লক্ষ্মীপুরে জমি সংক্রান্ত বিরোধের জের ধরে কুশাখালীতে দুই পক্ষের সংষর্ঘে আহত ১০

 নুরুল আমিন দুলাল ভূঁইয়া, লক্ষ্মীপুর জেলা প্রতিনিধি:  লক্ষ্মীপুর সদর উপজেলার কুশাখালীতে সরকারী খাস খতিয়ানের জমি নিয়ে বিরোধের জেরে দুই পক্ষের মধ্যে সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। এতে নারীসহ উভয় পক্ষের অন্তত ১০ জন আহত হয়।

শনিবার বিকেলে ওই ইউনিয়নের ছিলাদী গ্রামে এ ঘটনা ঘটে। আহতরা হলেন, রোশনা (৫৫), ইমান আলী (২৫), রোজিনা (২৬), স্বপ্না (৩৫), লাকী বেগম (৩০), আরজু (২৯), জাহাঙ্গীর (২৪) ও সবুজ (২৮) সহ ১০ জন।

তাদের মধ্যে স্বনা, রোশনা, ইমানকে সদর হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে, অন্যরা সেখান থেকে প্রাথমিক চিকিৎসা নিয়েছেন। জানা গেছে, প্রায় অর্ধশত বছর আগে কুশাখালী এলাকায় একশ’ শতাংশ জমি নদী থেকে চর জাগে। পরে ওই জমি সরকারী খাস জমি হিসেবে রেকর্ডভূক্ত হয়।

নদী ভাঙনের পূর্বে ওই জমির ওয়ারিশসূত্রে মালিক ছিলেন স্থানীয় নজির আহম্মদ, বাচ্চু মিয়া, আবুল খায়ের, আবদুল করিম, মনোয়ারা বেগম। ২০০২ সালে জমিটি ৯৯ বছরের জন্য লীজ নেন গোরফান, মাহফুজা ও নুরুল হুদা নামে ৩ ব্যক্তি। জমির মালিকানা ফিরে ফেতে পূর্বের মালিকরা আদালতে মামলা করেন।

ওই মামলায় তাদের পক্ষে রায় হলেও রায়ের বিরুদ্ধে লীজধারীরা আপিল করেন। এতে উচ্চ আদালতে মামলাটি বিচারাধীন রয়েছে। শনিবার বিকেলে গোরফান ওই জমিতে আমন ধানের চারা রোপন করতে গেলে তাতে বাঁধা দেয় পূর্বের মালিক পক্ষের লোকজন।

এতে দুই পক্ষের নারী পুরুষের মধ্যে সংঘর্ষ বাঁধে। ওয়ারিশ সূত্রে মালিকানা দাবিদার আবুল বাশার জানান, জমিটি আমাদের পূর্ব পুরুষের ছিলো। নদীতে ভেঙে যাওয়ার পর পুনরায় চর দেয়। তখন সরকারী রেকর্ডভূক্ত হয়। কিন্তু আমরা রেকর্ডের বিরুদ্ধে মামলা করি।

এরই মধ্যে আবদুল গোফরানগং নামমাত্র লীজ নিয়ে আমাদের জমিটি দখল করার পাঁয়তারা করতেছে। তারা ওই জমিতে ধানের চারা রোপন করতে গেলে আমরা বাঁধা দিই। এতে কুশাখালী ইউপি চেয়ারম্যানের পুত্র জুয়েল, নিজাম, কফিল, মাইনউদ্দিন, মোস্তফা ও জাহাঙ্গীরসহ বেশ কয়েকজন আমাদের লোকজনের উপর হামলা করে।

হামলায় আমাদের পক্ষের ৫ জন আহত হয়। লীজধারী আবদুল গোরফান বলেন, সরকার ২০০২ সালে আমাদের তিনজনের মধ্যে ভূমিহীন হিসেবে ৯৯ বছরের জন্য জমিটি বন্দোবস্ত দেয়। সে হিসেবে আমরা জমির ভোগ দখল করে আসছি।

আমি জমিটি হালচাষ দিয়ে ধানের চারা রোপন করতে গেলে আমাদের উপর হামলা করে। এতে আমাদের পক্ষের নারী-পুরুষসহ ৫ জন আহত হয়।