্তা মো. বিল্লাল হোসেন বলেন, ডুবোচরের কারণে নয়, নদীতে পানি বেশি হওয়ায় জেলেরা প্রত্যাশিত ইলিশ পাচ্ছেন না। তবে প্রচুর ছোট ছোট মাছ ধরা পড়ছে। আষাঢ় মাসের প্রথম সপ্তাহ থেকে প্রচুর ইলিশ ধরা পড়ার সম্ভাবনা রয়েছে বলে জানান এই কর্মকর্তা।