লক্ষ্মীপুরে দুই কর্মকর্তার দ্বন্দ্বে ১৬০মেঃ টন গম ফেরত বলির পাঠা রায়পুরবাসি

 নুরুল আমিন দুলাল ভূঁইয়া, লক্ষ্মীপুর জেলা প্রতিনিধি:  লক্ষ্মীপুরের রায়পুর উপজেলা থেকে ফেরত গেছে কাজের বিনিময়ে খাদ্য (কাবিখা) প্রকল্পের ১৬০ মেট্রিক টন গম। রায়পুরে জন্য ২৫টি উন্নয়ন প্রকল্পের নামে কাবিখা দ্বিতীয় পর্যায়ের এ বরাদ্দ এসেছিল। তথ্য মতে অভিযোগ উঠেছে, উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) সাবরীন চৌধুরী ও উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তার (পিআইও) দেলোয়ার হোসেনের মধ্যকার দ্বন্দ্ব প্রকট ও তাদের মধ্যে কাজের সমন্বয়হীনতার কারণে এ অবস্থার সৃষ্টি হয়েছে বলে জানা গেছে।

গতকাল বুধবার কয়কজন সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের সঙ্গে কথা বলে বরাদ্দ ফেরত যাওয়ার বিষয়টি নিশ্চিত হওয়া গেছে। এ অবস্থায় বাতিল হওয়া প্রকল্পের সভাপতি ও ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যানদের (ইউপি) মাঝে চরম ক্ষোভ ও অসন্তোষ পরিলক্ষিত হয়। এঘটনায় সাধারন জনগন ও হতাসা ব্যক্ত করেছেন। রায়পুর উপজেলা ইউনিয়ন পরিষদ (ইউপি) চেয়ারম্যান ফোরামের নেতারা বলছেন, প্রশাসনের কর্মকর্তাদের মধ্যে সমন্বয়হীনতার কারনে প্রকল্পের বরাদ্দ ফেরত দেওয়ার মাধ্যমে রায়পুরবাসীকে উন্নয়ন থেকে বঞ্চিত করলেন দুই কর্মকর্তা। এ বিষয়ে জনপ্রতিনিধি ও সচেতন মহল মনে করেন দ্বন্দ্ব নিরসনে ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের এব্যপারে দ্রুত হস্তক্ষেপ নেওয়া প্রয়োজন।

রায়পুর উপজেলা প্রশাসন সূত্র জানায়, ২০১৯-২০ অর্থ বছরে কাবিখা প্রকল্পের অধীনে লক্ষ্মীপুর-২ আসনের সংসদ সদস্য কাজী শহিদ ইসলাম পাপুলের বরাদ্দে ১২টি প্রকল্পের বিপরীতে ৯৬ মেট্রিক টন, সংরক্ষিত আসনের সংসদ সদস্য সেলিনা ইসলামের একটি প্রকল্পের ৯ মেট্রিক টন ও উপজেলার ১০টি ইউনিয়নে ১২টি প্রকল্পের বিপরীতে ৫৫ মেট্রিক টন গম বরাদ্দ দেয়া হয়। রায়পুর উপজেলার উন্নয়নের জন্য রাস্তা-ঘাট ও শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানসহ সরকারি-বেসরকারি বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের জন্য গত ফেব্রুয়ারি ও মার্চে এসব বরাদ্দ প্রদান করা হয়। তবে পিআইও’র ভাষ্যমতে, ইউএনও উদ্দেশ্য প্রণোদিতভাবে গত ৩০ জুন বরাদ্দগুলো ফেরত পাঠিয়েছেন। রায়পুর উপজেলা ইউপি চেয়ারম্যান ফোরামের সভাপতি ও বামনী ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান তাফাজ্জাল হোসেনের কাছে জানতে চাইলে তিনি বলেন,

বরাদ্দ ফেরত যাওয়ার ঘটনাটি রায়পুরের ইতিহাসে এই প্রথম এবং ইহা নিন্দনীয়। যদি এমন অবস্থা চলতে থাহলে সরকারের স্বাভাবিক উন্নয়ন কার্যক্রম ব্যাহত হবে। দুুুই কর্মকর্তার দ্বন্দ্বের কারনে রায়পুরবাসি উন্নয়ন বঞ্চচিত হবে তা মেনে নেয়া যায়না। বর্তামান সংকট থেকে পরিত্রানের জন্য ডিসির সঙ্গে আমরা বৈঠক করব। এ বিষয়ে জানতে চাইলে উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা (পিআইও) দেলোয়ার হোসেন বলেন, আমার চাকরি জীবনে এত অলস ইউএনও দেখিনি। তিনি ২৮ জুন রাতেও আমাদের বাসায় ডেকে কাবিখার দ্বিতীয় পর্যায়ের প্রকল্পের ১৬০ মেট্রিক টন বরাদ্দ গম ছাড় দেওয়ার কথা বলেছিলেন।

পরে তার একগুঁয়েমির কারণে বরাদ্দগুলো ফেরত যায়। এতে উন্নয়নের ছোঁয়া থেকে বঞ্চিত হলো রায়পুুুরের জনগন। তিনি ক্ষোভের সাথে আরও বলেন, প্রকল্প তালিকা করে অনুমোদনের জন্য ইউএনও’র কাছে পাঠানো হলে তিনি উৎকোচের জন্য ফাইল সই করতে গড়িমসি করেছেন। এ ছাড়াও, বিভিন্ন প্রকল্পে তার ইচ্ছামতো কাজ না করলে তিনি হয়রানি করে থাকেন। এ বিষয়ে রায়পুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) সাবরীন চৌধুরীর সঙ্গে বিষয়টি নিয়ে কথা বলতে চাইলে তিনি বলেন এ বিষয়ে (পিআইও)’র সাথে কথা বলেন, তিনি আরো বলেন এতে আমার কোন গাপিলতি ছিলনা।

এই বলে তিনি ফোন কেটে দেন। উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান ও উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি (ভারপ্রাপ্ত) অধ্যক্ষ মামুনুর রশিদ বলেন, ‘দুই কর্মকর্তার সমন্বয়হীনতার কারণে বরাদ্দটি ফেরত গেছে। এতে রায়পুরবাসী উন্নয়ন থেকে বঞ্চিত হয়েছে। এটা আওয়ামী লীগ সরকার ও দলের জন্য অসম্মানজনক। সরকার বরাদ্দ দিয়েছে কাজ করার জন্য। কিন্তু, এই দুই কর্মকর্তা কাজ না করার কারণে সরকারের বরাদ্দ ফেরত যাচ্ছে। এবিষয়ে উপজেলা পরিষদের আগামী সভায় ও জেলা প্রশাসক কার্যালয়ের সভায়ও এই বিষয়টি উত্থাপন করবেন বলে জানিয়েছেন উপজেলা চেয়াম্যান মামুনুর রশিদ।

রায়পুর উপজেলা দুই কর্মকর্তার দ্বন্দ্বে সরকারি বরাদ্দ ফেরত যাওয়া প্রসঙ্গে জানতে চাইলে লক্ষ্মীপুর জেলা প্রশাসক (ডিসি) অঞ্জন চন্দ্র পাল বলেন, বরাদ্দ ফেরত যাওয়ার বিষয়টি আমি অবগত নই। বিষয়টি নিয়ে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার সঙ্গে কথা বলার পরামর্শ দেন তিনি। ধি